লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২১ । ১৭:২৬ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২১ । ১৭:৫৮

লন্ডন প্রতিনিধি

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করেছে। এ উপলক্ষে ‘চিরন্তন মুজিব’ শীর্ষক এক বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী থেকে শিশু-কিশোরদের পাঠ, ‘বঙ্গবন্ধু ও ব্রিটেন’ বিষয়ে তিন শতাধিক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু-কিশোরের চিত্রাংকন ও ‘জাতির পিতা’ শীর্ষক বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গীকৃত শিশু-কিশোরদের এক বিশেষ সংগীত পরিবেশনা ছিল উদযাপনের মূল আকর্ষণ।

দিবসটি উপলক্ষে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিল্পী আসাদ উল্লাহর আঁকা বঙ্গবন্ধুর একটি পূর্ণ প্রতিকৃতি উন্মোচন করেন এবং মিশনের সিনিয়র কূটনীতিকদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে এই প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক ও কমনওয়েলথ অফিসের প্রতিনিধি, ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ অনেক শিশু-কিশোর স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সব সময় শিশুদের সর্বোত্তম ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন এবং আজ তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি শিশু যাতে সুন্দর ও সম্পূর্ণরূপে বেড়ে উঠতে পারে সে জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।’

হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, ‘দেশ ও বিদেশে প্রতিটি বাংলাদেশি শিশু-কিশোর বঙ্গবন্ধুর প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের আদর্শ সম্পর্কে জানতে ও উজ্জীবিত হতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন’।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাপতি লাকি ইনাম শিশুদের জন্য বঙ্গবন্ধু সুগভীর ভালোবাসা, সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন এবং তা বাস্তবায়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তার উল্লেখ করে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সেসব বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার মিস গায়ত্রি ইসার কাওর বলেন, বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতাবার্ষিকীর প্রতি ভারত যে অপরিসীম গুরুত্ব ও মর্যাদা দিচ্ছে এই সফর তারই স্বাক্ষর বহন করে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক ও কমনওয়েলথ অফিসের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক লিসা বান্দারি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক, স্বাধীন, ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার যে ভিত্তি শেখ মুজিব গড়ে দিয়ে গেছেন, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এবং পরবর্তী সময়েও অশেষ অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’

হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী, যুক্তরাজ্যভিত্তিক এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনের সম্পাদক ডানকান বার্টলেট, বিবিসির সাংবাদিক আশিস রায়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলনের সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বক্তব্য দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শম্পা রেজা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণের লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করেন এবং বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ফাহমিদা নবী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি গান পরিবেশন করেন।

দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে হাইকমিশনার জাতির পিতার ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘১০১’ লেখা একটি কেক কাটেন। এর আগে সকালে দিবসের শুরুতে হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার পর জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com