পেটে গজ রেখে সেলাইয়ে প্রসূতির মৃত্যু: ৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২১ । ২১:২৭ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২১ । ০৮:৫৬

কুমিল্লা ও দেবিদ্বার সংবাদদাতা

ফাইল ছবি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সিজিরিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে দেওয়ার পাঁচ মাস পর তা বের করা হলেও বাঁচানো গেল না সেই প্রসূতিকে। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শারমিন আক্তার (২৫) নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে তিন চিকিৎসকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই নারীর বাবা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ৫ নভেম্বর দেবিদ্বার উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক মোবারক হোসেনের মেয়ে শারমিন আক্তারকে দেবিদ্বার আল ইসলাম হাসপাতালে সিজিরিয়ান অস্ত্রোপচার করেন ওই হাসপাতালের খণ্ডকালীন চিকিৎসক ডা. রোজিনা আক্তার ও তার সহযোগী ডা. শামীমা আক্তার লিন্টাসহ অন্যরা। গত ৯ নভেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়।

শারমিনের বড় ভাই রুহুল আমিন জানান, হাসপাতাল থেকে তার বোনকে বাড়ি আনার পর প্রচণ্ড ব্যথা হলে কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কোথাও তার তার রোগ নির্ণয় হয়নি। অবশেষে ৬ এপ্রিল ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়। এই গজটি সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটে রেখে দেওয়ায় তার ব্যথা হচ্ছিল। এরপর ১০ এপ্রিল তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে আইসিইউতে ও পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্তরা হচ্ছেন অস্ত্রোপচারকারী সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রোজিনা আক্তার, ওই প্রাইভেট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীমা আক্তার লিন্টা, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক মেহেদুল হাসান পারভেজ, হাসপাতালের চেয়ারম্যান নজির আহমেদ ও গ্রাম্য চিকিৎসক সফিকুর রহমান।

ওই প্রসূতির স্বামী মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের রাসেল মিয়া জানান, ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রীকে হারাতে হলো। এখন আমার দুই সন্তানকে কে দেখবে।

প্রসূতির মৃত্যুর ব্যাপারে দেবিদ্বার আল ইসলাম হাসপাতালের চেয়ারম্যান নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন (এনাম) বলেন, ওই প্রসূতির দুটি অপারেশন হয়েছে দুটি হাসপাতালে। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং মামলা করা হয়েছে। তাই কার অপারেশনের ভুলে এ রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তে বের হবে।

অস্ত্রোপচারকারী ডা. রোজিনা আক্তার বলেন, পাঁচ মাস আগে প্রসূতি শারমিনের সফল অপারেশন করার পর সুস্থ হয়ে সে বাড়িতে ফিরে যায়। পরে ১২তম দিনে এসে সেলাই কেটে যান। কিন্তু তখন তিনি কোনো সমস্যার কথা বলেননি। এ ছাড়া ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালের দেওয়া ছাড়পত্রে গজ বের করার কথা লেখা নেই। লেখা আছে 'লাম্প এভডুমিন'। মেডিকেল ভাষায় যাকে বলা হয় টিউমার কিংবা পেট ফোলা জাতীয় সমস্যার সন্দেহে অপারেশন।

দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com