নাজমুল হুদার দালিলিক গ্রন্থ 'হামার চিলমারী'

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২১ । ২৩:৩৭ | আপডেট: ১০ এপ্রিল ২১ । ২৩:৫৪

সমকাল প্রতিবেদক

বদলে যাচ্ছে আদর্শ, বিশ্বাস, জীবনবোধ, সর্ম্পক ও নীতি। কোন কিছুই স্থিত হচ্ছে না। এক কথায় আমাদের জীবনের পথ চলাটাই নদীর মত। নদীর চলা আঁকাবাঁকা হলেও স্পষ্ট, প্রত্যক্ষ এবং প্রত্যায়িত। দুই তীরের মাটির বন্ধন মেনেও সে মুক্ত। দেশ কালের ব্যাপ্তি নিয়ে সে সতত ছুটে চলেছে সাগর সঙ্গমের দিকে। অথচ লোকালয় ও লোক জীবনকে ছুঁয়ে জনজীবন ধারার সঙ্গে হাসি-কান্নায় ওৎপ্রোত হয়েই তার এই অভিযাত্রা। বারবার বাঁক নিয়ে সংকট বন্ধুর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজের পথটি করে নিচ্ছে সে। এরকমই সত্যের মুখোমুখি হবার দৃঢ় প্রত্যয়ে শত বাধা অতিক্রম করে সংস্কার মুক্ত চিন্তা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি, নিরপেক্ষতা ও নির্ভিকতাকে পাথেয় করে লেখক নাজমুল হুদা পারভেজ 'হামার চিলমারী' নামক একটি দালিলিক গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন ২১‘শে বই মেলায় ।

১৬৩২-৩৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কোচবিহারের মহারাজা ছিলেন প্রাণ নারায়ণ। গৌড়ের পাঠান সুলতান পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে কোচবিহার জয়ের পর বাহারবন্দ পরগনা মুসলীম শাসনাধীন থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ এলাকা হিন্দু রাজারা স্বাধীনভাবে শাসন করেছেন। পাঠান সুলতানদেরকে কর প্রদানের মাধ্যমে তারা রাজ্যশাসনের এ ধরনের সনদ লাভ করে। বিশ্বসিং এর মৃত্যুর পর তার পুত্র মল্লদেব নরনারায়ণ- নাম ধারণ করে (১৫৪০-১৫৮৭ খ্রিঃ পর্যন্ত) কোচবিহারের সিংহাসনে অরোহণ করেন। তার ভাই শুদ্ধধজ যিনি চিলারায় নামে অধিক পরিচিত এবং কোচ রাজ্যের সেনাপতি নিযুক্ত হন। রাজা নরনারায়নের সময় কোচবিহারের বিশাল সীমানা ছিল। কামরূপ থেকে শুরু করে আসাম, ধুবড়ী, জলপাইগুড়ি, রংপুর- দিনাজপুরের কিছু অংশ করতোয়া নদী বেষ্টিত গাইবান্ধা দিয়ে সর্ব দক্ষিণে কালিগঞ্জ, বর্তমানে চিলমারীর অবস্থান রাজীবপুরের দক্ষিণ পাশে দেওয়ানগঞ্জের উত্তর -পশ্চিম দিকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সেই সময় থেকে প্রাচীন নৌবন্দর চিলমারীর আর্বিভাব। এই বন্দরটিকে ঘিরেই ভাওয়াইয়া ও পল্লী গীতি সম্রাট আব্বাস উ্দ্দীন গেয়ে ছিলেন তার সেই কালজয়ী গান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে'।

লেখক চেষ্টা করেছেন বইটিতে চিলমারী সম্পর্কে দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেখকের নিজস্ব বিশ্লেষণ তুলে ধরতে। বইটিতে তুলে ধরেছেন প্রাগৈতিহাসিক রাজা গোপিচাাঁদের কিংবদন্তি, চিলমারী নামকরণের দালিলিক ইতিহাস, নৌবন্দরের ইতিহাস, ওকি গাড়িয়াল ভাই গানটির নেপথ্য কথা, ১৯২০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চিলমারীরর রাজনৈতিক ইতিহাস।

ইটিতে আরো তুলে ধরা হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা আন্দোলন ও সাফল্য, মুক্তিযুদ্ধে  রৌমারী, কোদালকাটি, চিলমারী ও হাতিয়ার যুদ্ধের ইতিহাস, চিলমারীর ভাসমান তেল ডিপোর ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে বর্তমান পর্যন্ত চিলমারীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ইতিহাস, ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, দেশে প্রতিষ্ঠিত চিলমারীর লেখক ও কবিদের পরিচিতি। 

চিলমারী ও বাল্য বিবাহ, বিদেশের মাটিতে চিলমারীর দু’জন সফল ব্যবসায়ীর গল্প, চিলমারীর ঐতিহাসিক লংমার্চ ও মহাসমাবেশ, মঙ্গা পীড়িত চিলমারী বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে, চিলমারী- হরিপুর (২য় তিস্তা) সেতুর অগ্রগতি ও পূর্ব ইতিহাস এবং চিলমারী বন্দরের সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ আরও বিভিন্ন বিষয় বইটিতে তুলে ধরেছেন লেখক। ঢাকায় বইটি বইমেলায় হাওলাদার প্রকাশনীর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও ঢাকার বাইরেও পাওয়া যাচ্ছে বইটি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com