পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

শোকজ নোটিশ বদলে 'জনস্বার্থে' বদলি

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তা শাস্তির বদলে পুরস্কৃত হলেন। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী শৃঙ্খলাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। ওই শোকজের পরদিনই আবার তাদের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। শোকজ নোটিশ বদলে হয়ে যায় 'জনস্বার্থে' বদলির আদেশ!

গত ২ ফেব্রুয়ারি উপসচিব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে ওই চার কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি ওই উপসচিবের স্বাক্ষরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাদের জনস্বার্থে বদলির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এই কর্মকর্তারা হলেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোজাম্মেল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের সহকারী পরিচালক (স্থানীয় সংগ্রহ) মোহাম্মদ আবুল কালাম, মির্জাপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তার পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী পরিচালক শহীদুল ইসলাম এবং মুন্সীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছেরাজ আহমদ।

শোকজ নোটিশে বলা হয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের বিসিএস (পরিবার পরিকল্পনা) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে দ্বিস্তর বিশিষ্ট পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার গঠনের জন্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিবার পরিকল্পনা) গঠন ও ক্যাডার আদেশ, ২০২০ সংশোধনের বিষয়ের খসড়াটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের অনুমোদনের পর ভেটিংয়ের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়। কিন্তু এই চার কর্মকর্তা প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগের সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে ভুল তথ্য দেন। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে দ্বিস্তর বিশিষ্ট ক্যাডার গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া মন্ত্রণালয়ের চলমান একটি কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা 'সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯' এবং 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮' এর পরিপন্থি। এ অবস্থায় এই চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এই শোকজ নোটিশের পরদিন একই উপসচিব স্বাক্ষরিত ওই চার কর্মকর্তাকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এ প্রজ্ঞাপনে মোজাম্মেল হককে মাগুরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), মোহাম্মদ আবুল কালামকে বাগেরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা), শহীদুল ইসলামকে পিরোজপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) এবং ছেরাজ আহমদকে ভোলার মনপুরা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসচিব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন সমকালকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রশাসনিক স্বার্থে তাদের বদলি করা হয়েছে। কারণ তারা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আবার পদোন্নতি পেয়েও নিচের পদে কাজ করছিলেন। এসব বিষয় সমন্বয়ের জন্য তাদের অন্যত্র বদলি করা হয়।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com