শুচি হোক ধরা

আমাদের নিবেদন

নববর্ষ ১৪২৮

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২১ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুস্তাফিজ শফি

ফাইল ছবি

আজ পহেলা বৈশাখ। ১৪২৮ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। আবহমান বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও কৃষি-অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বাংলা বর্ষপঞ্জি। যুগের পর যুগ বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যকে ঘিরেই আমাদের সংস্কৃতিচেতনা স্বকীয়তা পেয়েছে। ঋতু-উৎসবের সূচনারূপে বাংলার মানুষ সাড়ম্বরে উদযাপন করে পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ উৎসব।

এই বহু বর্ণিল উৎসব মূলত বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীকী উপস্থাপন। পহেলা বৈশাখের বর্ণিল উৎসব সম্প্রদায়-নিরপেক্ষ; এর প্রকৃতি-চেতনা ও ইতিবাচক সমাজ-ভাবনা থেকেই যুগে যুগে উৎসারিত হয়েছে বাংলার মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী নিজস্ব লোকাচার। বাংলাদেশে নানা ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস থাকলেও শত প্রতিকূলতা ও অশুভ শক্তির চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেও বাঙালিত্ব অধিষ্ঠিত আছে সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে। তাই আমরা সকলকে ধারণ করি আপন মমতায়। যুগে যুগে প্রতিবন্ধকতা এসেছে। নানা বহিরাগত শক্তি ও চেতনার আঘাতকে অতিক্রম করে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এগিয়ে গেছে বাংলার মনন-চেতনা।

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখনও চলমান। মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গতবারের মতো এবারও তাই বর্ষবরণের বহুল আকাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক উদযাপনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বিরাজ করছে। এবারও তাই যথাযোগ্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে যার যার অবস্থান থেকে ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাংলার ঘরে ঘরে বিপুল উৎসাহে উদযাপিত হবে পহেলা বৈশাখ। বৈশাখের অগ্নিস্নানে এ ধরা আবার শুচি হোক; পুণ্য হোক সকলের। সমকাল নববর্ষ সংখ্যায় আমাদের বিনম্র নিবেদন- বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি, কৃষি-লোকাচার, শিল্প-শৈলী ও জীবনবৈচিত্র্যের নানা অনুষঙ্গে বাঙালির ইতিবাচক চেতনার পরম্পরা ও শক্তির সন্ধান। এতে সূচিবদ্ধ হয়েছেন দেশের বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবীগণ।

সবাইকে ১৪২৮ শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com