বিশেষ লেখা

সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

প্রকাশ: ০১ জুন ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ০১ জুন ২১ । ০২:৩৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

'নকল পণ্য কিনবো না, নকল পণ্য বেচবো না' শীর্ষক প্রচারাভিযান অত্যন্ত সময় উপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। আমি 'সমকাল'কে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। ১২ মার্চ ২০২০ প্রথমবার এবং ৩ এপ্রিল ২০২১ দ্বিতীয়বারের মতো এই প্রচারাভিযানের আয়োজন করা হয়। এই মহতী উদ্যোগে সমকালের সঙ্গে অংশীদার- বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই ও জেসিআই বাংলাদেশসহ সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা এ ক্ষেত্রে সহযোগী অংশীদার হয়ে প্রচারাভিযান ও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, তাদের সকলের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাকে এই প্রচারাভিযানে যুক্ত করার জন্য সমকালকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

জাতীয় সংসদে নকল পণ্য ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষতিকর প্রভাব ও খাদ্যে ভেজাল বিষয়ে

আলোচনা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ ও নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় আইন পাস হয়েছে। নকল পণ্য প্রতিরোধ একটি জটিল (Complex) বিষয়। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। কাজেই যখন সমকাল এ উদ্যোগটি গ্রহণ করল, তখন সহযোগী অংশীদারদের বক্তব্য একই প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপনের সুযোগ ঘটল। এই সুযোগটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সহযোগী অংশীদারদের পারস্পরিক কাজ ও ভূমিকার বিষয়ে সকলের জানা একান্ত আবশ্যক। প্রত্যেক সহযোগী অংশীদারের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে সম্যক ধারণার মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধানের বা লক্ষ্য অর্জনের একটি কার্যকর পন্থা নির্ধারণ করা সম্ভব। দুই পর্বে আলোচনায় আমরা সমস্যার ব্যাপকতা ও প্রসারের কথা বলেছি। এর ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে। সব মহলে অনুভূত হয়েছে- এই সমস্যা সমাধানে একটি কার্যকর, সমন্বিত কাঠামো, কর্মপরিকল্পনা/কর্মকৌশল তৈরি ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

নকল পণ্য ব্যবহার ও বেচাকেনা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বায়ন ও বিশ্ববাণিজ্য প্রসারের সঙ্গে এর বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুদৃঢ় আইনি কাঠামো, আইনগত প্রতিকার ব্যবস্থার প্রয়োগ জোরদার করা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের আইনি কাঠামো

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, নকল পণ্য প্রতিরোধে আইনি কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী ও কার্যকর।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ :এই আইনটি সুনির্দিষ্টভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা এবং এ কমিটিগুলো ভোক্তা অধিকার সচেতন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা, সভা-সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত। (ধারা-১১)

সেইসঙ্গে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলি তদারক ও পরিবীক্ষণ করার দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে।

পরোয়ানা জারির ক্ষমতা, আটক বা গ্রেপ্তার ক্ষমতা, তল্লাশি, বাজেয়াপ্তকরণ ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।

যদি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয় এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে কমিটিগুলো সক্রিয় ও সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে নকল পণ্য প্রতিরোধে সুফল পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে প্রয়োজনে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ কার্যকর করতে হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত, যেমন- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সকলে তাদের দায়িত্ব সক্রিয়ভাবে পালনের মধ্য দিয়ে নকল পণ্যের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

সমন্বয় সাধন

আমাদের আলোচনায় আরেকটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে যে, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে যে 'পরিষদ' গঠনের বিধান রয়েছে, সেখানে বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিষদ :বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী চেয়ারম্যান

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

শিল্প, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, স্বরাষ্ট্র, আইন মন্ত্রণালয়ের অনূ্যন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)সহ অন্যান্য বহু প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই পরিষদ সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যকার সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বিধান রয়েছে। 'পরিষদ' যথাযথভাবে এই সমন্বয় সাধনে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক সংগঠনসহ আরও যারা সহযোগী অংশীদার রয়েছেন, তারা 'সমকাল'-এর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সমন্বয় স্থায়ীকরণ ও জোরদারে ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেন।

UMBRELLA AUTHORITY'র ভূমিকা

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোর করণীয় মনিটরিং/পরিবীক্ষণ স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন

মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিজেদের পণ্যের নকল প্রতিরোধে সক্রিয় হতে হবে। মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নকল বিক্রয় হচ্ছে কিনা, তা চিহ্নিত করতে হবে। অর্থ ব্যয় সাপেক্ষে এ ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা যেতে পারে, যারা নিয়মিত 'মার্কেট সার্চ' ও মনিটরিং করবে। এককালীন নয়, বরং অন্তর অন্তর তৎপরতা চালু থাকতে হবে। অর্থাৎ কোম্পানি নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এ ধরনের 'মনিটরিং ইউনিট' স্থাপন করতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন সার্চ করা যেতে পারে। মনিটরিং স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ আবশ্যক।

কোম্পানি কর্তৃক সাপ্লাই চেইন মনিটরিং

কোম্পানিগুলোকে যথাযথভাবে তাদের সাপ্লায়ারদের মনিটরিং করতে হবে, যাতে সাপ্লাই চেইন থেকে পণ্য অন্যত্র কোথাও চলে না যায় এবং নকল পণ্য চেইনে প্রবেশ না করে। ((Prevent misuse or diversion of packaging, ingredients from supply chain)) এ ক্ষেত্রে কোম্পানি কর্তৃক 'Random Audit' এবং ইন্সপেকশন কার্যকর হবে।

ডিস্ট্রিবিউশন বা বিতরণ চেইন মনিটরিং

কোম্পানিগুলোর নিজস্ব 'Legitimate distribution chain'-এ কোনো দুর্বলতা যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এই চেইনের দুর্বলতার সুযোগ নকল পণ্য-সংশ্নিষ্টরা কাজে লাগাতে সদা তৎপর। তাই কোম্পানি কর্তৃক ডিস্ট্রিবিউশন চেইনের মনিটরিং প্রয়োজন।

ÔCompanies must be sure to select reputable distributors & retailers & should enter into contractual relationship with these entities that demand that the products be shipped & distributed in original & unaltered form.’

[ÔEight ways to minimize the risk of counterfeiting’ by Steven Cooper and Gail M. Eckstein, Intellectual property technology law journal; Aspen publishers, volume 20, number 8; August 2008; Page 1 & 2]


ভোক্তা ও নাগরিক সচেতনতা তৈরি

নকল পণ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি ও বৃদ্ধি একান্ত আবশ্যক। যে কোনো পরিবর্তনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে নাগরিক তথা মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হয়। ভোক্তারা যেহেতু পণ্য ব্যবহার করেন, নকল পণ্য ব্যবহার বা ক্রয় থেকে তাদের বিরত রাখতে হলে এ বিষয়ে তাদের সচেতন ও অবহিত করতে হবে। স্বল্পমূল্যে আকৃষ্ট হয়ে যাতে পণ্য ক্রয় না করে এবং সঠিক মান জেনে নিয়ে ক্রয় করার বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক। সঠিক পণ্য থেকে নকল পণ্য কীভাবে পার্থক্য নিরূপণ করা যায়, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্র্যান্ড যথাযথভাবে চিহ্নিত করবে, সেটাই পার্থক্য নিরূপণে সহায়তা করবে। Original trait বা প্যাকেজিং প্রটেকশন ডিভাইস বা লেবেল পণ্যের মোড়কে থাকা আবশ্যক, যা সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। ভোক্তারাও এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারেন। ব্যবহূত কৌটা, বোতল, বাক্স ধ্বংস বা Destroy করে বাতিল করুন। খালি কৌটা বা বোতল সে ক্ষেত্রে পুনরায় রিফিল করে বাজারজাতকরণ করা সম্ভব হবে না। ভোক্তাদের এই সামান্য সচেতনতা ও পদক্ষেপ নকল পণ্য প্রতিরোধে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করতে সহায়ক হবে।

* ভোক্তাদের নকল পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে অবহিত করতে হবে। আর্থিক, স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

* ভোক্তাদের সচেতনতাই পারে নকল পণ্য প্রতিরোধ করতে। ভোক্তারা যদি নকল পণ্য ক্রয় ও ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকেন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকেন যে কোনোক্রমেই তা ব্যবহার করবেন না, তাহলে বাজারে এর মূল্য থাকবে না।

* তিনটি উপায়ে নকল পণ্য চিহ্নিত করা যেতে পারে-

ক) মূল্য :যদি পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে যাচাই করে নেওয়া। স্বল্পমূল্য দেখে বিভ্রান্ত না হওয়া।

খ) প্যাকেজিং :প্যাকেজিং চেক করুন। উচ্চ মানসম্পন্ন প্যাকেজিং, লেবেল সাধারণত  Original ev Authentic Brand--কে চিহ্নিত করে।

গ) ব্র্যান্ড মালিক বা অথরাইজড রিটেইলার থেকে সরাসরি ক্রয় করা নিরাপদ। Third Party  বিক্রেতার ক্ষেত্রে পণ্য নকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সামাজিক প্রতিরোধ

সার্বিক জনসচেতনতার মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা যাবে সামাজিক প্রতিরোধ। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে 'নকল পণ্য উৎপাদন, ক্রয় ও ব্যবহার' বর্জন করতে হবে। সচেতনভাবে যখন মানুষ আর নকল পণ্য ক্রয় করবে না, তখন তার চাহিদা ক্রমশ হ্রাস পাবে ও একপর্যায়ে লুপ্ত হতে পারে। শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারা সবচেয়ে উত্তম পন্থা।

জাতীয় সংসদ ও সদস্যদের ভূমিকা

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ 'আইনসভা'রূপে প্রয়োজনীয় যে কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে। এরই মধ্যে শক্তিশালী আইনি কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে এবং আইনগুলো জাতীয় সংসদ কর্তৃক ২০০৯, ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে। যে কোনো সময় প্রয়োজনে অধিকতর পরিবর্তন বা সংশোধনী প্রণয়ন করা যেতে পারে।

নকল প্রতিরোধে কোনো একক নিবেদিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজ করার প্রয়োজন নেই; বরং বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কাজ করতে পারে। 'নকল প্রতিরোধ' কারও একক বিষয় নয়; বরং COMPLEX AND CROSS-CUTTING ISSUE|।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি :সংশ্নিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের নকল প্রতিরোধ কার্যক্রমের কার্যকারিতা মনিটর করতে পারে, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করতে পারে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বা সাব-কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভোক্তা অধিদপ্তর, বিএসটিআইর কার্যক্রম পরিদর্শন করতে পারে।

সংসদ সদস্য :মাননীয় সংসদ সদস্যরা জনপ্রতিনিধির ভূমিকায় গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করেন। তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারাভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। সেইসঙ্গে তার এলাকায় ভোক্তা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারেন। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির সভা-সেমিনারের আয়োজন করতে পারেন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে পারেন। সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যাপক পরিবর্তন সাধনে সফল হবে বলে আমি মনে করি।

পরিশেষে 'সমকাল' কর্তৃক যে প্রচারাভিযান শুরু করা হয়েছে, তা ফলপ্রসূ করতে হলে এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল অংশীদারের প্রত্যেককে তিনটি করে কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করে নির্ধারণ করতে হবে, যা তারা নিজেদের উদ্যোগে আগামী তিন মাস বা ছয় মাসের মধ্যে সম্পাদন করবেন। যে বিষয়গুলো অতি জরুরি বলে মনে হয়, সে ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নির্ধারণ করা যেতে পারে।

অর্থাৎ একটি সার্বিক কর্মপরিকল্পনায় সকল সহযোগী-অংশীদারের সুনির্দিষ্ট তিনটি করণীয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পাদন করতে হবে। করণীয়গুলোর মধ্যে থাকতে পারে- সিরিজ সেমিনার, মানববন্ধন, তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি সম্পৃক্তকরণ ইত্যাদি। ছয় মাস পর এই কর্মসূচির কার্যকারিতা ও অগ্রগতি মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা


জনসচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণমাধ্যমের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারকার্য অব্যাহত রাখতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট সক্রিয়ভাবে নকল প্রতিরোধে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।

নকল পণ্য প্রতিরোধ শুধু আর্থিক ক্ষতিরোধের জন্যই নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার্থে অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি। নকল পণ্যের প্রভাব যে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কতখানি ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটাতে পারে, এ বিষয়টিকে অধিকতর প্রাধান্য দিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। নকল পণ্যের ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্য খাতের আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি করছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলা ও নকল প্রতিরোধে করণীয় সকল কার্যক্রমের সঙ্গে আমি অন্য সকলের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

লেখক :স্পিকার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com