বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা, স্টাডিসেন্টার স্থাপন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক

প্রকাশ: ১১ মে ২১ । ১৭:৫৫ | আপডেট: ১১ মে ২১ । ১৯:২৯

সমকাল প্রতিবেদক

দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস অথবা স্টাডিসেন্টার স্থাপন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাদের সংগঠন 'বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি'।

সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মোনাস কলেজ (অস্ট্রেলিয়া) স্টাডি সেন্টার, বাংলাদেশ স্থাপন ও পরিচালনার সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার পরিচালনার অনুমোদন দেওয়ায় দেশের ক্রমবিকাশমান উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার অনুমোদন প্রসঙ্গে একক নীতি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধি প্রণয়নের অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বরাবর পত্র প্রেরণের প্রেক্ষিতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা-২০১৪ পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভজনক শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হবে না। এই মর্মে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতিকে আশ্বস্ত করা হয়। অথচ ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার পরিচালনার আকর্ষিক অনুমোদন দেওয়া হয়। যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

বিবৃতিতে এর ফলে উচ্চশিক্ষা খাতে সৃষ্ট বৈষম্যের কয়েকটি দিক তুলে ধরে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ট্রাষ্ট আইন-১৮৮২ অধীন অলাভজনক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর অধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় কথা বলা হয়েছে। যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সাথে সাংঘর্ষিক।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর ৪৪ (৭) ধারা অনুযায়ী 'কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলের অর্থ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় ব্যয় ব্যতিত অন্য কোনো উদ্দেশে ব্যয় করা যাবে না', অথচ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার প্রজ্ঞাপন-২০১৪ এর বিধি ৭ (ঝ) অনুযায়ী উদ্বৃত্ত অর্থ-সম্পদ উদ্যোক্তা, স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন হবে। উচ্চশিক্ষা খাতে এ জাতীয় দ্বৈতনীতি কার্যকর হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোক্তাগণ নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল গঠন, শিক্ষাথীদের জন্য কোটা ও বৃত্তি প্রদানের বাধ্যবাধকতাসহ বিভিন্ন বিধি থাকলেও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরণের কোন বিধিমালা রাখা হয়নি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com