খালের বাঁধ কাটা হয়েছে, রয়ে গেছে অস্থায়ী রাস্তা

বর্ষায় বিপর্যয়ের শঙ্কা

১৩ জুন ২১ । ০০:০০

আবদুল্লাহ আল মামুন

নগরীর ঝর্ণাপাড়া আজব বাহার খালের বাঁধ সরানো হলেও, এ রকম অনেক খালের বুকে রয়ে গেছে অস্থায়ী সড়ক-সমকাল

নগরের পানি নিস্কাশনের প্রধান মাধ্যম চাক্তাই খাল। খালের দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের জন্য খালের ভেতরে মাটি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। গাড়ি দিয়ে নির্মাণসামগ্রী নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয় এ রাস্তা। গত ৬ জুন সকালে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় খালটির আশপাশের এলাকা। শুধু চাক্তাইখাল নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের জন্য নগরের অন্তত ১৫টি খালের ভেতর অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ফলে পানি চলাচলের পথ সরু হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি নামতে তৈরি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থায়ী বাসিন্দাদের দাবি, খালের ভেতর এসব অস্থায়ী বাঁধ ও রাস্তার কারণে এবারের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে এসব রাস্তা অপসারণ করা না হলে নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও নগরবাসী চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের শুরু থেকে খালের ভেতরের বাঁধ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। বাঁধ ও রাস্তাগুলো সরিয়ে নিতে বারবার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার কথায় কর্ণপাত করেনি জলাবদ্ধতা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সিডিএ।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, 'প্রতিরোধ দেয়াল, সিলট্র্যাপ ও স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য খালের ভেতর দেওয়া অস্থায়ী বাঁধগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে খালের ভেতরের রাস্তাগুলো এখনও পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কাজ চলছে। সবগুলো রাস্তা অপসারণ করা হলে তখন আর পানি আটকে থাকবে না।' তিনি বলেন,'শুধু খাল পরিস্কার থাকলে হবে না, খালের সঙ্গে সংযুক্ত ছোট-বড় নালাগুলো পরিস্কর রাখতে হবে। এগুলো পরিস্কারের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। নয়তো খাল পরিস্কার করলেও পানি নামতে পারবে না, আটকে থেকে জলাবদ্ধতা হবে।'

সিডিএ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের আগস্টে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে 'চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। সিডিএ'র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০১৮ সালের সালের ২৮ এপ্রিল খালের আবর্জনা অপসারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রকল্পের কার্যক্রম।

ইতোমধ্যে নগরের ৩৫টি খাল থেকে ৩ হাজার ১৮৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ৫৪টি ব্রিজ-কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষের পথে। তবে পাঁচটি খালের মুখে স্লুইসগেট নির্মাণ কাজ চলছে। খালগুলোর পাশে ১৭৬ কিলোমিটার প্রতিরোধ দেয়ালের মধ্যে ৫৮ কিলোমিটারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পাহাড়ি বালু আটকানোর জন্য ৪২টি সিল ট্র্যাপের মধ্যে ১৫টির কাজ চলছে। খালের দু'পাড়ে ৮৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে মাত্র দেড় কিলোমিটার।

প্রকল্পটির আওতায় খালের মুখে স্লুইসগেট, সিলট্র্যাপ ও দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের জন্য খালের বিভিন্ন অংশে অস্থায়ী বাঁধ এবং মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। চাক্তাই খাল, নাছির খাল, মরিয়ম বিবি খাল, টেকপাড়া খাল, গয়নাছড়া খাল, আজববাহার খাল, রাজাখালী খাল, ডোমখালী খাল, চশমা খাল ও ফিরিঙ্গীবাজারখালসহ অন্তত ১৫টি খালে অস্থায়ী বাঁধ ও রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

সরেজমিন নগরের চাক্তাই খাল, রাজাখালী খাল, মরিয়ম বিবি খাল, চশমা খাল ও টেকপাড়া খাল ঘুরে দেখা গেছে, এখনও খালের ভেতরের বিভিন্ন অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে। পানি চলাচলের জন্য এক পাশ খোলা রাখা হলেও তা খুবই সরু প্রয়োজনীয় প্রশস্ততা না থাকায় পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত ৬ জুন বৃষ্টিতে এসব খালের উভয় পাড় পানি উপচে পড়েছে। পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায়ও পানি নামেনি।

বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা সারওয়ার কামাল বলেন, 'বৃষ্টিতে আগেরদিন ওঠা পানি পরদিন সকাল পর্যন্ত ছিল। পরে আস্তে আস্তে নেমে গেছে। অন্য বছর পানি উঠলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেমে যেত। এবার পুরো একদিন পানি আটকে ছিল।' বারইপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিমু আক্তার বলেন, 'এবারের মতো জলাবদ্ধতা আর কখনও হয়নি। এবার পানি আটকে থাকায় রান্নাবান্না পর্যন্ত করতে পারিনি।' সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আবু আজাদ বলেন, 'বাসার সামনে পানি ২৪ ঘণ্টা আটকে ছিল। পরে আস্তে আস্তে কমেছে।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com