সামাজিক সুরক্ষার বরাদ্দে শুভঙ্করের ফাঁকি

১৮ জুন ২১ । ০০:০০

সমকাল প্রতিবেদক

বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার বরাদ্দ শুভঙ্করের ফাঁকিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদের দেনা, কৃষিতে ভর্তুকি ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাও দেওয়া হয় এ খাত থেকে। জাতীয় আয়ের ন্যায্য হিস্যা অনুপাতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ হয় না। আবার যতটুকু বরাদ্দ আছে তাও ঠিকমতো পায় না প্রকৃত সুবিধাভোগীরা। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সামাজিক সুরক্ষার বরাদ্দে নতুন দরিদ্রদের বিবেচনা করা হয়নি।\হবাজেট-সংক্রান্ত এক সামাজিক সংলাপে গতকাল বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন বক্তারা। 'কভিডকালীন বাজেট সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানে কী আছে' শিরোনামের এই সংলাপ যৌথভাবে আয়োজন করেছে সিপিডি, অক্সফ্যাম ও এসডিজি অর্জনে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। সংলাপটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়।\হমাথাপিছু জাতীয় আয় অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেন বক্তারা। নতুন দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করা, দুর্নীতি বন্ধ করা ও প্রকৃত সুবিধাভোগীর হাতে সরকারের বরাদ্দ পৌঁছাতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে ব্যবহারের পরামর্শ দেন তারা। সংসদে বাজেট আলোচনা আরও অর্থবহ করার কথাও বলেন বক্তারা।\হসংলাপে সিপিডির পক্ষ থেকে সামাজিক সুরক্ষা খাতের ওপর একটি বিশ্নেষণ তুলে ধরা হয়। এতে সংস্থার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান দেখান, অপ্রাসঙ্গিক এবং আলোচিত চার খাতে ব্যয় হবে সামাজিক সুরক্ষার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেট সামাজিক সুরক্ষায় শিশু, শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধীদের বরাদ্দ কমেছে। বেড়েছে নারী এবং বৃদ্ধদের।\হসংলাপে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, প্রচলিত বাজেট আলোচনা এক ধরনের নাটক। এ ধরনের বাজেট আলোচনার কোনো মানে হয় না। বাজেট আলোচনায় এলাকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন সংসদ সদস্যরা। গলায় প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে একজনকে এলাকার বাঁধের জন্য দাবি করতে দেখা গেছে। অনেক সংসদ সদস্য কিছু না বুঝেই বাজেটের প্রশংসা করেন।\হবাজেটের কাঠামোতে বড় ধরনের গলদ আছে উল্লেখ করেন তিনি।\হসংলাপে উপস্থিত দুই সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন এবং অধ্যাপক আলী আশরাফের উদ্দেশে রেহমান সোবহান বলেন, 'তোমরা আমার ছাত্র ছিলে। ওই সময় তোমাদের লেখাপড়ার কাজ দিয়েছি। আজ আরও একটি কাজ দিচ্ছি, তোমরা সংসদে আসলে কতক্ষণ বস, বাজেট আলোচনায় কতক্ষণ কথা বলতে পার, তা আমাকে জানাও।'\হএ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বাজেট আলোচনায় ১০ মিনিটের বেশি কথা বলতে পারেন না তারা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ১০ মিনিটে সব কথা বলা সম্ভব না। সংসদে বাজেট আলোচনা আসলে অর্থহীন।\হসংলাপে জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, জাতির পিতা সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। এখন সেই রেওয়াজ নেই। বাজেট আমলানির্ভর হয়ে গেছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়।\হসামাজিক নিরাপত্তার বরাদ্দ প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে এ খাতের বরাদ্দ শুভঙ্করের ফাঁকিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদের একটি অংশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া হয় এ খাত থেকে। জাতীয় আয় অনুযায়ী ন্যায্য হিস্যা অনুপাতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ হয় না। আবার যতটুকুই বরাদ্দ আছে তা ঠিকমতো পায় না প্রকৃত সুবিধাভোগীরা। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক সুরক্ষায় চার খাত বাদ দিলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমেছে। অথচ দেশে দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে।\হঅন্যদের মধ্যে সংলাপে অংশ নেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, অক্সফ্যামের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. দীপঙ্কর দত্ত, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আশিকুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লায়লা আশরাফুন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী প্রমুখ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com