সা ক্ষা ৎ কা র

ই-হোম লোনে যাচ্ছে বিএইচবিএফসি

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

অরুন কুমার চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), বিএইচবিএফসি

সমকাল :বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ঋণ পেতে আবেদনের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু বলুন?

অরুন কুমার :দুই ধাপে আবেদন নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের আবেদনে জমির মূল কাগজপত্র এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের নকশা অনুমোদনের বিষয়টি দেখা হয়। এ দুটি বিষয় ঠিক থাকলে ঋণ পাওয়ার প্রাথমিক বাধা তিনি পেরুলেন। এরপর প্রতি লাখে ছয়শ' টাকা অফেরতযোগ্য ফিসহ আবেদন করতে হয়। এর ৫০ শতাংশ আবেদনের সঙ্গে দিতে হয়। বাকি অর্ধেক বিতরণের সময় দিতে হয়। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ ফি লাগে না। আবাসন খাতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নকশার বিষয়টি অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান দেখে না। এটিকে অনেকে অহেতুক হয়রানি হিসেবে দেখেন। তবে বাস্তবতা হলো, নকশার বিষয়টি দেখে ঋণ দেওয়া সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

সমকাল :ঋণ পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কত দিনে শেষ হয়?

অরুন কুমার :হাউস বিল্ডিংয়ের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করলে ২১ দিনের মধ্যে ঋণ পাওয়া সম্ভব। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো কাগজপত্রের স্বল্পতা থাকে। এগুলো দিতে যত দেরি হয়, ঋণ পেতেও তত বিলম্ব ঘটে। আগামীতে আর এ সমস্যা থাকবে না। আমরা ই-হোম লোন পদ্ধতি চালু করছি। গত সপ্তাহে পরীক্ষামূলক ঢাকা শহরে এটি শুরু হয়েছে। শিগগির সব এলাকায় সবার জন্য এটি চালু হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও এটি হবে বড় বিবর্তন। এভাবে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্সকে পেপারলেস প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ঋণ আবেদন থেকে শুরু করে দলিল ফেরত পর্যন্ত সবই হবে অনলাইনে। শুধু একবার সশরীরে জামানতি সম্পত্তির দলিল অফিসে এসে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৌশলী, আইন ও ঋণ কর্মকর্তা, জোনাল ম্যানেজার, প্রধান কার্যালয় সব পর্যায়ে ফাইল প্রক্রিয়াকরণের একটি সময় থাকছে। বরাদ্দ করা সময়ের মধ্যে যে পর্যায় থেকে ফাইল আসবে না, তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

সমকাল :ই-হোম লোন পদ্ধতি চালুর দিকে কেন গেলন?

অরুন কুমার :স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুততার সঙ্গে ঋণ ছাড়ের জন্য এটি করা হয়েছে। মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, কাউকে অহেতুক ঘুরতে না হয়, সে জন্য এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ঘরে বসে একজন গ্রাহক নিজেও তার ফাইল কতদূর এগোল দেখতে পারবেন। সেখানে কোনো ঘাটতি থাকলে গ্রাহক অনলাইনেই জবাব দিতে পারবেন। এভাবে একটি পেপারলেস অফিস ও সেবা সহজীকরণের উন্নত ভার্সন হচ্ছে ই-হোম লোন পদ্ধতি। এভাবে প্রতিনিয়ত সেবার মান বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সমকাল :গ্রাম শহরে আপনাদের ঋণ অনুপাত নিয়ে কিছু বলুন?

অরুন কুমার :বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলিটন এলাকায় বেশি আবাসন ঋণ দেয়। হাউস বিল্ডিং এ ক্ষেত্রে বেশি গ্রামমুখী। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত আমরা ঋণ দিয়ে থাকি। ২০০৮-০৯ সালেও বিএইচবিএফসির মোট ঋণের ৭৯ শতাংশ ছিল ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসে এ চিত্র উল্টে গেছে, মোট ঋণের ২৩ শতাংশ ঢাকা-চট্টগ্রামে দেওয়া হয়েছে। সবার জন্য আবাসন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য গ্রামীণ এলাকায় বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে গ্রাহকের ২০ শতাংশ জোগানের বিপরীতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। তবে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এক তলা একটি বাড়ির জন্য সাড়ে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত শূন্য ইক্যুইটিতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নূ্যনতম ৪ শতক জমি থাকতে হবে। পাশাপাশি মাসিক কিস্তি পরিশোধের মতো আয় থাকতে হবে। ২০ বছর মেয়াদি একটি ঋণে প্রতি লাখে মাসিক ৭৭৬ টাকা কিস্তি দিতে হয়। এ ছাড়া আয়তন অনুসারে বাড়ি নির্মাণে সর্বোচ্চ দুই কোটি এবং ফ্ল্যাট কেনায় সর্বোচ্চ এক কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৫, ১০, ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হিডেন চার্জ লাগে না। আরলি সেটেলমেন্টেও কোনো চার্জ দিতে হয় না।

সমকাল :ঋণ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন অনৈতিকভাবে অর্থ দাবির অভিযোগ শোনা যায়। আপনি কী বলবেন?

অরুন কুমার :বিষয়টি আমাদের কানে আসে না, তা নয়। তবে এ ধরনের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, আবেদনকারীর হয়তো কোনো কাগজের স্বল্পতা আছে কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষ তিন ফুট জায়গা ছাড়তে বলেছে। গ্রাহক হয়তো দুই ফুট ছেড়েছেন। তখন আপত্তি তুলে বলা হলো, যথাযথ নকশার আলোকে না হওয়ায় ঋণ ছাড় হবে না। তখন গ্রাহক চান যেভাবেই হোক ওই কর্মকর্তাকে কনভিন্স করতে। এ ক্ষেত্রে ২০ প্রকৌশলীর মধ্যে দু-একজন হয়তো তার টোপ গিলতে পারেন। তবে সব কাগজ ঠিক থাকার পরও কোনো অভিযোগ এসেছে, এ রকম কিন্তু পাওয়া যায় না।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওবায়দুল্লাহ রনি

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)