দাফনের ২৬ দিন পর অপহৃত মেয়ের লাশ শনাক্ত করল বাবা

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২১ । ২১:০৪ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২১ । ২১:০৬

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

মিমি আক্তার

দাফনের ২৬ দিন পর গাজীপুর থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানায় গিয়ে জামা-কাপড় দেখে অপহৃত মেয়ে মিমি আক্তারের (২৮) লাশ শনাক্ত করেছেন বাবা আব্দুল মান্নান। তার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকায়। এ সময় পাহাড়তলী থানার ভেতর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। 

অপহরণের দুই মাস ১৮ দিন পরে ১ এপ্রিল দুপুরে পুলিশ মিমির গলিত লাশ উদ্ধার করে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার আব্দুল আলী নগরের নজির আহমেদের চারতলা বাড়ির নিচতলার একটি বন্ধ কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। 

ময়নাতদন্ত শেষে ৩ এপ্রিল লাশটি চট্টগ্রাম আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে বেওয়ারিশ হিসেবে দিয়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা হয়, যার তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশের উপ-পরিদর্শক এনামুল হক। নানা কৌশলের পর একটি ফেলে দেওয়া সিম চালু করে সেটিতে নিহত মিমির বাবা আব্দুল মান্নানের নম্বর পান তিনি। এরপর তাকে ফোন দেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে গত ২৬ এপ্রিল রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর গ্রাম থেকে পাহাড়তলী থানায় গিয়ে জামা-কাপড় দেখে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন আব্দুল মান্নান। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর গ্রামের জয়দেব চন্দ্র বর্মনের ছেলে প্রল্লাদ বর্মনকে খুঁজছে পাহাড়তলী ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশ।

অপহরণকারী প্রল্লাদ চন্দ্র বর্মন

নিহতের পরিবার এবং পাহাড়তলী ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশ জানায়, কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকার মিমি আক্তারের স্বামী বিদেশে থাকে। সন্তান নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। একই এলাকার প্রল্লাদ চন্দ্র বর্মন তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় প্রল্লাদ ক্ষুব্ধ হয়ে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মিমিকে অপহরণ করে। মিমির বাবা মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে, পরের দিন ১৯ জানুয়ারি কালিয়াকৈর থানায় প্রল্লাদ, তার বাবা জয়দেব চন্দ্র বর্মন ও মা কমলা রানীকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ কয়েকদিন পর জয়দেবকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তিনি বর্তমানে আদালতের জামিনে রয়েছেন। অপহরণকারী প্রল্লাদকে ধরতে পুলিশ চট্টগ্রামের কক্সবাজার, রাঙামাটিসহ অনেক এলাকায় মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালালেও অপহৃত মিমিকে উদ্ধার করতে পারেনি। অপহরণের দুই মাস ১৮ দিন পর গত ২৬ এপ্রিল মিমির বাবাকে ফোন করে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেন পাহাড়তলী থানা পুলিশ।

পাহাড়তলী থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক বলেন, গত ১ এপ্রিল খবর পেয়ে আব্দুল আলী নগরের নজির আহমেদের চারতলা বাড়ির নীচের তলার একটি বন্ধ কক্ষ থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাতে গিয়ে আলমতারা পুকুর পাড়ের মুরগির ফার্ম এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে নিহতের বাবার নামে রেজিস্টেশন করা একটি সিম পাই। সেই সিম চালু করে মিমির বাবা আব্দুল মান্নানের নম্বর সেভ করা পাই। এরপর ২৬ এপ্রিল আব্দুল মান্নানকে ফোন করে থানায় আসতে বলি। তিনি রাতে এসে মেয়ের জামা-কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন। 

এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিহতের বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, গত ১৮ জানুয়ারি মিমিকে অপহরণ করে প্রল্লাদ চন্দ্র বর্মন। পরদিন একটি অপহরণ মামলা করলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী ও এর সহযোগিদের ফাঁসি চাই।

কালিয়াকৈর থানার অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রায়হান বলেন, অপহরণ মামলাটি চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রজু করা হয়। এরপর থেকেই অপহৃতকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাই। কিন্তু অপহরণকারীরা বারবার স্থান পরির্বতন করায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com