ব্যবসায় দেওয়া সুবিধার সঠিক বাস্তবায়ন চাই

২২ জুন ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুন ২১ । ০০:২১

সমকাল প্রতিবেদক

বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেসব সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা সুবিধা পেতে গিয়ে যাতে হয়রানির শিকার না হন। সোমবার ব্যবসায়ীদের সংগঠন এমসিসিআই ও গবেষণা সংস্থা পিআরআই আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় বক্তারা এমন সুপারিশ করেন।\হজুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার। অনুষ্ঠানে বাজেটের বাস্তবায়ন, তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি, কম রাজস্ব সংগ্রহ, সামাজিক নিরাপত্তার বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।\হআলোচনা সভার প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে সরকার উদারভাবে সহায়তা দিচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান হবে। সম্প্রতি করোনার কারণে সাময়িকভাবে কিছু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। সরকারের চিন্তায় তারা আছেন। ফলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সবাই মিলে নতুন ও পুরোনো দরিদ্রদের উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে।\হপরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিষয় করোনার টিকা দেওয়া। সেজন্য সরকার কাজ করছে। বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটের বাস্তবায়ন বাড়াতে হলে অনেক আইন পরিবর্তন করতে হবে। আমলারা বইয়ের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেন। আইনের বাইরে যেতে পারেন না। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমলের স্বৈরশাসকরা তাদের প্রয়োজনে যেসব আইন করেছিল, সেগুলোতে দেশ চলছে। এসব আইনে হাত না দিলে বাজেট বাস্তবায়নসহ অন্য অনেক কিছুই পরিবর্তন করা যাবে না।\হঅর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, দেশ এগোচ্ছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তা অকপটে বলছেন। কিন্তু দেশে অনেকেই সমালোচনার জন্য সমালোচনা করছেন। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, সরকার বেশি ব্যয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ অর্থনীতির রূপান্তরে ভূমিকা রাখবে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, করপোরেট করহার কমানো হয়েছে। আগাম আয়কর বিষয়েও সরকার নিশ্চই ভাববে। ভ্যাট আদায় আরও সহজ করা হবে।\হপিআরআই চেয়ারম্যান জায়দি সাত্তার বলেন, মেগা প্রকল্পগুলো শেষ হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। তবে সরকারি ব্যয় আরও বাড়াতে হবে। এখনও স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যয় হচ্ছে। এজন্য সরকারকে রাজস্ব সংগ্রহও বাড়াতে হবে।\হপিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাজেটের মূল কেন্দ্রে করোনার টিকা থাকা উচিত। টিকা ছাড়া অন্য কিছু বলে লাভ নেই। কারণ, করোনার সংক্রমণ থামানো না গেলে অন্যান্য উদ্যোগ হালে পানি পাবে না। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান থমকে যাবে। এজন্য টিকা দিতেই হবে। ব্যাপক কর্মসূচি নিতে হবে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে সিংহভাগ মানুষকে টিকা দিতে হবে।\হমূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, করোনার মধ্যে অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো। এতে করোনার প্রভাব মোকাবিলা সহজ হবে। রপ্তানি আয় বাড়ছে। রেমিট্যান্সে অনেক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বেড়েছে। সামনের দিনগুলোতে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখছেন তিনি। চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাজেটের বাস্তবায়ন। আরও একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিসিআইর ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন উপকমিটির চেয়ারম্যান আদিব এইচ খান। তিনি আগাম আয়কর কমানো, ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন সহজ করার সুপারিশ করেন।\হএমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, বাজেটে দেওয়া সুবিধা কীভাবে ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাবে তার ওপর নির্ভর করছে এসব উদ্যোগের সুফল দেশ কতটুকু পাবে, তার ওপর। সুফল পাওয়ার জন্য সরকারের ব্যয় যাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।\হফিকি সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, করপোরেট করহার কমানো অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে। প্রচার-প্রচারণায় ব্যয়ের ওপর সীমাবদ্ধতা থাকায় পণ্যের প্রসারে এক ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। আবার নূ্যনতম করহারের বিধান অপরিবর্তিত রাখায় ব্যবসায়ীদের অনেকের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এ দুটো বিষয় পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাব করেন তিনি।\হঅনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান এমসিসিআইয়ের সহসভাপতি আনিস এ খান।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com