প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধসহ ৫ দাবি

প্রকাশ: ২০ জুন ২১ । ২০:৩৭

খুলনা ব্যুরো

প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ- সমকাল

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বদলি (অস্থায়ী), দৈনিকভিত্তিক ও নামের ভুলে বঞ্চিত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। 

রোববার বেলা ১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইউসুফ আলী স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- বন্ধ সব রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে অবসরপ্রাপ্ত, কর্মরত, অস্থায়ী, বদলি শ্রমিকদের বকেয়া প্রদান ও ক্ষতিপূরণ এককালীন পরিশোধ, ২০১৯ সালের ছয় সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও ২০২০ সালের ঈদুল আজহার বোনাসসহ পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের উৎসব বোনাসের ডিফারেন্স ও জুলাই ২০২০-এর ইনক্রিমেন্টসহ দুই দিনের মজুরি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ, পাট ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজেএমসির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-ভ্রান্তনীতি-লুটপাটের বিচার, মাথা ভারী প্রশাসন পোষা বন্ধ করা এবং স্কপের প্রস্তাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সাপেক্ষে পাটকলগুলোকে আধুনিকায়ন করা।

পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা ও সদস্য সচিব এস এ রশীদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২০ সালের ২ জুলাই ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাটকল বন্ধের এই সিদ্ধান্তে স্থায়ী, বদলি ও দৈনিকভিত্তিকসহ প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছে। গত এক বছর তারা অমানবিক জীবনযাপন করছে। শুধু পাটকল শ্রমিকরাই নয়, পাটশিল্প সংশ্নিষ্ট প্রায় তিন কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর নেমে এসেছে কালো ছায়া। সরকার তিন মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের ঘোষণা দিলেও এখনও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, শ্রম আইন ভঙ্গ করে মিলের কলোনিতে বসবাস করা অবস্থায় অসহায় শ্রমিকদের অর্থ পরিশোধের আগেই আবাসন থেকে উৎখাত করা হয়েছে। বর্তমানে করোনা মহামারিকালে কর্মহীন হয়ে শ্রমিকরা নিজেদের পরিবারের নূ্যনতম মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করতে পারছে না। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পাটকল লোকসানের দায় শ্রমিকের ওপর দিয়ে বলা হচ্ছে, পাটকলগুলো খোলা থাকলে প্রতি বছর ২৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়। অথচ বর্তমান সরকারের আমলে ৪৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মহসীন, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, বাসদের খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, সিপিবির মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, খুলনা বিভাগীয় আয়কর আইনজীবী ফেডারেশনের সভাপতি এস এম শাহ নওয়াজ আলী, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আবদুল করীম প্রমুখ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com