দেশের চিত্র

ভয় জাগাচ্ছে ভারতীয় ধরন

করোনায় আক্রান্ত আরও ১৩৮৬, মৃত্যু ৫৬

১০ মে ২১ । ০০:০০

সমকাল প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশে আতঙ্ক বাড়ছে। দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানো এ ধরনটি শনিবার কয়েকজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার ভারত থেকে ফেরা আরও ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর আগে শনিবার ভারত থেকে ফেরা আরও পাঁচজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তবে তারা করোনার কোন ধরনে সংক্রমিত তা জানা যায়নি।

ভারত থেকে করোনা সংক্রমিত হয়ে দেশে ফেরা ১৯ জনকে যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়। তিনি সমকালকে বলেন, গতকাল ভারত থেকে আসা করোনা পজিটিভি যাত্রীরা কোন ধরনে আক্রান্ত, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আক্রান্তদের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পর এটা বলা যাবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হবে বলে জানান তিনি।

এর মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিন দিন পর গত চব্বিশ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছাড়াল। এ নিয়ে করোনায় মোট ১১ হাজার ৯৩৪ জনের মৃত্যু হলো। একই সঙ্গে গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ৩৮৬ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাত লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ জনে পৌঁছাল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনার ভারতীয় ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিমত, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটি আগেই দেশে শনাক্ত হয়েছে। এপ্রিলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনে সংক্রমিত ছিলেন। এখনও যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তারা এই দু'দেশের ধরনে সংক্রমিত হচ্ছেন। এর মধ্যেই ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। এ ধরনটি দেশে সংক্রমণ ছড়ালে তা অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। ঈদ সামনে রেখে হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদি করে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন এবং ফিরে আসবেন। এতে করে জুন-জুলাই মাসে করোনার তৃতীয় ধাপের সংক্রমণ শুরু হতে পারে। সুতরাং ওই ধরনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঈদযাত্রায় লাগাম টানা প্রয়োজন।

সরকারও করোনার ভারতীয় ধরন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভারত থেকে বিপজ্জনক বার্তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সামান্যতম উদাসীনতা বিপজ্জনক ভবিষ্যতেরই পূর্বাভাস। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের অভাসও পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

গত কয়েক সপ্তাহে নতুন ধরনের সংক্রমণে ভারত বিপর্যয়ে পড়েছে। এ ধরনটি অধিক সংক্রমণপ্রবণ। আগের ধরনের তুলনায় এটি দ্রুত মানুষকে আক্রান্ত করে। একই সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় ও মৃত্যু ঘটায়। ভারতে অক্সিজেনের অভাবে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। এ ধরনটি বাংলাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ভারতের দিকে তাকালে করোনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করা যায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কয়েক লাখ করে মানুষ প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুবরণ করছেন কয়েক হাজার মানুষ। সুতরাং ভারতীয় নতুন ধরনটি কী ধরনের সংক্রমণপ্রবণ তা এ চিত্র থেকে অনুধাবন করা যায়। ভারতে অক্সিজেনের অভাবে বহু মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন। বাংলাদেশেও এ ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। এটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে তা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা স্বাস্থ্য বিভাগের নেই। সুতরাং সতর্কতা অবলম্বনের বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

দেশের চিত্র :গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। দেশে বর্তমানে শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৮১ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিন হাজার ৩২৯ জন। সংক্রমিত হওয়ার পর সর্বমোট সাত লাখ ১০ হাজার ১৬২ জন সুস্থতার তালিকায় এসেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গতকাল মৃতদের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুবরণ করাদের ৭২ দশমিক ৫১ শতাংশ পুরুষ এবং ২৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ নারী। গত চব্বিশ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২২ জন, চট্টগ্রামের ১১ জন, খুলনার চারজন এবং রাজশাহীর তিনজন। বরিশাল ও রংপুরে দু'জন করে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহে একজন করে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৩৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১৫ জন এবং বাসায় মারা গেছেন পাঁচজন। মৃতদের বয়স বিশ্নেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন ৩০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ২৮৫ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৫১২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৭৪৬ জন। এ সময় নতুন করে কোয়ারেন্টাইনে এসেছেন ৭৭৪ জন এবং ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ৩৭৪ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৭ হাজার ৮৮৭ জন।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৩৩তম। তবে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বর্তমান অবস্থান ৩৭তম।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com