'অবাধ্য সন্তান' এখন সোনার ছেলে

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ১০ এপ্রিল ২১ । ১০:১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাখাওয়াত হোসেন জয়

তায়কোয়ান্দোকা মাসুদ পারভেজের চোখে আনন্দ অশ্রু। গতকাল সেনাবাহিনীর এই অ্যাথলেট স্বর্ণ জিতেছেন - বিওএ

ফাইনাল রেজাল্ট শেষ হওয়ার পর হেড গার্ড খুলে ফেলেন। 'ভি' চিহ্ন দেখিয়ে বড় আওয়াজ তোলেন। একটু পর কাঁদতে শুরু করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজনকে জড়িয়ে ধরে আরও বেশি কাঁদতে থাকেন মো. মাসুদ পারভেজ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উঠে আসা এ তায়কোয়ান্দোকার কান্না আনন্দের। বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে প্রথম সোনা জয়ের আনন্দের কান্না। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত ছেলেদের মাইনাস ৮৭ কেজি ওজন শ্রেণির ফাইনালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মো. রাসেল খানকে ২৫-১৫ স্কোরে হারিয়ে স্বর্ণ জেতেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাসুদ পারভেজ।

অথচ শুক্রবার পদকের মঞ্চে থাকারই কথা ছিল না মাসুদের। ভালো ছাত্র এবং পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র ছেলে হিসেবে বাবা মোহাম্মদ তাজামুল হকের চাওয়া ছিল তার সন্তান শিক্ষিত হয়ে বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করুক। তাজামুল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি করা অবস্থায় ২০০৭ সালে সিলেটের রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেছিলেন। এক বছর পরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ আসে তার সামনে। কিন্তু পরিবার চায়নি একমাত্র ছেলেটি সার্ভিসেস কোনো সংস্থায় চাকরি করুক। কঠিন সেই সময়ে পরিবারের সঙ্গে দূরত্বও সৃষ্টি হয় মাসুদের। কিন্তু শত বাধার পরও সেনাবাহিনীতে চাকরি করার সিদ্ধান্তে অনঢ় ছিলেন তিনি। বাবা আর মায়ের শত অনুরোধেও মন গলেনি মাসুদের। পরিবারের অবাধ্য সন্তানটিই এখন সোনার ছেলে।

স্বর্ণজয়ের পর পুরোনো কথাগুলো নতুন করে বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত ৩১ বছর বয়সী এ তায়কোয়ান্দোকার, 'আমার অনুভূতি অপরিসীম। আমি ধন্যবাদ জানাই তাদের, যারা আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে। তাদের সহযোগিতায় এবং আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় আমি আজ স্বর্ণ জিতেছি। এটা আমার বাংলাদেশ গেমসে প্রথম অংশগ্রহণ, তাতেই আমি স্বর্ণ জিতেছি। এ পর্যন্ত আসতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বলতে পারেন পরিবারের অবাধ্য হয়েই আমি এখানে এসেছি।'

২০০৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরের বছর থেকেই তায়কোয়ান্দো খেলা শুরু করেন। ২০১৩ সালে অষ্টম বাংলাদেশ গেমসে খেলতে পারেননি। ২০১৪ সাল থেকে মূলত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে শুরু এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা মাসুম পারভেজের। চলমান বাংলাদেশ গেমসসহ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তার মোট স্বর্ণ হলো আটটি। এদিন মাসুদ এমন একজনকে হারিয়েছেন যে কিনা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নেপালে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। পুমস ইভেন্টে রৌপ্য জেতা মাসুদ তাকিয়ে এখন এসএ গেমসের দিকে, ২০১৬ সাউথ এশিয়ান গেমসে খেললেও কোনো পদক পাইনি। আর ইনজুরির কারণে গত আসরে খেলতে পারিনি। আমার আশা, সামনের এসএ গেমসে খেলা এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা।'

অন্য খেলা থাকতে কেন তায়কোয়ান্দোকে বেছে নিয়েছেন সেই ব্যাখ্যাও দিলেন মাসুদ, 'এটা খুব ভালো একটা মার্শাল আর্ট। এটা অলিম্পিকের ইভেন্ট। এই অলিম্পিকের ইভেন্ট বলেই আমি এটা বেছে নিয়েছি। আমার স্বপ্ন অলিম্পিকে খেলা।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com