১০ দিন পর মুক্তি পেল সেই ছাগলটি

প্রকাশ: ২৭ মে ২১ । ১৯:৩৪

বগুড়া ব্যুরো ও আদমদীঘি প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি বাগানের ফুল গাছ খাওয়ার ‘অপরাধে’ আটক সেই ছাগল ১০ দিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তি পেয়েছে। আদমদীঘি উপজেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজু ছাগল মালিকের পক্ষে জরিমানার ২ হাজার টাকা জমা দিয়ে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছাগলটি ছাড়িয়ে নেন। এরপর তার মালিক সাহারা বেগমের হাতে তুলে দেন।

জানা গেছে, ফুলের গাছ খাওয়ার অপরাধে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিনের নির্দেশে গত ১৭ মে স্থানীয় এক নারীর পালিত ছাগল আটক এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা জরিমানার খবরটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়। এরপর পরিস্থিতি ‘সামাল’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাগল মালিক আদমদীঘি উপজেলা সদরের বাসিন্দা সাহারা খাতুনকে ডেকে এনে আটক ছাগল ফেরত দেওয়া হয়। 

তবে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে আদমদীঘির ইউএনও সীমা শারমিন কোন কথা বলতে রাজি হননি। করোনাকালে যখন অধিকাংশ মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে তখন সামান্য একটি ঘটনায় এমন অর্থদণ্ড দেওয়া উচিত হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সমকালকে তিনি বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া আমাদের কথা বলা নিষেধ। আপনি ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।’ 

আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজু সমকালকে বলেন, ‘ওই ঘটনায় আদমদীঘি উপজেলার সম্মান নষ্ট হচ্ছিল। তাছাড়া ছাগল মালিকও কান্নাকাটি করছিলেন। যে কারণে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করেছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আদমদীঘি উপজেলা হাসপাতালের পাশে তালশুন এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য জিল্লুর রহমানের স্ত্রী সাহারা বেগম বাড়িতে ছাগল পালন করেন। তার এক ছাগল গত ১৭ মে পার্শ্ববর্তী আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফুল বাগানে গিয়ে কয়েকটি গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। বিষয়টি জানার পর আদমদীঘির ইউএনও সীমা শারমিন ওইদিন বেলা ১১টার দিকে নিরাপত্তা কর্মীদের মাধ্যমে ছাগলটি আটক করেন। এরপর তার মালিককে ডেকে আনতে বলা হয়। 

ছাগল মালিক সাহরা খাতুনের অভিযোগ, খবর পেয়ে তিনি ইউএনও অফিসে গেলে তাকে জানানো হয়, তার ছাগল উপজেলা পরিষদ চত্বরে লাগানো ফুল গাছ খেয়ে ফেলেছে। সেজন্য তার ছাগলকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। জরিমানার ২ হাজার টাকা না দিলে ছাগল ফেরত দেওয়া হবে না। 

তিনি বলেন,  সেদিন অনেক অনুরোধ করার পরেও ইউএনও ছাগল ফেরত দিতে রাজি হননি। এমনকি এর পর কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও ছাগলটিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে থেকে ওই ছাগলকে প্রথমে আনসার বাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদের নিরাপত্তা কর্মী আনসার আলীর হেফাজতে রাখা হয়। পরবর্তীতে গত ২২ মে থেকে ছাগলটি স্থানীয় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী কাজলের তত্ত্ববধানে ছিল। 

১০ দিন পর নিজের ছাগল ফিরে পেয়ে খুশি সাহারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাগল ফেরত পেয়ে আমি খুশি। তবে জরিমানার টাকা আমি দেইনি। কেউ একজন দিয়েছেন বলে শুনেছি।’

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com