'হামার দুর্ভোগ কায় দেখে'

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মেরিনা লাভলী, রংপুর

নদীতে ধসে যাওয়ার ৩ মাস পরও মেরামত হয়নি হোসেন নগর ব্রিজের সংযোগ সড়ক সমকাল

বন্যার সময় রংপুর হোসেন নগর ব্রিজের সংযোগ সড়ক নদীতে ধসে যায়। এরপর তিন মাসেও মেরামত হয়নি সেই সংযোগ সড়ক। এতে দুর্ভোগে রয়েছেন ১০ গ্রামের মানুষ। পণ্য পরিবহনসহ যাতায়াতে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে তাদের। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে।

২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রংপুরে শতবছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাত হয়। এতে রংপুর নগরীর প্রায় সব ওয়ার্ডসহ গোটা জেলার নদনদী ও নিচু এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়। পানির তোড়ে অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে হোসেন নগর ব্রিজের পায়রাবন্দ এলাকার অংশে সংযোগ সড়কের বড় অংশ পানির তোড়ে ঘাঘট নদীতে ধসে যায়। দুই কোটি ৬৮ লাখ সাড়ে ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে এ ব্রিজটি ২০১৪ সালে নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ, দেবীপুর, খোর্দ্দ মুরাদপুর, জাফরপুর, সদরপুর, ভাংনী ও রংপুর নগরীর হোসেন নগর, আজিজুল্ল্যাহ্‌ রাজুখাঁ, মেকুড়াসহ ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্নিষ্ট দপ্তর এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসী বাঁশের মাচা তৈরি করে কোনো রকমে হাঁটাচলার ব্যবস্থা করেন। তবে ওই ব্রিজ দিয়ে পায়রাবন্দে উৎপাদিত ফসল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকদের ১৫ কিলোমিটার ঘুরে রংপুর নগরী হয়ে যেতে হচ্ছে। আর এতে কৃষকদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

পায়রাবন্দ এলাকার আব্দুল কুদ্দুস জানান, বন্যার সময় ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। আমরা চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন বাজেট হলে মেরামত করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ব্রিজ মেরামত হয়নি। তিনি জানান, এখনই সড়ক সংস্কার না করলে আগামী বর্ষায় পুরো ব্রিজই নদীতে ভেঙে যাবে।

স্থানীয় কৃষক মোফাজ্জল বলেন, 'ধান, শাকসবজি শহরোত নিয়া যাবার পারি না। ব্রিজ ভাংগি গেইছে, আস্তাতেও (রাস্তা) বড় বড় খাইল হয়া গেইছে। এরপর থ্যাকি আর কায়ো আস্তা আর ব্রিজ ঠিক করার কোনো ব্যবস্থা নেয় নাই। এ্যালা ১৪-১৫ কিলোমিটার ঘুরি ক্ষ্যাতের শাকসবজি শহরোত নিয়া যাবার লাগে। হামার দুর্ভোগ আর কায় দেখে।'

হোসেন নগরের আমিনা খাতুন (২৬) বলেন, চার বছরের বাচ্চাকে নিয়ে পায়রাবন্দে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছি। হোসেন নগরের ব্রিজ পর্যন্ত অটোরিকশায় এলাম। এরপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের ওপারে যেতে হলো। এখন আরও দুই কিলোমিটার হেঁটে পায়রাবন্দ বাজারে যেতে হবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক বলেন,

সেতু সংস্কারের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)