তদন্তে যেভাবে উঠে আসে বাবুলের সম্পৃক্ততা

প্রকাশ: ১২ মে ২১ । ১৯:৩৮ | আপডেট: ১৪ মে ২১ । ১৩:২৫

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পিবিআই। 

দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কারাবন্দি আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম সরাসরি এ কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মামলার তদন্তভার হাতে নিয়ে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। 

এতে ওয়াসিম জানায়, খুনের পর যশোর থেকে বিকাশে মুছার কাছে টাকা পাঠানো হয়। পিবিআই সেই সূত্রের তদন্তে নেমেই বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পায়। ফলে মামলার বাদী থেকে স্ত্রী খুনের ঘটনায় আসামি হয়ে যান সাবেক এ পুলিশ সুপার। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর সন্তোষ চাকমা সমকালকে বলেন, 'পুলিশ মামলাটির কোনো সুরাহা করতে না পারায় মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেন আদালত। এরপর মামলার আসামি ওয়াসিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। কয়েক মাস আগে ওয়াসিম জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুছা, বাবুল আক্তার ও যশোরের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাই। তদন্তে মিতু খুনের পর এ মিশনে অংশ নেওয়া আসামিদের বিকাশে অর্থ লেনদেনের তথ্য হাতে আসে। সায়ফুল হক ও কাজী আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই খুনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে বাবুল আক্তারের নাম উঠে আসে।' 

মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম (গোল চিহ্নিত)। ফাইল ছবি

সন্তোষ চাকমা আরও বলেন, 'আদালতে জবানবন্দি দিয়ে দুই সাক্ষী সাইফুল ও মামুন এ খুনের পর তিন লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ২০১৬ সালে এ অর্থ লেনদেন হয়। যে মোবাইল নম্বর থেকে এ অর্থ লেনদেন হয় আমরা সেই নম্বর শনাক্তের চেষ্টা করছি। মুছা যে গোপন একটি নম্বর ব্যবহার করতেন সেটিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। 

তবে আদালতে দায়ের করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পিবিআই উল্লেখ করেছে, মিতু খুন হওয়ার পর প্রথমে সাইফুল হককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর কাজী আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই মিতু খুনের অর্থ লেনদেনের তথ্য সামনে চলে আসে। মিতুর খুনীদের তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন বাবুল আক্তার। মিতু হত্যার তিন দিন পর বাবুল আক্তার তার ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল হককে বলেন, তার লাভের অংশ থেকে তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। সাইফুল বিকাশের মাধ্যমে ওই টাকা গাজী আল মামুনকে পাঠান। মামুন ওই টাকা মুসা, ওয়াসিমসহ আসামিদের ভাগ করে দেন। 

মঙ্গলবার বাবুলের ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল ও মামুন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন আদালত। 

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। এখন বাবুলের খুনের সম্পৃক্ততা থাকায় মিতুর বাবা বাদী হয়ে নতুন করে আটজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলার ১ নম্বর আসামি বাবুল আক্তার।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com