বেড়িবাঁধটি স্থায়ী সড়কে রূপান্তর হবে কবে

অস্থায়ী বাঁধের পেছনে প্রতিবছর ব্যয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা

০৭ মে ২১ । ০০:০০

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে খরচার হাওরের এই বাঁধটি পাকা করার দাবি এলাকাবাসীর-সমকাল

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের একটি বেড়িবাঁধ সারা বছরের জন্য চলাচলের উপযোগী করতে পাকা সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন দুই উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বছর বছর ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে সরকারি বরাদ্দে বাঁধটি স্থায়ী ও পাকা সড়কে রূপান্তর করার পক্ষে এলাকাবাসী। এতে করে একদিকে বছরে বছরে বাঁধের ব্যবসা বন্ধ হবে এবং স্থায়ী সড়কের মাধ্যমে বাঁধের কাজও হবে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিশ্বম্ভরপুর বাজার থেকে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নিয়ামতপুর বাজার পর্যন্ত উঁচু বেড়িবাঁধকে স্থায়ী সড়কে রূপ দিলে কয়েক হাজার মানুষ শুকনো ও বর্ষা মৌসুমে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে।

বিশ্বম্ভরপুর বাজার থেকে রাধানগর, রায়পুর, ছাতলপাড়, জিরাগ তাহিরপুর হয়ে সদর উপজেলার গৌরারং ইউপির নিয়ামতপুর গ্রামের পাকা সড়ক পর্যন্ত বেড়িবাঁধে কাজ হয় প্রতি বছর। এবারও লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়েছে এই বাঁধ। প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে নির্মিত এই বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের একাংশের মানুষ এবং ফতেহপুর ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু বর্ষায় তারা পড়েন যাতায়াতের ভোগান্তিতে।

ফতেহপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুশ শহীদ বলেন, শুকনো মৌসুমে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এবং বাজারে যেতে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে ছোট ছোট যানবাহন চলে। কিন্তু বর্ষায় বেড়িবাঁধ ভেঙে দেওয়ায় নৌকায় যেতে হয়। বেড়িবাঁধকে সড়কে রূপ দিলে এখানকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।

কলেজ শিক্ষার্থী আবদুল বাছিত বলেন, এই বেড়িবাঁধকে স্থায়ী সড়কে রূপ দিলে পরিবেশ প্রতিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং গৌরারং ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজে লেখাপড়া করার সহজ যোগাযোগ সড়ক তৈরি হবে। এতে দুই উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি হবে।

ছাতলপাড় গ্রামের সালেক মিয়া, জাহানুর মিয়া, আনফর আলী ও তাজ মিয়া বলেন, প্রতি বছর আমাদের গ্রামের পাশে নির্মিত বেড়িবাঁধ ভাঙে হাওরের আফালে। যদি বেড়িবাঁধের দুই পাশে ব্লক দিয়ে আরসিসি ঢালাই করে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হতো, তবে ফসল রক্ষা হতো, গ্রামও বাঁচত এবং মানুষের চলাচলের সড়কও হতো।

ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রণজিত চৌধুরী রাজন বলেন, বিশ্বম্ভরপুর বাজার থেকে হাওরের পাশ দিয়ে নিয়ামতপুর সড়ক পর্যন্ত প্রতি বছর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। যদি এই বেড়িবাঁধ জন চলাচল সড়কে পরিণত করা যায়, তবে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধকে সড়ক হিসেবে নেওয়ার আগে খরচার হাওরের পানি নিস্কাশন, মাছের অভয়াশ্রম এবং হাওরে ধানের ফলন নিয়েও ভাবতে হবে। একটি পরিকল্পিত কর্মপন্থার মাধ্যমে এই বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান দিয়ে নৌকা আসা-যাওয়ার ব্যবস্থাসহ কয়েকটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করে স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা যেতে পারে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com