চট্টগ্রামে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ পরীক্ষার আওতায় এসেছে

করোনা পরীক্ষা কেন কমছে

০৩ মে ২১ । ০০:০০

শৈবাল আচার্য্য

করোনার নানা উপসর্গ থাকার পরও রোগীদের অনাগ্রহে চট্টগ্রামে দিনদিন কমছে নমুনা পরীক্ষা। ফলে কমছে শনাক্তের হারও। এপ্রিলের শুরু থেকে চট্টগ্রামের ৯টি ল্যাবে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে এক থেকে দেড় হাজারে।

নমুনা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে অনেকের মাঝে কাজ করছে ভয় ও আতঙ্ক। নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে এসে নিজেও আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় অনেকের। এসব কারণে হঠাৎ করেই নমুনা পরীক্ষার হার অনেক কমে গেছে। তাতে প্রতিদিনই কমছে শনাক্তের হার। যদিও স্বাস্থ্য প্রশাসন বলছে ভিন্ন কথা, তাদের মতে সংক্রমণের হার আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে; কিন্তু এ কারণে নমুনা পরীক্ষার হার কমছে তা বলা যাবে না। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষকে করোনা পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের মতে, পুরো চট্টগ্রামে ৮০ শতাংশ মানুষ যেদিন করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আসবে, সেদিন এই মহামারি করোনা নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে আসতে পারে। এদিকে চট্টগ্রামেও ফুরিয়ে আসছে ভ্যাকসিন, প্রথম ডোজ নিতে পারেনি বেশিরভাগ মানুষ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণের আসল তথ্য বের করতে বেশি বেশি নমুনা পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন। তাদের মতে, ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের সময় যত বেশি পারা যায় নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। এর ফলে সংক্রমিত ব্যক্তিকে আইসোলেশন করার পাশাপাশি কন্ট্রাক্ট ট্রেসিংয়ে তার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা সম্ভব। এতে সংক্রমণের বিস্তারও রোধ করা সহজ হয়। এপ্রিলের শুরু থেকে চট্টগ্রামের ৯টি ল্যাবে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এক হাজার থেকে দেড় হাজারে দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে নমুনা পরীক্ষার হার কমার পেছনে নানা কারণকে দুষছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ সংশ্নিষ্টরা। তাদের মতে, নমুনা পরীক্ষা করাতে সংক্রমণের অধিক ঝুঁকি থাকা, পরীক্ষার ফলাফল পেতে দেরি হওয়া, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া, টেস্টিং ফি আরোপসহ বিভিন্ন কারণে মানুষের মধ্যে পরীক্ষা করানোর প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। এছাড়া লকডাউনের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঝামেলায় পড়বে এমন আশঙ্কা থেকেও অনেকে নমুনা পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হচ্ছেন না। নানা ভয়-আতঙ্ক থেকে লক্ষণ-উপসর্গ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরাও গুরুতর অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে শিশুসহ পাঁচ শতাধিক। আক্রান্তের সংখ্যা পার করেছে ৫০ হাজারের ঘর।

অনাগ্রহ নমুনা পরীক্ষায়, কমছে শনাক্তও :এপ্রিলের শুরু থেকেও চট্টগ্রামের ৯টি ল্যাবে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এক হাজার থেকে দেড় হাজারে দাঁড়িয়েছে। গত শনিবার ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে আক্রান্ত শনাক্ত হয় ১৮৫ জন। গত দুই সপ্তাহের নমুনা পরীক্ষার হার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ২৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদিন নতুন করে করোনা শনাক্ত হয় ১৮০ জনের শরীরে। একইদিন করোনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়। ২৯ এপ্রিল ১ হাজার ২৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৮০ জন। এদিন করোনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২৮ এপ্রিল ৯টি ল্যাবে ১ হাজার ৬৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০৫ জনের। এ সময়ে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ জন। ২৭ এপ্রিল ১ হাজার ৩৮৭টি নমুনা পরীক্ষায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২৪৫ জন। পরের দিন ২৬ এপ্রিল ১ হাজার ৩৬১টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয় ২০৮ জন। এছাড়া গত ২৫ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষা করা হয় মাত্র ১ হাজার ৩৩০টি। এছাড়া ২৪ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১ হাজার ৮১০টি, ২৩ এপ্রিল ২ হাজার ২৪২টি, ২২ এপ্রিল ১ হাজার ৭৬৫টি, ২১ এপ্রিল ১ হাজার ৪৪৬টি, ২০ এপ্রিল ১ হাজার ৫৫৬টি এবং ১৯ এপ্রিল ১ হাজার ১৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

মাত্র ৫ শতাংশ মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়েছে : করোনা সংক্রমণের পর থেকে এখন পর্যন্ত এক বছরে চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩৭১টি; যা চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ। আবার গত এক বছরে চট্টগ্রামে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে করোনা চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ হাজার ২৫৩ জন। জাতীয় তথ্য বাতায়ন চট্টগ্রাম বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় মোট জনসংখ্যা ৭৯ লাখ ১৩ হাজার। সে হিসেবে চট্টগ্রামে করোনার নমুনা পরীক্ষার হার ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ বলছেন তারা। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৪ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩৭১টি।

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ হাজার ৬৬২টি। গত এক বছরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে করোনার চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ হাজার ২৫৩ জন; এর মধ্যে গত মার্চ মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন মাত্র ৫২৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩৬ হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে ৩১ হাজার ১৫০ জনই হোম আইসোলেশনে থেকে এবং বাকি ৫ হাজার ৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬০০ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছে ৬৯৬টি শয্যায়। বাকি ৯০৪ শয্যা এখনও খালি রয়েছে।

করোনায় সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যুর রেকর্ড :করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১ জন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। মারা যাওয়াদের মধ্যে ৮ জন চট্টগ্রাম মহানগরের ও ৩ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সমকালকে জানান, ২৫ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এক দিনেই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দিন চট্টগ্রাম জেলায় এক হাজার ৩৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ১৭১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪১ জন মহানগরীর এবং ৩০ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এর আগে গত ১০ এপ্রিল চট্টগ্রামে এক দিনে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল সিভিল সার্জন কার্যালয়।

নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের :করোনা সংক্রমণের হারের সঠিক তথ্য বের পৃষ্ঠা ২ :কলাম ১

করতে বেশি বেশি নমুনা পরীক্ষা করার উপর তাগিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মূলমন্ত্র, নমুনা পরীক্ষা করা। নমুনা পরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলে কিংবা নমুনা পরীক্ষা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশিসহ অন্যদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। লকডাউনের সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নমুনা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটি করা হয়নি। লকডাউনে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় অনেকে নির্ধারিত কেন্দ্রে আসতে না পারায় নমুনা পরীক্ষা করাতে পারছেন না। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পৃথক পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। প্রত্যেকটি থানায় একটি করে নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করে জনসাধারণকে উৎসাহিত করা যেত। সেটিও করা হয়নি। পরীক্ষা কম হলে পরিসংখ্যানে আক্রান্ত কমলেও বাস্তবে তো উল্টোটা হবে।

ফুরিয়ে আসছে টিকা : চট্টগ্রামেও ফুরিয়ে আসছে করোনা প্রতিরোধক ভ্যাকসিন, যা মজুদ আছে তা দিয়ে আর মাত্র কিছুদিন চলবে। এদিকে, দ্বিতীয় ডোজ টিকা কার্যক্রম শুরু হলেও চট্টগ্রামে এখনও অধিকাংশ মানুষই দেননি প্রথম ডোজের টিকা। এরমধ্যে ভ্যাকসিন শেষ পর্যায়ে হওয়ায় টিকা দেওয়া না দেওয়া নিয়ে আশা নিরাশার দোলাচলে পড়েছেন অনেকে। নতুন করে টিকা না আসলে ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে ভ্যাকসিনের মজুদ রয়েছে ১১ হাজার ২০২ ভায়াল বা ১ লাখ ১২ হাজার ২০ ডোজ। এরমধ্যে ১৪ উপজেলায় মজুদের পরিমাণ ৫৩ হাজার ৭০০ এবং মহানগর এলাকায় ৫৮ হাজার ৩২০ ডোজ। এছাড়া প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহীতার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬০ জন এবং এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন ২ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ জন। সে হিসেবে এখনও ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৬ জন। যেহেতু ভ্যাকসিনের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২০ ডোজ। ফলে আরও ১ লাখ ৩২ হাজার ৮১৬ জন মানুষ ভ্যাকসিন বঞ্চিত থাকবেন। গত এক সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন ১৮ হাজার ৪৫১ জন, ২৪ এপ্রিল ১৯ হাজার ৯৪ জন, ২২ এপ্রিল ১৫ হাজার ৮০৫ জন, ২১ এপ্রিল ১৩ হাজার ৮০৪ জন, ২০ এপ্রিল ১৭ হাজার ৪৭০ জন, ১৯ এপ্রিল ১১ হাজার ৪ জন এবং ১৮ এপ্রিল ১৯ হাজার ৮৮৫ জন। গত এক সপ্তাহে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৫১৩ জন করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। সে হিসেবে দৈনিক গড়ে ১৬ হাজার ৫০১ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। দৈনিক গড়ে ১৬ হাজার মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে আগামি এক সপ্তাহ পরে ভ্যাকসিনের মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে।

মার্কেটে ক্রেতার ভিড়, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি :সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বন্দর নগরী চট্টগ্রামে খোলা হয়েছে শপিংমল, মার্কেট, বিপনি বিতানসহ ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রথম দিনেই বৃহৎ পাইকারি মার্কেটগুলোতে ক্রেতার সমাগম ঘটে। তবে অভিজাত মার্কেট ও শপিং সেন্টারে কম ছিল ক্রেতার সমাগম। যেসব মানুষ কেনাকাটা করতে মার্কেটে ছুটে আসেন তাদের বেশিরভাগের মুখে ছিল না মাস্ক। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারেও বেশিরভাগ মানুষ ছিল উদাসীন। মার্কেট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে নেওয়া হয়নি আশানুরূপ কোন ব্যবস্থা।

নগরের রেয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেইন, জহুর হকার্স মার্কেটের মতো বৃহৎ পাইকারি মার্কেটে প্রথমদিন থেকেই ক্রেতার সমাগম ঘটে। তবে নগরের অভিজাত নিউ মার্কেট, সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেট, মতি টাওয়ার, আমীন সেন্টার, আফমি প্লাজা, সানমার ওশান সিটি, ইউনেস্কো সেন্টারসহ বেশকিছু বিপনি বিতানের ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসলেও ক্রেতার সমাগম কিছুটা কম। তবে ঈদের শেষ সপ্তাহে ক্রেতার সমাগম বহুগুণ বাড়বে বলে ধারণা সংশ্নিষ্টদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, লকডাউনের আগে অনেকে ঈদের কেনাকেটা করেছেন। এ কারণে দোকান খোলার প্রথম দিনে ক্রেতার সমাগম কম। তবে লকডাউন পুরোপুরি উঠে গেলে মার্কেটে ক্রেতার সমাগম বাড়বে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির জেলা সভাপতি সালেহ আহমেদ সুলেমান বলেন, 'গত বছরের ক্ষতি এখনো পুষিয়ে উঠতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এবার ঈদকে টার্গেট করে অনেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। মার্কেট খোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল মার্কেট কর্তৃপক্ষকে দোকানপাট খুলতে বলা হয়েছে। এজন্য ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। লকডাউনের কারণে সড়কে গণপরিবহন নেই। যে কারণে অনেকে দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মার্কেটে আসেনি। গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হলে মার্কেটে ক্রেতার ভিড় অনেকগুণ বেড়ে যাবে। এবারের ঈদে কিছু পণ্য বিক্রি করে গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার চেষ্টা করবেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।'

রেয়াজউদ্দিন বাজারের বিক্রেতা মোখলেছুর রহমান বলেন, 'রোববার সকাল থেকে সরকারি নির্দেশনা মেনে দোকান খুলেছি। প্রথম দিনে মোটামুটি ক্রেতার সমাগম হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার দায়িত্ব মার্কেট কর্তৃপক্ষের; তারপরেও নিজেদের উদ্যোগে দোকানে স্প্রে'র ব্যবস্থা রেখেছি। এ ব্যাপারে ক্রেতাদেরকেও অনেকবেশি সচেতন হতে হবে।'

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাঠে জেলা প্রশাসন :লকডাউন শতভাগ সফল করতে ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে করোনার এমন দুঃসময়েও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। সচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসন অব্যাহত রেখেছে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের মতো ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগ। মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে দেওয়া হচ্ছে মামলা; করা হচ্ছে জরিমানাও। ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একযোগে নগরজুড়ে অভিযান চালিয়ে একদিনে ১২ মামলায় ২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০০ মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। অভিযানে শপিং মল ও দোকানপাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান মেহেবুব, আশরাফুল হাসান, মাসুমা জান্নাত, মামনুন আহমেদ অনিক, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, মো. উমর ফারুক, মো. আশরাফুল আলম, মো. আলী হাসান, মিজানুর রহমান, প্রতীক দত্ত ও পস্নাবন কুমার বিশ্বাস। এর আগের দিন জেলা প্রশাসনের ১৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছেন। এতে ২৮ মামলায় ৭ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ১ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়।

যা বললেন সংশ্নিষ্টরা :চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, 'করোনা সংক্রমণের পর থেকে চট্টগ্রামে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ নমুনা পরীক্ষার আওতায় এসেছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সঠিক তথ্য নির্ণয় করতে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।' সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য তুলে ধরে আ জ ম নাছির বলেন, 'গত বছরের ৪ এপ্রিল থেকে গত ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩৭১টি। তবে বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার মোট জনসংখ্যা ৭৯ লাখ ১৩ হাজার। জনসংখ্যার এই পরিমাণ অনুপাতে চট্টগ্রামে করোনার নমুনা পরীক্ষার হার মাত্র ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।'

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সবাইকে মাস্ক পরতে নির্দেশনা দিয়েছেন। শুরু থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বিষয়টির দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কিন্তু এসবের কিছুই তোয়াক্কা করছেন না বেশিরভাগ মানুষ। যার যেমন ইচ্ছে তেমন নীতিতেই চলছে তারা। মাস্ক না পরে ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মার্কেট চললে তার খেসারত দিতে হবে সবাইকে।'

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, 'করোনা সংক্রমনের আসল তথ্য মেলানো কঠিন। আক্রান্তের খুব অল্প একটি অংশ হাসপাতালে আসে। অনেকে আবার ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন। তবে করোনার লক্ষণ দেখা গেলে দেরি না করে চিকিৎসক দেখানো উচিত। অবহেলা করলে একজনের ভুলের খেসারত অনেককে দিতে হতে পারে।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com