লোকসান বাড়ছে পিডিবির

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

হাসনাইন ইমতিয়াজ

বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) লোকসান বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রথম ছয় মাসে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে চার

হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) পিডিবির আর্থিক ক্ষতির

পরিমাণ ছিল আট হাজার ১৭ কোটি টাকা। চলতি বছর এ লোকসানের পরিমাণ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা বিদ্যুৎ খাতের সংশ্নিষ্টদের।

সরকারি কেন্দ্রের পাশাপাশি বেসরকারি ভাড়াভিত্তিক, দ্রুত ভাড়াভিত্তিক, আইপিপি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনে পিডিবি। এ ছাড়া ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

মার্কিন ডলারের তুলনায় বাংলাদেশি টাকার অবমূল্যায়ন এবং করোনা সংকটের মধ্যে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে বলে গত ১৯ জানুয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো পিডিবির এক চিঠিতে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতেও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে দাম না বাড়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ জ্বালানি ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে সরকার এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে রেশনিং করা হচ্ছে। এ কারণে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বেশি করে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হয় পিডিবি। এতে লোকসান বেড়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২৮৪ কোটি ৭৫ লাখ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ কিনেছে। এ বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট পাঁচ টাকা ১২ পয়সায় কিনে দুই টাকা ৪৯ পয়সায় বিক্রি করেছে পিডিবি।

পিডিবির লোকসানের একটা বড় কারণ বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি পেমেন্ট (বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও যে ভাড়া দিতে হয় সরকারকে)। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উদ্বৃত্ত হলেও সরকার বেশি দামে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনা অব্যাহত রেখেছে। এর ফলেও পিডিবির লোকসান বেড়েছে বলে মন্তব্য করছেন সংশ্নিষ্টরা।

পিডিবি সম্প্রতি দুই হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা পেয়েছে অর্থ বিভাগ থেকে ২০২০ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুতের বাড়তি

বিল পরিশোধের জন্য। সংস্থাটি গত

বছরের অক্টোবর-নভেম্বরের বিদ্যুৎ কেনাবেচার লোকসান সমন্বয় করতে এক হাজার ৪২৭ কোটি টাকা চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে।

বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে পিডিবি আশা প্রকাশ করেছে, পারমাণবিক ও কয়লাভিত্তিক বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমবে। সরকার আশা করছে, মার্চ থেকে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম স্বাভাবিক হবে। এরপর মার্চ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তখন বেশি গ্যাস দেওয়া সম্ভব হবে। এতে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বেশি দামের বিদ্যুৎ কম কিনতে হবে। ফলে লোকসান কমবে। বিদ্যুৎ বিভাগ আরও আশা করছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমার সঙ্গে সঙ্গে শিল্প উৎপাদন ফের শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এতে বিক্রি বাড়বে, লোকসান কমবে।

আসন্ন সেচ ও শুস্ক মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াট, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০০ মেগাওয়াট বেশি। গত বছর শুস্ক ও সেচ

মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১১ হাজার

৯৭৭ মেগাওয়াট।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)