মাস্ক না পরায় শাহবাগে ২৫ জনকে জরিমানা

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২১ । ২১:২৫ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২১ । ২১:২৬

সমকাল প্রতিবেদক

সোমবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় মাস্ক না পরায় ২৫ জনকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: ফোকাস বাংলা

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সাত দিনের লকডাউন শুরুর দিনই রাজধানী ঢাকায় ছিল অনেকটা ঢিলেঢালাভাব। তবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সরকারের অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মাঠে রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরিধান, চেকপোস্ট বসিয়ে ও টহল দিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সোমবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় কাজ করে র‌্যাব-পুলিশ। 

বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় মাস্ক না পরে প্রাইভেটকারে ঘুরতে বের হয়ে জরিমানা দিতে হয়েছে ২৫ জনকে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত শাহবাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। দুপুর ২টায় একটি লাল প্রাইভেট কার থামায় র‌্যাব। 

গাড়ির চালক ও তার পাশের সিটে বসা যাত্রীর মুখে মাস্ক ছিল না। চালকের আসনে ছিলেন ছেলে এবং পাশের সিটে বসা তার বাবা। তাদের হাজির করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে। আদালতের কাছে তারা অকপটে স্বীকার করেন, লকডাউনে একটু 'ঘুরতে বেরিয়েছেন'। তখন দু'জনকেই র‌্যাব সদস্যরা মাস্ক পরিয়ে দেন। একই সঙ্গে আদালত তাদের জরিমানা করেন। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু সমকালকে বলেন, মাস্ক না পরাসহ বাইরে বের হওয়ার সন্তোষ জবাব দিতে না পারায় ২৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১০০ মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় মাস্ক বিতরণ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মালিবাগ কাঁচাবাজার, হাজারীবাগ, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাস্ক বিতরণ ও লকডাউনে সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কাজ করে পুলিশ। 

ডিএমপির ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ লকডাউন শুরুর দিন সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো গণপরিবহন ছেড়ে যেতে দেয়নি। ঢাকার বাইরে থেকেও কোনো দূরপাল্লার বাস প্রবেশ করতে পারেনি। এছাড়া রাজধানীর ভেতরে গণপরিবহনসহ সরকারি প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত নিষিদ্ধ পরিবহন বন্ধের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

যাত্রাবাড়ী, গোলাপবাগ, সায়েদাবাদ, সাইনবোর্ড, দনিয়া, শনিরআখড়া, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, জুরাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ চেকপোস্ট গঠন করে সন্দেহজনক জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন তল্লাশিসহ সরকারের নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাবুবাজার ব্রিজের ঢালে বংশাল থানা পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। লকডাউনে যেসব যান চলাচল নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলো প্রবেশ করতে বাধা দেয় পুলিশ। এ ধরনের দু-একটি যানবাহন এলেও পুলিশ চেকপোস্ট থেকে তা ফিরিয়ে দেয়।

বংশাল থানার ওসি শাহীন ফকির সমকালকে বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে এলাকায় মাইকিং করে এবং সরাসরি মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। বিনয়ের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার নিয়ম মেনে চলার জন্যও অনুরোধ করা হচ্ছে মানুষকে। বিকেল ৪টার মধ্যে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাস্ক না পরে বের হওয়া লোকদের একটি করে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার ৪৫০টি মাস্ক বিতরণ করে বংশাল থানা পুলিশ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২৩

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com