ইন্টারনেটে আসক্তি ও সতর্কতা

১১ জুন ২১ । ০০:০০

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী

আজকাল ছেলেমেয়েদের অনেকেই ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্করাও এখন ফেসবুকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট, ফেসবুক, মেসেঞ্জার তথা স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রতারণা, ছলচাতুরী বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি এর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদেরও প্রভাব রয়েছে। ইন্টারনেটে গেম খেলাও অনেকের একধরনের নেশায় পরিণত হয়েছে।

করোনার এই ক্রান্তিকালে শিক্ষার্থীসহ ঘরে যারা অবস্থান করছেন, তারা দিন দিন ফেসবুক ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফেসবুককে পুরোপুরি ক্ষতিকর বা নেতিবাচক বলছি না, তবে যে কোনো কিছুতেই প্রচণ্ড আসক্ত হয়ে যাওয়া খারাপ; তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক ছেলেমেয়ে সারারাত ফেসবুক ব্যবহার করে ভোরে ঘুমাতে যায়। ফেসবুক বা ইন্টারনেট আসক্তরা মূলত প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার চলছে ফেসবুকে, ইউটিউবে এবং একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। এই ফেসবুকের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী বিপথে পা বাড়াতে দ্বিধা করছে না। মাদকের নেশার মতো এই ইন্টারনেট-ফেসবুক। যার কারণে ছেলেমেয়ে পারিবারিক বন্ধন উপেক্ষা করে বদরাগী, খিটখিটে মেজাজ, চিৎকার-চেঁচামেচি, কথা কম বলা এবং একাকী থাকতে পছন্দ করছে।

ফেসবুক বা ইন্টারনেটের কারণে পারিবারিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফেসবুকের অতি ব্যবহার নিয়ে পারিবারিক কলহ, অশান্তি, সাংসারিক মনোমালিন্য লেগেই আছে। যতই দিন যাচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি চক্র প্রেম-প্রতারণার অভিনয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভন বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা অহরহ ঘটতে শোনা যায়। বলা বাহুল্য, ফেসবুক, ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন অনেক পরিবারের বন্ধনে দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে অথচ পিতামাতা বা অভিভাবক হিসেবে কারও করার কিছু থাকে না। তাই ফেসবুক ব্যবহার করার পাশাপাশি এটি যেন কোনোভাবেই আমাদের ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্ব হাতের মুঠোয় এলেও এর অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্নিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ফরিদাবাদ, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com