সুঁইয়ের খোঁচাও সইতে হয়েছে ৩ কিশোরকে

০৪ মে ২০২১

দিনাজপুর প্রতিনিধি

চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন-সংগৃহীত

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ছাগল চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে এক শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ তিন কিশোরকে নির্যাতনের মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, শুধু মারধরই নয়, তিন কিশোরের গলায় চাকু ধরে এবং পায়ে সুঁই দিয়ে খুঁচিয়ে জখমও করেছে নির্যাতকরা। ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে দুই কিশোর।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলো- উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের মৃত আজিম উদ্দীনের ছেলে আফজাল হোসেন (৫৫), মহসীন আলীর ছেলে শাকিব বাবু (২৫), আব্দুল হালিমের ছেলে মমিনুল ইসলাম (২৮), মৃত ইউনুস আলীর ছেলে পলাশ হোসেন (২৮) ও জাফরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিপন ইসলাম (২৪)।

ফুলবাড়ী থানার ওসি ফখরুল ইসলাম জানান, গাছে বেঁধে তিন কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় রোববার বিকেলে থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের হয়। নির্যাতনের শিকার শারীরিক প্রতিবন্ধী সৈয়দ শামীম হোসেনের বাবা সৈয়দ আব্দুর রহিম ও রাকিবুল ইসলামের বাবা মোমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় অভিযোগ দুটি করেন। এতে রামভদ্রপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাকিম সরকার বাবু মাস্টারসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় তিনজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুপচাঁদ নামের এক ব্যক্তির ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে গত শনিবার শিক্ষক মোস্তাকিম সরকার (৫০), শাকিব (২৫), শিপন (২৬), রেজাউল (৫৫), আফজার হোসেন (৬০), শুভ (২৪), হৃদয় (২৫), নূরনবীসহ (২৬) কয়েকজন মিলে তিন কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে জখম করে। মারধর শেষে চুরির স্বীকারোক্তি নিতে সিরিঞ্জের সুঁই তিন কিশোরের পায়ের তালুতে ফুটিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। পরে মোস্তাকিমসহ তার সহযোগীরা আহত কিশোর তিনজনকে ছাগল চোর আখ্যা দিয়ে শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করে। সেখানে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই নির্যাতনের ঘটনার পর গ্রামের মাতবরদের নির্যাতনের ভয়ে নিখোঁজ হয়েছে নাঈম (১৪) ও নূর আলম (১৫) নামের আরও দুই কিশোর।

জানা গেছে, নির্যাতনের ঘটনার পর ওই রাতেই গ্রাম্য সালিশ বসে গ্রামের আমিন ড্রাইভারের উঠানে। সেখানে নিখোঁজ দুই কিশোরকে তিন দিনের মধ্যে হাজির করার জন্য অভিভাবকদের নির্দেশ দেন মাতবররা। হাজির করতে ব্যর্থ হলে জরিমানা হিসেবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার সৈয়দ শামীম হোসেন ও রাকিবুল ইসলামের ভাষ্য, হঠাৎ শিক্ষক মোস্তাকিম সরকারসহ তার লোকজন তাদের মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। ছাগল চুরির অপবাদে তাদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনকারীরা পাশের কলাবাগানে নিয়ে গলায় চাকু ধরে পায়ে ইনজেকশন সিরিঞ্জের সুঁই দিয়ে খোঁচাতে থাকে। নির্যাতন সইতে না পেরে বাধ্য হয়ে চুরির অপবাদ স্বীকার করতে হয়েছে তাদের। কিন্তু তারা চুরি সম্পর্কে কিছুই জানে না। এ ঘটনার পর তাদের দুই বন্ধু নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজ নাঈমের মা শাহানুর বানু বলেন, 'আমার ছেলের কিছু হলে এর জন্য বাবু মাস্টারসহ (মোস্তাকিম সরকার) তার লোকজন দায়ী থাকবে'।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com