দাঁড়াতে পারছে না বিরোধী দল

২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ । ০০:০০

অমরেশ রায় ও কামরুল হাসান

জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিক একটি বিরোধী দল রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা সেটিকে সত্যিকারের বিরোধী দল হিসেবে চিহ্নিত করেন না। বিএনপিকে 'মাঠের বিরোধী দল' বলে উল্লেখ করলেও তৎপরতায় সেটিকেও বেশ দুর্বল বলে মনে করছেন তারা। তাদের ভাষ্য, কিছু সংবাদ সম্মেলনের বাইরে মাঠে-ময়দানে খুব একটা কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না দলটির।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকেই শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, সরকারও চায় দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠুক। গণতন্ত্রের স্বার্থে শক্তিশালী বিরোধী দল নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্যই দরকার।

বিশ্নেষকরা বলছেন, গত এক যুগের নির্বাচনী চিত্রের দিকে তাকালেও দেশে বিরোধী দল ক্রমে মিইয়ে যাওয়ার চিত্রই পাওয়া যায়। ২০১৪ সালের পর থেকে এ পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রকটভাবে সামনে এসেছে। কোনো বিরোধী দল দাঁড়াতেই পারছে না।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে ১৪০টি আসনে। আওয়ামী লীগ পায় ৮৮ আসন। জাতীয় পার্টি ৩৫ এবং জামায়াতে ইসলামী জয় পায় ১৮ আসনে। কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসন পায়নি। পরে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ওই বছরের ২০ মার্চ।

৮৮ আসন নিয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ। পরের পাঁচ বছর সংসদের ভেতরে-বাইরে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে দলটি। পরে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে ১৪৬ আসনে। ৩২ আসন পাওয়া জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি। ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা।

১১৬ আসন নিয়ে বিএনপি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখে পরের পাঁচ বছর। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বিএনপি একাই জয় পায় ১৯৩ আসনে। আওয়ামী লীগ ৬২ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়।

এই তিন নির্বাচনে সংসদীয় আসনে জয়লাভের সংখ্যাতেও বিরোধী দলের শক্তিশালী অবস্থানের চিত্র দেখা যায়। ২০০৮ সালের পর থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পায় ২৬৩ আসনে। আওয়ামী লীগের একক আসন সংখ্যা ২৩০। বিএনপির চারদলীয় জোট পায় ৩৩ আসন; বিএনপি এককভাবে ৩০টি।

পরবর্তী সংসদে বিরোধী দলের অস্তিত্ব হয়ে ওঠে 'নামকাওয়াস্তে'। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই বলে দাবি তোলে। পরে বিএনপিসহ অনেক দল ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়

ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপি অংশ নেয়। এতে দলটি মাত্র ছয়টি আসনে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ এককভাবে পায় ২৫৭ আসন। সরকারের সঙ্গেই থাকা জাতীয় পার্টি ২২ আসন নিয়ে হয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্নেষকরা এ জন্য প্রধানত নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়াকে দায়ী করছেন। পাশাপাশি তারা বলছেন, সরকারের অতিমাত্রায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরতা, বিরোধীদের নিপীড়ন, মামলা, বাকস্বাধীনতার অভাবে শক্তিশালী কোনো রাজনীতিই গড়ে উঠছে না।

নির্বাচন নিয়ে সংকট :বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের বিশাল জয়ের পরও বিরোধী দলের অনুপস্থিতি সেভাবে বোঝা যায়নি। কেননা, ওই নির্বাচনে বিএনপি ৩০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছিল। সে সময় সংসদ ও রাজপথে বিএনপি তথা বিরোধী দলের অস্তিত্ব কিছুটা হলেও বোঝা যাচ্ছিল।

২০১২ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা ভোটে ১৫৩ জন এমপি নির্বাচিত হন। পরে আন্দোলনে যায় বিএনপি। প্রায় তিন মাসের ওই আন্দোলনে জ্বালাও-পোড়াওয়ের অনেক অভিযোগ রয়েছে দলটির বিরুদ্ধে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলো থেকে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৯ ডিসেম্বর রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী রাজপথের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকেন তারা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সমকালকে বলেন, বর্তমানে দেশে নির্বাচনী সংকটের জন্য প্রধানত দায়ী ক্ষমতাসীন সরকার। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, তা বাতিলের মধ্য দিয়ে মূলত এই সংকটের সৃষ্টি। এর জন্য সরকার ও বিচার বিভাগ যেমন দায়ী, তেমনি বর্তমান নির্বাচন কমিশনও দায়ী।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থী মানেই বিজয়ী- এমন প্রবণতা চলছে। কোনো নির্বাচনই আর সুষ্ঠু হচ্ছে না।

সংসদে আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের একই মত। তিনি বলেন, সরকার পেশিশক্তি, কালো টাকা আর প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে কলুষিত করছে নির্বাচন ব্যবস্থা। একটি দলের প্রার্থীরাই নির্বাচনে জিতছেন। তাই রাজনীতির মাঠে অন্য দলগুলোর টিকে থাকাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠবে কীভাবে?

স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ আধিপত্য গড়ে উঠছে। বিএনপি ও তার মিত্রদের ভাষ্য, গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এমনকি স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও 'কারচুপি' কিংবা 'ভোট ডাকাতির' মাধ্যমে তাদের হারিয়ে দিয়ে রাজনীতিতে তাদের 'অপাঙ্‌ক্তেয়' করে ফেলা হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরেপক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচনে তারা নিজেদের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে পারেনি। বস্তুত জাতীয় নির্বাচনে যা হয়েছে তা মূলত এক ধরনের অশুভ আঁতাত। নির্বাচন কমিশন, এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মিলে এ আঁতাত তৈরি করেছিল। যে কারণে এই নির্বাচনের কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে।

সুজন সম্পাদক আরও বলেন, নির্বাচন বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক অনাস্থা ও অনীহা সৃষ্টি হয়েছে, যা আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলেছে। রাজনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ নির্বাচনই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা বদলের পন্থা।

প্রশাসন নির্ভরতা :বিএনপিসহ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, সরকার রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলের রাজনীতি মোকাবিলা না করে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে।

বিএনপির ভাষ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে সারাদেশে গায়েবি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সরকার প্রশাসনকে দিয়ে 'মিথ্যা' মামলা দিয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার সমকালকে বলেন, সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আছে। দেশের জনগণকে তারা বিশ্বাস করে না। এজন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, বিগত এক যুগ ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জবরদখল করে সরকার পরিচালনা করছে। তারা দিনের পরিবর্তে রাতের ভোটের ব্যবস্থা চালু করেছে। বর্তমানে পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তারা ভোট জালিয়াতি করছেন।

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি, প্রশাসন ভোট করেছে এবং সে অনুযায়ী ফলাফলও ঘোষণা করেছে। এটার কারণেই মূলত পুরো রাজনীতি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে সবকিছু চলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠতে পারছে না।

বিরোধী দমন :রাজনীতির মাঠে কার্যকর বিরোধী দলের অস্তিত্ব ক্রমশ বিলীন হওয়ার জন্য সরকার ও প্রশাসনের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, এমন দমন-পীড়নের কারণেই তারা রাজপথে শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না। বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দল নয়, অরাজনৈতিক আন্দোলনকেও নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে তারা হাতুড়িপেটা করেছে। সাংবাদিকদের মেরে রক্তাক্ত করেছে। সেই আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করেছে। ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি হেলমেট বাহিনী সেই নির্যাতনে বড় ভূমিকা রাখে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকেও সরকার রক্তাক্ত করেছে। যারাই প্রতিবাদ করেছেন, তাদের কারাগারে যেতে হয়েছে, হামলার শিকার হতে হয়েছে, নয়তো গুমের শিকার হতে হয়েছে। এ অবস্থায় বিরোধী দলের রাজনীতি করাই কঠিন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় গুম-খুন-হত্যা ও নির্যাতন সেলের প্রধান সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৯৮৬টি। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯০৫ জন।

বিএনপির এ নেতার দাবি, এই সময়ে হত্যার শিকার হয়েছেন বিএনপির এক হাজার ৫২৬ জন নেতাকর্মী। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৭৮৮ জন। বিএনপিসহ জোটের নেতাকর্মী গুম হয়েছেন এক হাজার ২০৪ জন। আর শুধু বিএনপির নেতাকর্মী গুম হয়েছেন ৪২৩ জন। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুরুতর জখম ও আহত হয়েছেন ১১ হাজার ১২৬ জন নেতাকর্মী।

বাকস্বাধীনতা :বিরোধী রাজনীতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য সরকার প্রচলিত নিবর্তনমূলক আইনগুলোকে ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন' প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ বিএনপির নেতাদের।

কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এসব আইন বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে বিগত দিনে। দেশে এখন সরকারি দলের নেতাকর্মীদের জন্য এক ধরনের আইন এবং বিরোধী দলের জন্য পৃথক আইন প্রয়োগ হচ্ছে। এর সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ব্যবহার করে শুধু গণমাধ্যম নয়, বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তাহলে কীভাবে বিরোধী রাজনীতি গড়ে উঠবে?

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা করার পরিবেশও নেই। বর্তমান অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই কিছু করা সম্ভব নয়। কারণ দেশে রাজনীতিই নেই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, দেশে তো কোনো রাজনীতিই নেই। বাকস্বাধীনতা নেই, কিছু বলার পরিবেশও নেই। যে জিনিসটা নেই, সে বিষয়ে কথা বলারও কিছু নেই। থাকলে না হয় কিছু বলা যেত।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার চায় দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠুক। কিন্তু নেতিবাচক ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি, জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সখ্য এবং কেবল বিরোধিতার জন্যই সরকারের উন্নয়নের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলোকে নেতিবাচক রাজনীতি পরিহারের তাগিদও দিয়েছেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যে প্রক্রিয়ায় দেশের বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে তোলার প্রসঙ্গে সরকারি দলের বক্তব্য নিষ্ঠুর পরিহাস ছাড়া আর কিছু নয়। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শুধু বিএনপি নয়, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই কিছু করা সম্ভব নয়। কারও পক্ষেই রাজনীতি করা সম্ভব নয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দল হচ্ছে সরকারেরই অংশ। বিরোধী দল সরকারকে পরিশুদ্ধ করে যাতে সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু এখন সংসদে যারা আছে, তারা বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। তেমনি রাজপথেও বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কিছু করতে পারছে না। এসব থেকে উত্তরণে সরকারকে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিতে হবে।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com