কাতারে বাংলাদেশিসহ ৬৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল ডেস্ক

দশ বছর আগে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পায় কাতার। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে দেশটি। আর স্টেডিয়াম নির্মাণসহ বিশ্বকাপের সামগ্রিক প্রস্তুতিতে দশ বছরে সেখানে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত সাড়ে ছয় হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ১২ জন করে প্রবাসী শ্রমিক মারা গেছেন। এর আগে দেশটির বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব দখলের প্রমাণ মেলে।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা সরকারের সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, ২০১০-২০২০ পর্যন্ত এই চার দেশের পাঁচ হাজার ৯২৭ জন শ্রমিক মারা গেছেন। এর মধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ দুই হাজার ৭১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালের এক হাজার ৬৪১ এবং বাংলাদেশের এক হাজার ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ৫৫৭ জন শ্রমিকের মৃত্যুর কথা জানা যায়। পাকিস্তান সরকার থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কাতারে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে পাকিস্তানের শ্রমিক মারা গেছেন অন্তত ৮২৪ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। কারণ কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতির জন্য ফিলিপাইন ও কেনিয়ার অনেক শ্রমিক নিযুক্ত আছেন। তবে তাদের তথ্য ঠিকমতো পাওয়া যায়নি।

কাতার তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাতটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে। বিমানবন্দর, রাস্তাঘাট, হোটেলসহ কাজ চলছে দেশটির বড় বড় প্রকল্পের। এগুলোতে কাজ করতে গিয়েই মারা গেছেন শ্রমিকরা। তবে কে, কোথায় কাজ করতে গিয়ে কীভাবে মারা গেছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এমনকি অনেকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে করতে দেওয়া হয়নি তাদের ময়নাতদন্তও।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত ভারতীয় শ্রমিকদের মধ্যে ৮০ শতাংশের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে কাতারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নেপালের মৃত শ্রমিকদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে বলা হয়। তাদের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, হঠাৎ হৃদরোগ এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া। এ ছাড়া ভারত ও নেপালের যথাক্রমে ১০ ও ১৬ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা, ৬ ও ১০ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা ফেয়ারস্কোয়ার প্রজেক্টসের পরিচালক নিক ম্যাকগিহান জানান, ২০১১ সাল থেকে কাতারে মারা যাওয়া প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকাংশই দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পর সেখানে গেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গালফ রিসার্চার মে রামানস জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনোকিছুই সেভাবে পরিস্কার করা হয়নি। এ ছাড়া কাতার সরকারের প্রতি নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মান বাড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গালফ রিসার্চার হিবা জায়াদিন বলেন, সব অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে ময়নাতদন্তের বিষয়ে কাতার সরকারকে আইন সংশোধনের জন্য বলা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মৃতদের সনদে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ থাকার বিষয়েও বলা হয়েছে।

কাতারের বিশ্বকাপ প্রকল্প নিয়ে ফিফার গভর্নিং কাউন্সিলের মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, ফিফা সবসময় তাদের প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিকদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এ ছাড়া বড় প্রকল্পের নির্মাণকাজের সঙ্গে তুলনা করলে কাতারে ফিফার এই প্রকল্পে মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কম। তবে তারা তাদের বক্তব্যের কোনো প্রমাণ হাজির করেনি।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)