মামলা দিয়ে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সুলতান

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ওই ব্যবসায়ী বণিক সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের মৃত মোনাচ্ছের পঞ্চায়েতের ছেলে সুলতান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের চারাহাটার ব্রিজ সংলগ্ন ভাড়া দোকানে মুদি ব্যবসা করে আসছেন। ওই দোকানের ক্রেতা হিসেবে পরিচয় ঘটে শহরের পূর্ব কলেজ রোডের দুলাল হাওলাদারের স্ত্রী কুলসুম বেগমের। পরিচয়ের পর গত তিন বছরে বিভিন্ন সময় কুলসুম দোকান থেকে ৭২ হাজার টাকার মালপত্র বাকিতে ক্রয় করেন। এক পর্যায়ে ওই নারী পৌর শহরে ব্যবসা করার জন্য সুলতানের কাছে টাকা ধার চায়। সুলতানের কাছে টাকা না থাকায় তাকে জামিন রেখে লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেক এবং লিখিত দিয়ে ১৩-১৪ জনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ঋণ নেয়। দীর্ঘদিন টাকা পরিশোধ না করায় পাওনাদারদের তাগিদে ওই নারীর কাছে সুলতান টাকা চাইলে ঘোরাতে থাকে। তিনি গত ১৬ নভেম্বর বণিক সমিতি বরাবর অভিযোগ দেন। এ নিয়ে বণিক সমিতিতে সালিশ বৈঠকও হয়।

গত ১৮ জানুয়ারি কুলসুম আদালতে সুলতানসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ নভেম্বর দুপুরে সুলতানসহ ৮-১০ জন তার ঘরে প্রবেশ করে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হলে ওই ব্যবসায়ী ও তারা জোরপূর্বক ৭-৮টি অলিখিত চেক ও ২০-২১টি অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। এ সময় আলমারি থেকে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, ওই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। টাকা পরিশোধ না করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে কুলসুম।

ওই নারীর মামলার সাক্ষী রানী বেগম জানান, তাকে না জানিয়ে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে পাশাপাশি থাকা অবস্থায় জেনেছেন ওই নারীর কাছে ব্যবসায়ী সুলতান টাকা পান।

এ ব্যাপারে কুলসুম বেগম বলেন, একজন ক্রেতা হিসেবেই সুলতানের সঙ্গে তার পরিচয়। তার স্বামী ব্যবসার প্রয়োজনে সুলতানের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ধার নেন। এ জন্য তার (সুলতান) কাছে আটটি চেক ও স্ট্যাম্প জমা দেন। ওই টাকা সম্প্রতি পরিশোধ করলেও চেক ও স্প্যাম্প ফেরত দেননি। তিনি বাঁচার জন্য এ মামলাটি করেন।

কুলসুম বেগমের অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ী তাকে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি আ জ ম মাসুদুজ্জামান মিলু বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)