মিঠাপুকুর

ইয়াবা কারবারির দাপটে অবরুদ্ধ এক পরিবার

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

ছবি: ফাইল

মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়ামাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর আকন্দপাড়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মহসিন হোসেন ওরফে বাহাদুর। হত্যা, ডাকাতিসহ ডজনখানেক মামলার আসামি তিনি। পুলিশের তালিকায় পলাতক হলেও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান। এলাকায় গড়ে তুলেছেন ইয়াবা কারবারি সিন্ডিকেট। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে যমুনেশ্বরী নদীবেষ্টিত বালুয়ামাসমিপুর ইউনিয়ন। মিলনপুর ও বড়বালা ইউনিয়নে যাওয়ার মূল সড়ক বালুয়ামাসিমপুরের বুক চিরে। এই তিন ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হামিদপুর এলাকায় ডাকাত আতঙ্কে ছিলেন। সড়কের হামিদপুরে ফাঁকা রাস্তায় প্রায়ই ঘটত ডাকাতির ঘটনা। গত কয়েক বছরে ৩টি হত্যাকাণ্ড ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেখানে। প্রতিটি ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মহসিন হোসেন ওরফে বাহাদুর।

চার বছর আগে হামিদপুর গ্রামে রাতে ডাকাতের কবলে পড়েন পল্লি চিকিৎসক বাবুল মিয়া। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘটনাস্থলেই তাকে খুন করে ডাকাত দল। পুলিশি তদন্তে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মহসিন হোসেন ওরফে বাহাদুরের নাম বেরিয়ে আসে। জেল হাজতে ছিলেন কিছুদিন। পরে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন।

বর্তমানে পুলিশি তৎপরতা ও রাস্তায় পাহারা বসার কারণে হামিদপুরে ডাকাতির ঘটনা কমে গেলেও জমজমাট হয়েছে বাহাদুরের ইয়াবা ব্যবসা। হামিদপুর আকন্দপাড়ায় বসে ইয়াবা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ব্যবসা দেখভাল করেন তার স্ত্রী রেহেনা বেগম ওরফে সোহাগী। বছরখানেক আগে ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন বাহাদুর। ছাড়া পেয়ে আবারও ফিরেছেন অপরাধ জগতে।

শঠিবাড়ী-বালুয়া সড়কের পাশে হামিদপুর আকন্দপাড়া গ্রামের মসজিদ লাগোয়া দক্ষিণের বাড়িটি মহসিন হোসেন ওরফে বাহাদুরের। পাড়াটিতে প্রায় ৫০ পরিবারের বসবাস। সরেজমিন দেখা গেছে, মহসিন হোসেন ওরফে বাহাদুরের বাড়িতে প্রতিনিয়ত অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ প্রতিবেশীরা। কিন্তু অনেকে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না। স্থানীয়দের মধ্যে হাসান মিয়া, তোজাম্মেল হোসেন, স্বপন মিয়া, রাজ্জাক মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন ও আবু তালেব তার ইয়াবা ব্যবসার অন্যতম সহযোগী। তারা এলাকায় গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, বাহাদুর চিহ্নিত সন্ত্রাসী। কেউ তার বিরুদ্ধে গেলে তাকে খুন হতে হবে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সে টাকা দিয়ে স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল যুবক ও নারীদের হাতে রাখে। বাকিরা ভয়ে মুখ খোলার সাহস পান না।

গত শনিবার গ্রামের মাহমুদুল হাসানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বাহাদুর ও তার লোকজন। এতে মাহমুদুল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবী আক্তার আহত হলেও ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। পরে সন্ধ্যায় পালিয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেন মাহমুদুল। কিন্তু সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি যেতে পারেননি তিনি। পরে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ রাত ৩টার দিকে মাহমুদুল ও তার স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে আসেন।

মাহমুদুল হাসান মোবাইল ফোনে বলেন, হামলাকারীদের ভয়ে এখনও বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। বাড়িতে পরিবার নিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।

অভিযুক্ত মহসিন ওরফে বাহাদুর বলেন, আগে অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম। কিন্তু এখন আর ওসব করি না। মাহমুদুলের বাড়িতে হামলা ও মারধরের বিষয়ে বলেন, মাহমুদুল অপরাধ করেছে, তাই তাকে শাসন করা হয়েছে।

বালুয়ামাসিমপুর ইউনিয়নের বিট পুুলিশিং কর্মকর্তা মিঠাপুকুর থানার এসআই এরশাদ আলী বলেন, বাড়িতে হামলা ও পরিবারের লোকজনকে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ওই পরিবারকে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারী বাহাদুর একজন চিহ্নিত অপরাধী। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মিঠাপুকুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান বলেন, বাহাদুর মোস্ট ওয়ান্টেড। থানার পশ্চিম এলাকার সড়কে এক সময় তার নেতৃত্বে চুরি, ডাকাতি, খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চলত। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)