সিলেটে নতুন কারাগারে প্রথম ফাঁসি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২১ । ২১:২৭

সিলেট ব্যুরো

প্রতীকী ছবি

সিলেটে ১৭ বছর আগে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ নামে এ আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়। নগরীর উপকণ্ঠ বাদাঘাটে নির্মিত এ কারাগারে কার্যকর হওয়া এটাই প্রথম ফাঁসি।

নগরীর বন্দরবাজারে পুরোনো কারাগারে সাতজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল। নতুন কারাগারে অধিকাংশ বন্দি স্থানান্তর হলেও বর্তমানে হাজতিদের পুরোনো কারাগারে রাখা হয়।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন জানান, নতুন কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকরে অংশ নেন জল্লাদ মোহাম্মদ শাহজাহান। বিচারিক সব ধাপ শেষে সিরাজুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এই আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

সিনিয়র জেল সুপার বলেন, ২০০৪ সালের মার্চ মাসে সিরাজুল তার স্ত্রী সাহিদা আক্তারকে শাবল ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করেন। সিরাজুল হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজনগর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার নিয়ম অনুযায়ী সিরাজুলকে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি অবহিত করা হয়। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সেদিন বিকেলে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা শেষবার সাক্ষাৎ করেন। রাতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকরের সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, ডিআইজি প্রিজন মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল, সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন, জেল সুপার মো. মুজিবুর রহমান, মহানগর পুলিশের প্রতিনিধিসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ৭ মার্চ তিন সন্তানের জননী সাহিদা আক্তারকে খুন করেন সিরাজুল। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়। ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সিরাজুলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজুল হাইকোর্টে আপিল করেন।

২০১২ সালের ১ আগস্ট দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজুল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জেল পিটিশন দাখিল করেন। আপিল বিভাগও ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর রায়ে তার আপিল বাতিল করে ডেথ রেফারেন্সের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। এরপর সর্বশেষ পথ হিসেবে আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com