শেষ দুই ধাপের ভোট এক দিনে করার দাবি

বিধানসভা নির্বাচন

২১ এপ্রিল ২১ । ০০:০০

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ নিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ঘুরেফিরেই আসছে করোনা প্রসঙ্গ। দেশজুড়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মমতা অভিযোগ করেছেন, 'বিপদের সময় দায় এড়াচ্ছে কেন্দ্র। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেরিতে।' এদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষ দুই ধাপের ভোট এক দিনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ১ মে থেকে ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। এ নিয়ে মোদিকে একহাত নিয়েছেন মমতা। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, একটি চিঠি দিয়েছিলাম কেন্দ্রকে। অনুরোধ করেছিলাম, রাজ্য যাতে সরাসরি টিকা কিনে মানুষকে দিতে পারে, সেই অনুমোদন দিতে। কিন্তু সেই চিঠির কোনো উত্তর আসেনি।

গত রাজ্য সরকারগুলোকে টিকা কেনার অনুমতি দিয়েছে মোদি সরকার। এ ব্যাপারে চিঠিতে মমতা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ঘোষণায় টিকার কার্যকারিতা, গুণমান, সরবরাহ নিয়ে সমস্যা সমাধানের কোনো পথ দেখানো হয়নি। রাজ্য কত দামে টিকা কিনতে পারবে, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। আমাদের আশঙ্কা, এই ঘোষণার ফলে বাজারে অসাধু প্রবণতা দেখা যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের টিকা কেনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।'

অন্যদিকে, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচার-প্রচারণা কমিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দুই ধাপের ভোট এক দিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে গতকাল নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল। চতুর্থ ধাপের ভোটের পরই করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তখন বাকি থাকা চার ধাপের ভোট একসঙ্গে করার আবেদন করেছিল মমতার দল। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, একসঙ্গে ভোট হলে প্রচারে ভিড় হওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে ভোটের কারণে করোনার সংক্রমণ হবে না। তবে কমিশন তখন বলেছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এক দিনে চার ধাপের ভোট নেওয়া সম্ভব নয়। তবে নতুন আবেদনের বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নির্বাচন কমিশন।

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে আট ধাপে। পঞ্চম ধাপের ভোট সম্পন্ন হয়েছে। ২২ এপ্রিল হবে ষষ্ঠ ধাপের ভোট। শেষ ধাপে ২৯ এপ্রিল ভোটের পর ২ মে একযোগে ফল ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে রাশ টানতে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থে মামলা করা হয়েছিল। গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণের বেঞ্চ এ বিষয়ে নির্দেশনায় বলেছেন, করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভোটের প্রচার ও ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে এবং এর পুরোপুরি দায় নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

এদিকে বাংলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিমের একটি ফাঁস হওয়া অডিও নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ওই অডিওতে ফিরহাদ কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন বলে বিজেপির অভিযোগ। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে ফিরহাদকে নির্বাচনী কাজ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। তবে ফিরহাদ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সেটি মিথ্যা অডিও।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com