খাসিদের পানজুম অবশেষে অবৈধ দখলমুক্ত

প্রকাশ: ০৫ জুন ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ০৫ জুন ২১ । ০২:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

শুক্রবার বড়লেখা পানজুমের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়-সমকাল

মৌলভীবাজারের বড়লেখার বনাখলাপুঞ্জির খাসি আদিবাসীদের পানজুম এলাকা অবশেষে অবৈধ দখলমুক্ত হলো। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করেছে। দখলের এক সপ্তাহ পর নিজেদের জমি ফিরে পেয়ে আনন্দে ভাসছেন খাসি পানচাষিরা। এর আগে বিভিন্ন সময় স্থানীয় কিছু বাঙালি দুস্কৃতকারী তাদের পানগাছ কেটে দেওয়া ও বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটালেও এত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এবার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় দরিদ্র পানচাষিরা উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

দুপুর ২টার দিকে বড়লেখার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ছোটলেখা চা বাগানের বনাখলাপুঞ্জির এই পানজুম দখলমুক্ত করতে শুরু হয় যৌথ অভিযান। তবে অভিযান শুরু হওয়ার আগেই ঘটনার আঁচ পেয়ে পালিয়ে যায় দখলদাররা। এ সময় দখলদারদের তৈরি করা তিনটি টিনশেড ঘর উচ্ছেদ করে বিকেল ৪টার দিকে খাসি পানচাষি ও চা বাগানের কাছে জুমের জমি বুঝিয়ে দেয় প্রশাসন।

বড়লেখার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর নেতৃত্বে অভিযানে আরও ছিলেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর, বড়লেখা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূসরাত লায়লা নীরা, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার প্রমুখ।

বনাখলাপুঞ্জির মান্ত্রী নরা ধার বলেন, 'আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ। উদ্ধার অভিযানের পর আমাদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করছে। তবে জুম উদ্ধারের পর উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। উনারা আমাদের পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন, আমরা এখন কিছুটা ভরসা পাচ্ছি।'

অভিযান শেষে ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বলেন, বনাখলাপুঞ্জির পানজুম দখলমুক্ত করা হয়েছে। জায়গাটি দুর্গম ছিল। স্থানীয় কিছু দুস্কৃতকারী কিছুদিন জুমের জায়গা দখল করে রেখেছিল। উপজেলা প্রশাসন, জেলা ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অবৈধ দখলদারদের সমূলে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর খাসিয়াদের তাদের পানজুমের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে তারা খুশি।

প্রশাসন সব সময় খাসিদের বিপদে বা প্রয়োজনে সঙ্গে থাকবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'আমি এই অভিযানের পর খাসি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সব সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করতে চাই যাতে কোনো দুস্কৃতকারী ভবিষ্যতে তাদের পানপুঞ্জি বা জুম এলাকা দখল করার সাহস করতে না পারে।'

এএসপি সাদেক কাউসার বলেন, জুম দখলের মামলায় আগেই দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এ জন্য নজরদারি আছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৮ মে বনাখলাপুঞ্জির জুম দখল করে স্থানীয় কয়েকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আদিবাসী খাসিদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে পানজুম এলাকা দখল করে নেয়। সেখানে তারা কয়েকটি ঘরও নির্মাণ করে। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে খাসিদের জুমে প্রবেশ করতে দেবে না বলে জানিয়ে দেয় দখলদাররা। এই ঘটনায় গত ৩০ মে খাসি পানচাষি ও চা বাগান কর্তৃপক্ষ থানায় দুটি মামলা করে।

ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা: সমাজসেবী সংগঠন অমর্ত্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮টি খাসি পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। পানজুম দখলের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে অমর্ত্য ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কুলাউড়ার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল বারীর দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর তিনি তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২৩

সম্পাদক : আলমগীর হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com