খাসজমিতে হবে 'বীরনিবাস'

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২১ । ০৩:০৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

ভিটেমাটিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাসজমিতে আবাসনের (বীরনিবাস) ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন যাতে প্রকল্পের অর্থ দ্রুত ছাড় করতে পারে, সেই ব্যবস্থা রাখারও কথা বলেছেন তিনি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই 'বীরনিবাস' তৈরি করতে মঙ্গলবার একনেকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ 'বীরনিবাস' উপহার দেওয়া হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এতে সভাপতিত্ব করেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন তিনি। শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে এ বৈঠক হয়।

একনেকে মোট ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে পাঁচ হাজার ১৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৪২ কোটি এবং প্রকল্প সহায়তা খাত থেকে ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার জোগান দেওয়া হবে।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্নিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনা এবং অনুমোদিত প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশিদ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রথমে ১৪ হাজার বীরনিবাসের প্রস্তাব ছিল। চূড়ান্ত পর্যায়ে ৩০ হাজার বীরনিবাস নির্মাণের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় সব মুক্তিযোদ্ধারই ভিটেমাটি আছে। কিন্তু যাদের একান্তই ভিটেমাটি নেই তাদের জেলা প্রশাসক কিংবা ইউএনওর মাধ্যমে জমির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৩ সালের জুনের পরিবর্তে অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। বাস্তবায়নে অর্থ নিয়ে যাতে কোনো চাপ তৈরি না হয় সেজন্য চলতি অর্থবছর থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। যাতে আগামী চার অর্থবছর মিলেই টাকা ছাড় দেওয়া যায়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- রাজশাহী কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (সংশোধিত), অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ, পিরোজপুরের পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন, শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রথম সংশোধিত প্রকল্প এবং কনস্ট্রাকশন অব নিউ ১৩২/৩৩ কেভি অ্যান্ড ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন আন্ডার ডিপিডিসি দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com