কয়রায় তোপের মুখে সাংসদ, কাদা নিক্ষেপ

প্রকাশ: ০১ জুন ২১ । ১৬:৪২ | আপডেট: ০১ জুন ২১ । ২১:৩৫

খুলনা ব্যুরো ও কয়রা সংবাদদাতা

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

খুলনার কয়রা উপজেলার দশহালিয়া এলাকার ভেঙে যাওয়া বাঁধ টানা তিন দিন চেষ্টা করেও মেরামতে ব্যর্থ হয়েছেন স্থানীয় মানুষ। মঙ্গলবার বাঁধ মেরামত কাজ চলা অবস্থায় সেখানে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) সংসদ সদস্য শেখ মো. আকতারুজ্জামান বাবু উপস্থিত হলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা সাংসদের ট্রলারে মাটি ও কাদা নিক্ষেপ করেন। পরে সেখানে উপস্থিত গণ্যমান্য লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় বাঁধ মেরামত কাজ বিলম্বিত হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাবলু জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে গত বুধবার ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকার বাঁধ ভেঙে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়। গত তিনদিন ধরে স্থানীয় মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ওই বাঁধ মেরামতের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ সদস্য ট্রলারযোগে মেরামত কাজ পরিদর্শনে গেলে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা সাংসদের ট্রলারে ঢিল ও কাদা নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজকে হয়তো মেরামত কাজ সম্পন্ন করা যেতো। কিন্তু এ ঘটনার কারণে সম্ভব হয়নি। লোকজন ক্ষোভে কাজ ছেড়ে চলে যায়।’

বাঁধ মেরামত কাজে আসা লোকজন বলেন, বাঁধ মেরামত করা যাদের দায়িত্ব তারা কেউ এগিয়ে আসে না। আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হই, আবার আমাদেরকে বাঁধ মেরামতের দায়িত্ব নিতে হয়। তাহলে জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কী? আমরা জেনেছি সাংসদের লোকজন এ বাঁধ সংস্কারের দায়িত্ব পান। তাদের অবহেলায় আজ এমন পরিস্থিতি।

এ ব্যাপারে সাংসদ শেখ মো. আকতারুজ্জামান বাবু সমকালকে বলেন, বাঁধ মেরামত বিলম্বিত হওয়ায় সেখানকার কিছু মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। পরে তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষ তাদের অসুবিধার কথা জানিয়েছে। আমিও তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি দ্রুত বাঁধ মেরামতের বিষয়ে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধিত্ব করি। এ কারণে মানুষের দাবিটাও আমাদের কাছে বেশি থাকে। এ জন্য আমাকে দেখে দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবি তুলেছেন তারা। এটা তাদের নায্য দাবি। তবে তাকে লক্ষ্য করে ঢিল বা কাদা ছোড়েনি বলে দাবি করেন বাবু। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজনকে শান্ত করা হয়েছে। পরে তিনি বেড়িবাঁধে নেমে স্থানীয় মানুষের সাথে বেড়িবাঁধ মেরামত কাজে অংশ নেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মশিউল আবেদীন সমকালকে বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়া আমাদের করার কিছু থাকে না। এরপরও মেরামত কাজের জন্য বস্তা, বাঁশ ও অন্যন্য সরঞ্জমাদি সরবরাহ করা হয়েছে। সেই সাথে সার্বক্ষণিক কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি আমরা।’

মেরামত কাজ চলাকালীন লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব আসায় লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বলে শুনেছি। ঘটনার সময় আমি একটু দূরে ছিলাম।’

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। শুনেছি দশহালিয়ার বাঁধ মেরামতে যাওয়া লোকজন বিক্ষোভ করেছে।

গত তিন দিন ওই বাঁধ মেরামত কাজে অংশ নেন কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিলের ভিতর দিয়ে রিং বাঁধার জন্য আমরা কয়েকশ’ মানুষ এক সঙ্গে কাজ করছিলাম। এমন সময় হাক চিৎকার শুনে নদীর ঘাটে এগিয়ে দেখি সাংসদের বহনকারী ট্রলারে ঢিল ছুড়ে মারছে লোকজন। অনেক বুঝিয়েও তাদের নিবৃত করা যায়নি। পরে তারা কাজ ছেড়ে চলে যান।’

এদিকে ওই বাঁধ মেরামত না হওয়ায় মহারাজপুর ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামসহ পাশের বাগালি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত রয়েছে। জোয়ারে প্রতিদিন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com