বিচ্ছেদ বাস্তবতা

প্রকাশ: ০৬ মে ২১ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লাইসা বনোস

কয়েক ঘণ্টার জন্য চলে যান কল্পনার জগতে। মনে করুন, আপনারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী দম্পতি। ২৭ বছরের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর যৌথ উদ্যোগে চলছে ৫০ বিলিয়ন ডলারের দাতব্য সংস্থা। এত কিছুও আপনাদের একসঙ্গে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়!

বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী দম্পতি বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। টুইট বার্তায় তারা বলেছেন, 'আমরা একসঙ্গে দম্পতি হিসেবে থাকতে পারব- এমনটা আর বিশ্বাস করি না। গত ২৭ বছরে আমরা অসাধারণ তিনটি সন্তান পেয়েছি। এমন একটা ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি, যে ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে মানুষকে স্বাস্থ্যকর ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমরা যে বিশ্বাস থেকে ওই ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু করেছি, সেটা থাকবে। এই ফাউন্ডেশনের কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাব। '

এটা সত্য যে, ধন-সম্পদ দাম্পত্য কলহের অন্যতম কারণ হতে পারে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদও দম্পতিদের মুখোমুখি দাঁড়ানো থেকে বিরত রাখতে পারে না। এ কারণে যখনই কোনো বিলিয়নেয়ার দম্পতির সংসার ভাঙে, তখন অনেক মানুষ ক্ষুব্ধ হন। অনেকেই ভেঙে পড়েন না। কারণ তারা জানেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যে কারও জন্যই কঠিন। তেমনি একজন মেরিল্যান্ডের আইনজীবী কার্লোস লাস্ত্রারা। তিনি বলেন, গেটস দম্পতি পরিণত মানুষ। তবে তারা সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন। তাদের দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কে কিছু সংকট থাকা অমূলক নয়। সে সংকটগুলোর কারণেই হয়তো তারা নতুন পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটালেও অন্যান্য ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন।

১৯৮৭ সালে বিল ও মেলিন্ডার প্রথম সাক্ষাৎ হয় মাইক্রোসফটে। ওই সময় বিল গেটস ছিলেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, আর মেলিন্ডা ছিলেন সেখানকার একজন কর্মকর্তা। ওই বছর প্রতিষ্ঠানের একটি নৈশভোজে একত্রিত হয়েছিলেন তারা। এর পর দু'জনের সামনে এগিয়ে যাওয়া। শুরু হয় তাদের প্রেম। বিল গেটস বলেছেন, 'আমরা দু'জন দু'জনের মধ্যে যথেষ্ট মিল খুঁজে পাই। দু'জনই চ্যালেঞ্জ নিতে ও প্রতিযোগিতা করতে ভালোবাসি।' নিঃসন্দেহে পরবর্তী সময়ে এ পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।

জেফ বেজোস ও ম্যাকেঞ্জি দম্পতি ২০১৯ সালে তাদের বিচ্ছেদের অভিপ্রায় ঘোষণা করলে তাদের আইনজীবী নিকল সডমা কোনো দম্পতির দীর্ঘমেয়াদে একসঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে একটি সর্বজনীন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেছিলেন, 'আমরা যে মানুষকে বিয়ে করি, তার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাই না। আমরা বিচ্ছেদ ঘটাই অন্য মানুষের সঙ্গে। কারণ মানুষ পরিবর্তনশীল।' মহামারির কারণে অপ্রত্যাশিত বিচ্ছেদের ঘটনা বেড়েছে। গত বছর থেকে অনেক দম্পতি বাসায় একসঙ্গে দীর্ঘ সময় পার করছে। তাদের নিয়মিত কর্মসূচি বাতিল হচ্ছে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে পরিবারে তাদের নতুন ভূমিকা ও কার্যসূচি তৈরি হয়েছে। সডমা বলেন, 'এতদিন দাম্পত্য জীবনের কলহ উপেক্ষা করে চললেও এখন হঠাৎ তারা মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে গত মাস পর্যন্ত বিচ্ছেদ বিষয়ে আইনি পরামর্শ গ্রহীতার সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু মহামারির কারণে আমরা আমাদের ভঙ্গুর দিকগুলো উপলব্ধি করতে পারছি, সেহেতু অতীতের চেয়ে বর্তমানে আমাদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বেশি সুযোগ রয়েছে।

আমরা জানি, ১৯৯০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চাশোর্ধ্বদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী দম্পতি জেফ বেজোস ও ম্যাকেঞ্জির বিচ্ছেদ হয়েছিল ২০১৯ সালে। সে সময় তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ৫৫ ও ৪৯ বছর। আর ২০২১ সালে যখন গেটস দম্পতির বিচ্ছেদ হলো, তখন তাদের বয়স যথাক্রমে ৬৫ ও ৫৬ বছর।

বিখ্যাত লেখক ভিকি লারসন বিচ্ছেদের ওপর বিস্তর গবেষণা ও লেখালেখি করেছেন। তার মতে, কোনো দম্পতি যখন তাদের সন্তানদের যৌবনে উপনীত করেন, তখন তারা মনে করেন, সন্তানদের প্রতি তাদের অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব পালন সম্পন্ন হয়ে গেছে (গেটস দম্পতির সন্তানদের বয়স ১৮-২৫ বছরের মধ্যে)। তখন তারা সন্তানদের নিজেদের মতো করে জীবন গঠনে উৎসাহিত করেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক; ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর সুদীপ্ত সাইফুল

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com