নতুন চালের দাম কমেছে, বেড়েছে পেঁয়াজ রসুনের

প্রকাশ: ২৮ মে ২১ । ১১:৪০ | আপডেট: ২৮ মে ২১ । ১২:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

কথায় আছে- পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে। ক্রেতাদের কাছে এ চালের কদরও বেশি। তবে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর বাজারে এর দাম কিছুটা চড়া। অন্যদিকে, বাজারে বোরো মৌসুমের চাল আসতে শুরু করেছে। নতুন এ চাল দামেও কম। একই জাতের পুরোনো চালের তুলনায় প্রতি কেজিতে ছয় টাকা কমে মিলছে নতুন চাল।

এদিকে, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের আগেই গত এক সপ্তাহে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে। সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বেড়েছে। সম্প্রতি কোম্পানিগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে- এমন খবরে বাজারে দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। এ ছাড়া বাজারে মসুর ডাল, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ব্রয়লার মুরগির দামও।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরু চাল পুরোনো মিনিকেট ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা ও নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন আসা মিনিকেট ও নাজিরশাইল ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি মানের পুরোনো পাইজাম ও লতা চালের দাম ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। এ চাল নতুনটি বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়। পুরোনো মোটা চাল আগের মতোই ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি। আর নতুনটি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, নতুন চালের সরবরাহ বেড়েছে। মিল থেকে এ চাল কম দামেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে পুরোনো চাল বেশি দামে কেনা ছিল। এ কারণে এটি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে চালের দাম অনেকটা স্থিতিশীল ছিল। তবে বৈরী আবহাওয়া থাকলে চালের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে। রান্নার পরে ভাত অনেকক্ষণ ভালো থাকে। এ কারণে এ চালের চাহিদা বেশি। দামও কিছুটা বেশি পড়ছে। তবে এখন নতুন চাল ২৫ কেজির বস্তা পুরোনো চালের চেয়ে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনিক বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় সব ধরনের চালের দাম স্থিতিশীল। বাজারের দোকানিরা একই কথা জানিয়েছেন।

দেশের ইতিহাসে সয়াবিন তেল এখন সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ভোজ্যতেলে লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে এখন প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ১৩৫ টাকা ছিল। আর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। এখন তা ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে থেকে এ তেলের বোতলের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৪৫ টাকা রয়েছে। ঈদের আগে মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিগুলো। এ কারণে বোতলের গায়ের দামের চেয়ে কমে বিক্রি হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারেও সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। পাম তেলের দামও একই হারে বেড়েছে। প্রতি লিটার খোলা পাম তেল ১১০ থেকে ১১৪ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১১৪ থেকে ১১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতি লিটারে সয়াবিন তেলের দাম আরও ১৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল সংগঠনটি লিটারে সয়াবিনের দাম পাঁচ টাকা করে বাড়ায়।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মসুর ডালের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। এখন বড় দানা মসুর ডালের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মাঝারি দানা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি সরু মসুর ডালের দামে পরিবর্তন হয়নি।

বাজারে পেঁয়াজের দামও কিছুটা বাড়তি। এখন মৌসুমের পেঁয়াজ সংরক্ষণ হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এ কারণে বাজারে দাম বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দেশি নতুন রসুন ৭০ টাকা ও আমদানি রসুন ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। আমদানি করা আদা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। বাজারে কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কেজিতে ১০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা হয়েছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com