কর্তৃপক্ষের ভুলে ভোগান্তি

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আনোয়ার হোসেন আনা, ওসমানীনগর (সিলেট)

মো. সাইয়ুম আহমদের জাতীয় পরিচয়পত্রে ইংরেজী বানানে 'সাইয়ুম' শব্দটি ভুল লেখা হয়েছে সমকাল

সিলেটের ওসমানীনগরের জয়া রানী চক্রবর্তীর নাম জাতীয় পরিচয়পত্রে বাংলায় সঠিকভাবে লিখা হলেও ইংরেজিতে‘JOYA RANI CHAK’ লেখা হয়েছে। একই এলাকার হাজি মো. মুকিদ মিয়ার নাম ইংরেজিতে হাজী বানানটি ্‘HAJJI’ লেখা হয়েছে। ইংরেজি প্রথম অংশে ভুলের পাশাপাশি মো. নেই। তামান্না খানম ডলির নাম ইংরেজিতে সঠিক থাকলেও TAMANNA KHANOM DOLY’ বাংলায় লেখা হয়েছে 'তাম্মান্না খানম ডলি'। মাওলানা মো. আবদুল মতিন গজনভীর নামের ইংরেজি অংশে গজনভী বানান লেখা হয়েছে GHOUZNPVI। ফনিন্দ্র দেবনাথের নাম ইংরেজিতে লেখা হয়েছে ÔFANIDR DEBNATH’। এরকম অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল রয়েছে উপজেলার জাতীয় পরিচয়পত্রধারীদের। যে ভুলের কারণে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। দৃশ্যমান ভুলগুলো কর্তৃপক্ষের হলেও মাশুল দিতে হচ্ছে কার্ডধারীদের। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ভুলগুলো কোনোরকম ফি ছাড়া সহজভাবে সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

বিদ্যালয়ে ভর্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বয়স্ক ভাতাসহ প্রায় সবধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু ওসমানীনগরের অধিকাংশ পরিচয়পত্রধারীর পরিচয়পত্রে বিভিন্ন তথ্যে কোথাও না কোথাও ভুল রয়েছে। টাইপজনিত কারণে এবং বানানের দক্ষতা না থাকায় অধিকাংশ ভুল হয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। অনেকে আবেদন করে ভুল সংশোধন করলেও গরিব ও অক্ষরজ্ঞানহীন জনসাধারণ বুঝতে না পারায় এবং ফি দিতে হবে বলে সংশোধন করছেন না। যার কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

পরিচয়পত্রধারী, জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে মুসলমান ব্যক্তির নামের শুরুতে বাংলায় সংক্ষেপে 'মো.', 'মোছা.' ইংরেজিতে 'ÔMD’ ‘MST’ লেখা হয়েছে। সাধারণত কোনো শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ লেখার পর ইংরেজির ক্ষেত্রে ডট বা ফুলস্টপ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে তা ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া অনেকের নামের শেষে 'মিয়া' বানান ইংরেজিতে কোথাও MIA’ আবার কোথাও 'MIAH' লেখা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নামের শেষে দাশ, দে, দেব, চক্রবর্তী, দত্তসহ বিভিন্ন টাইটেলের ইংরেজি বানানে ভুল রয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগরে এক লাখ ৪৬ হাজার ৯৬৬ জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে ২০১৯ সালে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভোটার, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের ১০ হাজার ৪৪৯টি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য ভোটাররা কাগজে প্রিন্ট করা জাতীয় পরিচয়পত্রধারী। গত বছরের এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ছোটখাটো ভুলের জন্য ৬৮২টি ভুল সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।

গোয়ালাবাজার সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের লেকচারার দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, ইংরেজি বানানের ক্ষেত্রে কোনো শব্দ সংক্ষিপ্তভাবে লিখতে হলে শেষে ফুলস্টপ বা ডট ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম লেখার ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নামের শেষে টাইটেলের ইংরেজি বানানে ভিন্নতা রয়েছে। এ ধরনের ভুলের ভুক্তভোগী তিনি নিজেও।

সিলেট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আফজাল আহম্মেদ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে চাইলে প্রথমবার আবেদনের জন্য ২০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী যতবার আবেদন করবেন প্রত্যেকবার ৪০০ টাকা ফি দিতে হবে। তিনি বলেন, আরও কিছু তথ্য রয়েছে যেগুলো পরিচয়পত্রে লেখা থাকে না। সেগুলোও সংশোধন করা যায়। সে ক্ষেত্রে

প্রথমবার ১০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা এবং পরে প্রতিবার ৩০০ টাকা ফি দিতে হবে। এই ফির সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)