সিপিডির সংলাপে অভিমত

পোশাক খাতে ক্ষতির ভাগ ক্রেতাদেরও নিতে হবে

০৯ মে ২১ । ০০:০০

সমকাল প্রতিবেদক

করোনার অভিঘাতে তৈরি পোশাকের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করপোরেট জবাবদিহির অংশ হিসেবে এ ক্ষতি ভাগাভাগি করে নেওয়ার কথা সব পক্ষের। তবে এ কঠিনকালে দায় এড়িয়ে চলছে বিদেশি ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা।

শনিবার এক সংলাপে এমন মত দিয়েছেন উদ্যোক্তা, শ্রমিক নেতা এবং গবেষকরা। তারা মনে করেন, অন্য পক্ষের ক্রেতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এ উদ্দেশ্যে দেশের আইনেও কিছু পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে। ন্যায্য বাণিজ্যে তাদের বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরতে হবে।

'কভিড মহামারিতে পোশাক খাতে করপোরেট জবাবদিহিতা :শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জ' শিরোনামের এই ভার্চুয়াল সংলাপের আয়োজন করে গবেষণা সংস্থা সিপিডি। সজাগ ফাউন্ডেশন এতে সহযোগিতা করে। সংলাপে সিপিডির একটি জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে দেখানো হয়, পোশাক খাতের ছোট আকারের ৭৭ শতাংশ কারখানায় করপোরেট মূল্যবোধের চর্চা নেই। ৮২ শতাংশ কারখানায় করপোরেট মূল্যবোধ আছে। তবে তা প্রকাশিত নয়।

সিপিডির প্রতিবেদন উপস্থাপনা করেন সংস্থার গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। জরিপে দেখা যায়, করোনাকালে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেনি ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ কারখানা। তাদের ৩৬ শতাংশ বেতনের একটা অংশমাত্র পেয়েছে। ৪১ শতাংশ মালিক বলেছেন, তারা ছাঁটাই করার সময় শ্রমিকদের সমুদয় প্রাপ্য পরিশোধ করেছেন।

সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, পোশাকের দর নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে ঠকানো হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতা এবং ব্র্যান্ডগুলো ন্যায্য দর দেয় না। করোনায় একতরফাভাবে পোশাকের দর কমিয়েছে তারা। গবেষণায় এ বিষয়ে আরও আলোকপাত করা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ে রপ্তানি করা পণ্যের দাম এখনও দেয়নি অনেক ক্রেতা। অথচ এর মধ্যেই দর কমেছে পোশাকের। রানা প্লাজা ধসের পর সংস্কারের সঙ্গে করপোরেট চর্চায়ও অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনাকালে ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা অন্যায্য বাণিজ্য করছে। তারা যা খুশি তা-ই করছে। করোনার ক্ষতি সব পক্ষকেই ভাগ করে নিতে হবে। অথচ ক্রেতারা দায় নিচ্ছে না। একতরফা উদ্যোক্তাদের ঘাড়েই সব চাপ নিতে হচ্ছে। ক্রেতাদের এ ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে দেশে-বিদেশে সোচ্চার হতে হবে।

সংলাপ সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও শ্রমিক সবার মধ্যে সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পোশাকের দর এবং মুনাফা বাড়লে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে শ্রমিকরাও উপকৃত হবেন।

মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, বাংলাদেশের আইনে ক্রেতাকে জবাবদিহির আওতায় আনার আপাতত কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে করোনার সংকটে যেখানে ক্রেতাদের সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল, সেটা একেবারেই হয়নি। শ্রমিকনেত্রী কল্পনা আক্তার বলেন, এ দেশের মালিক-শ্রমিকরা ক্রেতাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। অথচ তারা দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড করছে। এ বিষয়ে বিশ্বফোরামে কথা বলা দরকার।

সংলাপে আরও অংশ নেন, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বিজিএমইএর পরিচালক আব্দুল্লাহিল রাকিব, শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ, নুরুল ইসলাম, বাবুল আক্তার, চায়না রহমান প্রমুখ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com