ভারতের সুবিধার জন্য সরকার পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে: জোনায়েদ সাকি

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২১ । ১৭:৩৩

খুলনা ব্যুরো

জোনায়েদ সাকি- ফাইল ছবি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘ভারতের জন্য যাতে সুবিধা হয় সে জন্য সরকারের ভেতরকার একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার নিজেদের গদি রক্ষার জন্য সব কিছু দিতে প্রস্তুত আছে। এই সরকার জনগণের ভোটের তোয়াক্কা করে না, তারা সব ধরণের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধংস করে দিয়েছে।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘পাটকল-চিনিকলের লোকসানের জন্য শ্রমিকরা দায়ী নয়, দায়ী ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও দুর্নীতি। কিন্তু লোকসানের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের ওপর। পাটকল-চিনিকল বন্ধের পর শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও সরকার ভ্রুক্ষেপ করেনি। অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে দাড়িয়েছে যে, সরকারের পতন ছাড়া ছোট দাবিও আদায় করা সম্ভব নয়।’

শনিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘পাটকল-চিনিকল বিরাষ্ট্রীয়করণ নয়, চাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন। পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এস এ রশীদ। সেমিনারের শুরুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মনোজ দাশ রচিত ‘পাটকল রক্ষা আন্দোলনের যুক্তি-নীতি ও কৌশল’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা আহবায়ক মুনীর চেীধুরী সোহেল। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন রচিত ‘চিনিশিল্প রক্ষায় করণীয়’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু।

বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য আনছার আলী দুলাল, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নজরুল ইসলাম।

খুলনার বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সংবিধান প্রণেতা অ্যাডভোকেট এনায়েত আলী, বিএমএ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম, প্রফেসর জাফর ইমাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মহসীন, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, নাগরিক নেতা এস এম শাহনেওয়াজ আলী, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) খুলনা জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, সাধারণ সম্পাদক গাজী নওশের আলী, নাগরিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, টিইউসি খুলনা জেলা সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, আগুয়ান ৭১ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল্লাহ চৌধুরী, বেলা’র মাহফুজুর রহমান মুকুল, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা সভাপতি কোহিনুর আক্তার কণা, সিপিবি ফুলতলা উপজেলা নেতা গাজী আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন খুলনা  মহানগর সভাপতি আফজাল হোসেন রাজু, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সদস্য ও ইস্টার্ন জুট মিল শ্রমিকনেতা মো. অলিয়ার রহমান, প্লাটিনাম জুট মিল শ্রমিক নেতা মো. নূর ইসলাম, জেজেআই শ্রমিক নেতা শামসেদ আলম শমশের, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি সনিজত মন্ডল, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহবায়ক আল আমিন শেখ প্রমুখ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, পাট চাষ ও পাটশিল্প আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সাথে জড়িত। পাট ও পাটশিল্প বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের সাথে পাটশিল্পের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। পাট পরিবেশবান্ধব। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও লক্ষ্যকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হিসেবে ২৫টি পাটকল বন্ধ করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটশিল্প ধ্বংসের জন্য শাসকগোষ্ঠীর রাজনীতি ও অর্থনীতির ছত্রছায়ায় দেশি-বিদেশি লুটেরা চক্রই দায়ী। পাশাপাশি চিনিকল বন্ধের পায়তারা চলছে। ইতোমধ্যে ছয়টি চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন, লুটেরা শাসকগোষ্ঠীর ভ্রান্তনীতি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতার অভাব, দুর্নীতি, অকেজো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন না করে এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ পাট ও পাটশিল্পের যে অবদান রয়েছে, তা প্রকৃত বিচারে পাট ও পাটশিল্প কোনোভাবেই লোকসানী খাত হতে পারে না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com