লকডাউনের প্রভাব সামান্যই, কর্মজীবীদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২১ । ১৫:২৬ | আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২১ । ১৫:৩১

সমকাল প্রতিবেদক

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে এভাবে জ্যাম পড়তেও দেখা গেছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সাত দিনের 'লকডাউনের' দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীতে ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। নগরবাসীকে 'লকডাউন' মানতে দেখা যায়নি খুব একটা। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এদিনও ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। 

প্রধান প্রধান সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল ছিল চোখে পড়ার মতো। এগুলো ছিল বলে কর্মজীবীদের ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। এসব যান চলাচল বন্ধে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকেও তৎপর দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার সকালে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, সংসদ ভবন মোড় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে সোমবারের চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করছে। কোনো কোনো সড়কে জ্যামও দেখা গেছে।

কল্যাণপুরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজীব হোসেন বলেন, 'টেকনিক্যাল থেকে হেঁটে এসেছি। রিকশা-সিএনজিতে যে ভাড়া চাচ্ছে তাতে পোষাচ্ছে না। তবে অফিস যেতে তো হবে। তাই কিছুটা হেঁটে রিকশা নেব বলে ভাবছি।'

সিএনজি ড্রাইভার রিপন বলেন, 'আমাদের পুলিশের ভয়ে থাকতে হয়। তাই সাবধানে বিভিন্ন গলি ধরে যাই। ভাড়া একটু বেশি চাই তাই।' 

রাজধানীর নয়াবাজারের মঙ্গলবার দুপুরের দৃশ্য। ছবি: ফোকাস বাংলা

এসব এলাকার প্রধান সড়কের দোকানপাট বন্ধ থাকলেও উপসড়ক ও গলির জীবনযাত্রা ছিল প্রায় স্বাভাবিক। কল্যাণপুর শহীদ মিনার রোড এলাকায় প্রতিদিনের মতো বসেছে কাঁচাবাজার। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ও ছিল আগের মতোই। সব ধরনের দোকানপাটও খোলা রেখেছেন দোকানিরা। বেশিরভাগ মানুষকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। কল্যাণপুর নতুন বাজার, মিরপুর আনসারক্যাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে।

কল্যাণপুর শহীদ মিনার রোডের কাঁচাবাজারের ক্রেতা শহীদ মনোয়ার বলেন, 'পাড়ায় প্রতিদিনই বাজার বসে। আজও বসেছে। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে এসেছি। এখনই চলে যাব। গিয়ে গোসল করে মশলা চা পান করব।'

পুরো রাজধানীর সড়ক, পাড়া, বাজার, দোকানপাটে এমন দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে  ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এর আওতায় গণপরিবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি শপিং মল, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তারাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে ১১ দফা নিষেধাজ্ঞায় সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে একুশে বইমেলা ও সিনেমা হলগুলোও।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com