সাক্ষাৎকার: রফিকুন নবী

শিল্পীরা বায়ান্ন থেকেই আন্দোলনে যুক্ত ছিল

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২১ । ০২:২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: সিরাজুল ইসলাম আবেদ

বাংলাদেশের খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী ও কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন। রনবী হিসেবে পরিচিত এ শিল্পীর অনবদ্য সৃষ্টি টোকাই। তিনি ঢাকার সরকারি আর্ট কলেজ ও গ্রিসের এথেন্স স্কুল অব ফাইন আর্টের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৪৩ সালে তার জন্ম।

সমকাল: ব্রিটিশ ভারতে আপনার জন্ম। এরপর পাকিস্তান দেখেছেন; বাংলাদেশের ৫০ বছর আপনার দেখা- এ তিনকালে আপনার দৃষ্টিতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির চড়াই-উতরাই ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনও নিশ্চয় আপনার চোখে ধরা পড়েছে?

রফিকুন নবী: ব্রিটিশ আমলে আমি নিতান্তই ছোট। শিশু বয়স; অনেক কিছুই তখন জানতাম না, বুঝতাম না। বাবার সরকারি চাকরির কারণে তখন আমরা মফস্বলে থাকতাম। যেহেতু গ্রাম-গঞ্জে থাকতাম, সেখানে সাহেব-সুবাদের বলতে গেলে দেখিইনি। আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে কয়েক গ্রাম দূরে ছিল নীলকুঠি। সেখানে নাকি ইংরেজরা আসত, থাকত। নীল চাষ না করলে তারা অত্যাচার করত। এসব কথা পরিবারের বড়দের কাছে শুনেছি। সেই নীলকুঠিতে বিশাল একটা কড়াই ছিল; সেটা আরও অনেক পরে ক্লাস নাইন বা টেনে পড়ার সময় প্রথম দেখি। সে সময় ভাবতাম, এই ইংরেজরা এক সময় এখানকার মানুষকে দিয়ে জোর করে নীল চাষ করাত। সেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে মানুষ যখন সংঘবদ্ধ হলো, তখন তারা এ দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য হলো। যাওয়ার সময় আবার দেশটাকে দুই ভাগ করে দিল। লোকমুখে বড়দের কাছে শুনেছিলাম- ভারত ভাগ হয়ে গেল। সে সময় আমাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলাম। তখন ট্রেনে গোয়ালন্দ ঘাট হয়ে আসতে হতো। ঘাটে দেখলাম প্রচুর মানুষ। মাঝে একটা জংশনে গাড়ি বদল করতে হলো। সেখানেও প্রচণ্ড ভিড়। মানুষের ভিড়ে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এত মানুষ কোথা থেকে আসছে! আবার অন্যদিকে যে ট্রেন, সেখানেও প্রচুর মানুষ কোথায় যাচ্ছে! বাবা-মামাদের কাছে জানতে পারি, দেশ ভাগ হওয়ায় অনেক মানুষ ভারত চলে যাচ্ছে। আবার অনেকে ভারত থেকে এ দেশে আসছে। জানলাম, হিন্দু ধর্মাবলম্বী যারা, তারা সব ভারত চলে যাচ্ছে। ভারত বলতে তখন আমি কেবল কলকাতাই বুঝতাম। আর কলকাতা থেকে মুসলমানরা আমাদের দেশে আসছে।

সমকাল: সময়ই বোধ করি আপনাকে ধীরে ধীরে জানিয়েছে?

রফিকুন নবী: আমাদের বাংলা ভাষাকে বদলে দেবে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা হবে না; উর্দু হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। আমি যেহেতু মফস্বলে থাকতাম, সেখানে তখন উর্দু-টুর্দুর কোনো ব্যাপার ছিল না। ভারত থেকে বা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যারা এসেছিল বা আসা-যাওয়া করত, তারা ছিল শহরকেন্দ্রিক। বড় শহর বলতে তো ঢাকা। এর বাইরে কিছু ছোট শহরেও তারা থাকত। সুতরাং আমরা উর্দু জানতামই না। সেই উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করবে, জেনে তো আন্দোলন হলো। সেই আন্দোলনের ব্যাপারটা যখন ঘটে এবং বায়ান্নতে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আসে; ঢাকায় মিছিল-মিটিং মিলিয়ে একটা বিশাল আকার ধারণ করে। তখন ছাত্রদের ওপর গুলি চালালে বরকত, সালাম, রফিক, শফিকসহ অনেকে শহীদ হন। এ খবরটা শুনলাম। তখন গাজীপুরের কালীগঞ্জে ক্লাস ফোরে পড়ি। যতদূর মনে পড়ছে, ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ স্কুল ছুটি দেওয়া হলো। নোটিশে বলা হয়েছিল- আজ ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মিছিলে গুলি হয়েছে, অনেকেই মারা গেছে। অতএব, শহীদদের স্মরণে এবং এই আন্দোলনের জন্য আজকে আমরা ছুটি দিয়ে দিলাম। বাইরে বের হতেই নাইন-টেনের ছেলেরা আমাদের বাইরে যেতে নিষেধ করল। বলল, আমরা এখন মিটিং করব। এর পর স্কুল মাঠে সেদিন ছাত্র-শিক্ষক মিলে একটা মিটিং হলো। সেখানে ঢাকার পুরো ঘটনা শুনলাম। সেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগান দেওয়া হলো। এই হলো আমার ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন দেখা।

সমকাল: অর্থাৎ কালীগঞ্জের স্কুলে যে আন্দোলনের সূচনা দেখেছেন, ঢাকায় এসেও তার ধারাবাহিকতা পেলেন?

রফিকুন নবী: একদম। সেই আন্দোলন ক্রমেই কঠিনভাবে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে। আমাদের স্কুলে কোনো উর্দুভাষী ছিল না। স্কুল এলাকা শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার এ জায়গাগুলো হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় তখন পর্যন্ত স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকের একটা বড় অংশ ছিল হিন্দু। বহুদিন পর্যন্ত এমনটাই ছিল। পরে দেখলাম, আমাদের বন্ধু-বান্ধব অনেকেই আস্তে আস্তে ভারত চলে যাচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা আমার স্কুলজীবনের। এর পর আর্ট কলেজে ভর্তি হলাম। তখন আইয়ুব খান এসে গেছেন। আর্মি দেশ শাসন করছে। মিলিটারি কেন এলো- এসবও ধীরে ধীরে বুঝে গেলাম। এটা যে একটা আগ্রাসন; আমাদের আরও বেশি করে কুক্ষিগত করে রাখা। অত্যাচার-নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন শুরু হলো। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর দেখলাম, এ আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের শিল্পীরাও সম্পৃক্ত।

সমকাল: আমরা জানি, ষাটের দশকে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, এর সামনের সারিতে সব সময় এ দেশের শিল্পীরা ছিলেন। আরও পরিস্কার করে বললে, আর্ট কলেজের ছাত্র-শিক্ষকরা ছিলেন। শিল্পীদের এই যে নিরঙ্কুশ অংশগ্রহণ, তা কীভাবে সম্ভব হয়েছিল?

রফিকুন নবী: ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হলো। বছর না ঘুরতেই জিন্নাহ বললেন- উর্দু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। শুরু হলো রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। তখন থেকেই কিন্তু শিল্পীরা সে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তখন আর্ট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জয়নুল আবেদিন থেকে শুরু করে সিনিয়র শিক্ষকরা- যারা অনেকেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। আর্ট কলেজ বলে কোনো কথা নেই। তখন ছাত্রমাত্রই কিন্তু রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনসহ আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে আমি দেখলাম, শিল্পীরা দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হয়ে তখন থেকেই আন্দোলনে যুক্ত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় মুর্তজা বশীর, আমিনুল ইসলাম, হারুন চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, এমদাদ হোসেন, দ্বীজেন চৌধুরী, দেবদাস চক্রবর্তী- গোপনে পাকিস্তানবিরোধী, উর্দু ভাষাবিরোধী, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পোস্টার আঁকতেন। এসব পোস্টারের কিছু কিছু দেখতাম পাড়ার দেয়ালেও লাগানো হতো। কিছুক্ষণ পরে দেখতাম, ছিঁড়েও ফেলেছে কারা। এক পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিতে হবে; মুসলমান ভাব দিয়ে আমাদের শিল্প-সাহিত্যকে পাকিস্তানি করতে হবে- এ রকম চেষ্টা শুরু হলো। এটাও এক রকম আগ্রাসন। ভাষার ব্যাপারে তখন পশ্চিম পাকিস্তানিরা মোটামুটি দমে নতুনভাবে আমাদের সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করল। মধ্যে ষাটের দশকের দিকে বলা হলো, এদের ভাত খাওয়া ভোলাতে হবে। রুটির দিকে নজর দাও। এসব অদ্ভুত বিষয় আসতে শুরু করল। আমরা এসবের বিরুদ্ধে তখন পোস্টার এঁকেছি। এভাবে পুরো ষাটের দশক আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়েই চলল, যেখানে আর্ট কলেজের ছাত্র-শিক্ষক সবাই যুক্ত ছিলেন। ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, পরে তার সঙ্গে যুক্ত হলো ছাত্রদের ১১ দফা। এই ১৭ দফা নিয়ে আন্দোলন উঠতে উঠতে '৬৯-এ গিয়ে পৌঁছল। এর মধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। '৬৯-এর আন্দোলনে সরকার পরিবর্তন হলো। এর পর ১৯৭০ সালে নির্বাচন হলে যা হওয়ার ছিল তা-ই হলো। আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হলো।

সমকাল: ৭ মার্চ তো ঢাকাতেই ছিলেন। যতদূর জানি, রেসকোর্স ময়দানেও গিয়েছিলেন। সেদিনের অভিজ্ঞতা আপনার কাছে জানতে চাই।

রফিকুন নবী: আর্ট কলেজের একদম গেটের কাছেই তো রেসকোর্স ময়দান। চারধারে রেলিং দেওয়া ছিল। ৭ মার্চ মিটিং শুরুর কিছুটা আগেই সেই রেলিং টপকে আমরা বন্ধু-বান্ধব মিটিংয়ে পৌঁছে যাই। স্টেজের একেবারে কাছে না হলেও মোটামুটি ভালো একটা জায়গায় গিয়ে আমরা অবস্থান নিই। সেখান থেকে মঞ্চ স্পষ্ট দেখা যায়। আমরা দেখলাম, বিভিন্ন দিক থেকে ব্যানার নিয়ে লাখ লাখ মানুষের মিছিলের পর মিছিল আসছে। পুরো রেসকোর্স ময়দান লোকে লোকারণ্য। দু-একটা হেলিকপ্টার আমাদের মাথার ওপর দিয়ে চক্কর দিয়ে গেল। সে সময় হঠাৎ একটা গুজব রটে গেল- পাকিস্তানি সেনারা মিটিংয়ে বোমা ফেলবে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এই কথাটা শুনে কেউ পালায়নি। সবাই যেখানে ছিল, সেখানেই রয়ে গেল। তারপর বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক সেই ভাষণ দিলেন। সেই ভাষণ শুনে মানুষ এত বেশি উদ্দীপ্ত হলো যে, অস্ত্রপাতি পেলে তখনই যেন যুদ্ধে নেমে যায়।

সমকাল: মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি তো ঢাকাতেই রয়ে গেলেন।

রফিকুন নবী: হ্যাঁ, ঢাকাতেই ছিলাম। ৭ মার্চের পর থেকেই আমরা বন্ধু-বান্ধব নানা প্ল্যান-প্রোগ্রাম শুরু করি। ২৫ মার্চের পর তো যুদ্ধ শুরুই হয়ে গেল। আমার কাছের অনেক বন্ধুই মুক্তিযুদ্ধে চলে গেল। আমারও যাওয়ার কথা। ক্যাম্প থেকে এসে যারা আমাদের নিয়ে যাবে তারা এসে বলল, শোনো, ঢাকায় তো আমাদের সহায়ক অবস্থান থাকতে হবে। কাজেই যতদিন পারো ঢাকাতেই থাকো। পুরান ঢাকার নারিন্দায় আমার বাসায় ছিলাম। আমাদের কাছে মুক্তিযোদ্ধারা গোপনে আসতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু কাজ ছিল আমাদের; সেগুলো রেডি করে রাখতাম। মুক্তিযোদ্ধারা ওগুলো নিয়ে রাতের অন্ধকারে গোপনে আবার চলে যেতেন। মাঝেমধ্যে ঠাঁই বদল করতে হতো। কখনও এই বাসা, কখনও ওই বাসা; আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের বাসা। কারণ, শিল্পী হিসেবে আমাকে অনেকে চিনত। যুদ্ধ শুরুর আগে পোস্টার-টোস্টার এঁকেছি।

সমকাল: ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর; বিজয়ের দিনটি কেমন ছিল?

রফিকুন নবী: স্বাভাবিকভাবেই ওই দিন আমাদের আনন্দের কোনো সীমা ছিল না। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরের সব আনন্দ-উত্তেজনা ১৭ তারিখের ভয়াবহ এবং মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে বিলীন হয়ে গেল। সেটা ছিল স্তম্ভিত হওয়ার মতো একটা অভিজ্ঞতা। আমরা দেখলাম, জানলাম- বধ্যভূমিতে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের লাশ পড়ে আছে। তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। ওই বর্বরতা আমাদের বিজয় উৎসবকে হঠাৎ স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ওই ঘটনা এখনও ভুলতে পারিনি, পারবও না।

সমকাল: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে একবার পেছন ফিরে যদি তাকাতে বলি, প্রত্যাশা-প্রাপ্তির হিসাবটা একটু বলবেন?

রফিকুন নবী: প্রথম প্রত্যাশা ছিল, দেশ স্বাধীন হোক। দেশ তো স্বাধীন হলো। এটাকে আমি ঠিক প্রত্যাশা বলি না। একটা ধারণা ছিল, আমরা সুখে-শান্তিতে থাকব। নিজের দেশ, নিজের ভাষা, নিজের সংস্কৃতি নিয়ে চমৎকার একটা দেশ হবে। সেখানে আমরা থাকব। এই সুন্দর দেশটাকে ঘিরে আমরা যে যে ক্ষেত্রে আছি, সে ক্ষেত্রে কাজ করে যাব। ১৯৭৫-এ এসে তার সবকিছু যেন ভেঙে পড়ল। নানা বাঁক বদলে এখন আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলাম। উন্নয়ন হচ্ছে, মাথাপিছু আয়ও বাড়ছে। কিন্তু নৈতিকতার দিক থেকে কোথায় যেন একটা গোলমাল হয়ে যাচ্ছে আমাদের! তখন যা দেখেছি, এখন তা দেখতে চাই না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com