করোনা মোকাবিলায় মানুষের বিজয় হবেই

প্রকাশ: ০৪ মে ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ০৪ মে ২১ । ০৩:৫৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

মো. রহমত উল্লাহ

২২ এপ্রিল সমকালের শেষ পাতায় একটি খবর এ দুর্দিনে আশান্বিত করেছে। 'ওরাও স্বেচ্ছাসেবক'। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ করোনা আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছেন। দুর্যোগে এভাবেই মানুষ মানুষের হয়ে কাজ করছেন। বলা বাহুল্য, সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে টিকে আছে পৃথিবীতে। অস্তিত্বের লড়াইয়ে মাঝে মাঝে দু-এক পা পিছু হটলেও হেরে যায়নি বিলীন হয়ে যাওয়া প্রজাতির মতো। স্রষ্টার দেওয়া মেধা কাজে লাগিয়ে সৃষ্টিজগৎ থেকেই উদ্ভাবন করেছে সৃষ্টিজগতের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার হাতিয়ার। উদ্ভাবন করেছে মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বেঁচে থাকার কৌশল। সম্প্রসারিত করেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান, অর্জন করেছে বিজয়। উন্মুক্ত করেছে এগিয়ে চলার নতুন নতুন দ্বার।

অতীতের ধারাবাহিকতায় আমরাও সফল হব মহামারি করোনা মোকাবিলায়। এখানেও উদ্ভাবন করতে হবে সফল হাতিয়ার, প্রয়োগ করতে হবে সঠিক কৌশল। কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত স্বাস্থ্যবিধি। সেই সঙ্গে চলমান রাখতে হবে গবেষণা, ভরসা রাখতে হবে স্রষ্টার ওপর। অবশ্যই অর্জিত হবে অধিক কার্যকর প্রতিরোধ। অর্জিত হবে মানুষের বিজয়। মনে রাখতে হবে, সামান্য অবহেলায় জীবন যাবে আমার ও আমার আপনজনের। সবাই সচেতন না হলে অস্তিত্বের সংকটে পড়বে মানবজাতি!

সব ধর্মেই দেওয়া হয়েছে জীবন রক্ষার আদেশ। থাকতে বলা হয়েছে সতর্ক, নিতে বলা হয়েছে চিকিৎসা। শুধু দোয়ার কথাই বলা হয়নি, বলা হয়েছে দাওয়ার কথাও। স্রষ্টার কৃপায় সৃষ্টির উপাদানেই তৈরি হয় দাওয়া/ওষুধ। স্রষ্টার দেওয়া জ্ঞানেই করা হয় গবেষণা। ধর্মের সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো বিরোধ নেই। যে চশমা দিয়ে পাঠ করা হয় ধর্মগ্রন্থের প্রিন্টেড বা অনলাইন ভার্সন, যে লাউডস্পিকারে বা মোবাইল ফোনে পরিবেশন করা হয় ধর্মের বাণী, যে কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় ধর্মীয় পোশাক- সেসব বিজ্ঞানেরই আবিস্কার। সুতরাং বিজ্ঞান মেনেই কিছুদিন হাত ধুয়ে, মাস্ক পরে, দূরে থেকে, ঘরে থেকে চালাতে হবে ভাইরাসমুক্ত থাকার চেষ্টা। সে সঙ্গে উদ্ভাবন করতে হবে আরও সহজ ও কার্যকর কৌশল। বেশি দিন যাপন করা যাবে না ঘরবন্দি জীবন। অবশ্যই বেরোতে হবে জীবনের জীবিকায়। সেজন্যই সাময়িক ঘরবন্দি থেকে টিকিয়ে রাখতে হবে অস্তিত্ব। মাঝে মাঝে এক পা পিছিয়ে নিতে হবে দুই পা এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি। নিজের স্বার্থেই সবাইকে মেনে নিতে হবে সাময়িক লকডাউন। জীবন রক্ষার জন্য স্বীকার করে নিতে হবে কিছুটা কষ্ট। বেঁচে থাকলে আবার যাওয়া যাবে হাটে, ঘাটে, কর্মে, ক্লাবে, স্কুলে, পার্কে। উপভোগ করা যাবে পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য। অবশ্যই আমরা এগিয়ে যাব নতুন উদ্যমে। তাই নিয়ম মেনে, চিকিৎসা নিয়ে, জীবন রক্ষা করে অপেক্ষা করতে হবে সেই শুভদিনের এবং এগিয়ে যেতে হবে পরিকল্পিতভাবে।

লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুতে আতঙ্কিত হয়ে যেমন চুপসে গেলে চলবে না, তেমনি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে করা যাবে না অবহেলা। 'আমার কিছুই হবে না'- এমন ভাবনা বয়ে আনতে পারে চরম অমঙ্গল! সদা সর্বত্র মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, থাকতে হবে সতর্ক। অন্যকেও করতে হবে সচেতন, করতে হবে সহায়তা। কোনোভাবেই হওয়া যাবে না স্বার্থপর। আত্মনিবেদিত থাকতে হবে অসহায় মানুষের কল্যাণে। মানব জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় সব ভেদাভেদ ভুলে মহামারি মোকাবিলায় সব মানুষকেই থাকতে হবে সতর্ক ও সক্রিয়। অতীতের মতোই পরাস্ত করতে হবে মানব জাতির শত্রু, অর্জন করতে হবে যৌথ বিজয়। স্রষ্টার অশেষ কৃপায় হারেনি, হারবে না সৃষ্টির সেরা জীব 'মানুষ'।

অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com