লকডাউন বাড়ার আশঙ্কায় ফেরিঘাটে যাত্রীর চাপ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২১ । ১৯:৪২ | আপডেট: ২৩ জুন ২১ । ১৯:৪৪

গোয়লন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। বুধবার তোলা ছবি- সমকাল

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজবাড়ীসহ সাত জেলায় চলছে কঠোর লকডাউন। এই লকডাউন আগামী ঈদ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বেড়ে গেছে যাত্রীদের চাপ।

রাজবাড়ীসহ সাতটি জেলায় দূরপাল্লার বাস চলাচল না করায় বিভিন্নভাবে ঘাটে আসছেন যাত্রীরা। যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তি।

সরেজমিন বুধবার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়,  দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক থাকায় ঘাটে পৌঁছে মানুষ স্বস্তিতে ফেরিতে নদী পার হচ্ছেন। তবে ফেরিঘাট পর্যন্ত আসতে এ জন্য সবাইকে পথে পথে নানা ভোগান্তিসহ অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মটরসাইকেল, মাহিন্দ্র, অটোরিকশায় করে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নামছেন। প্রতিটি ঘাটেই ছিল ফেরি। ঘাটে নেমেই সরাসরি ফেরিতে উঠতে এসব মানুষকে কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না। অনেকেই জানিয়েছেন, লকডাউন হয়তো ঈদ পর্যন্ত থাকতে পারে; এজন্য তারা রওনা হয়েছেন এখনই।

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে কথা হয় গার্মেন্টসকর্মী আয়েশা ও তার স্বামী রবিউলের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘আমরা দুজনই গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করি। গত বৃহস্পতিবার দুজন ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি মাগুরায় যাই। এ সপ্তাহে বাড়িই থাকার কথা ছিল। কিন্তু নতুন বিধিনিষেধের কথা শুনে আর থাকতে পারিনি। কষ্ট হলেও ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি।'

তারা বলেন, দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে ঘাট পর্যন্ত এসেছি। কিন্তু নদী পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়া থেকে কীভাবে গাজীপুর যাব, সে চিন্তা করছি।

এদিকে ঢাকা থেকেও মানুষ ছুটছেন বাড়িতে। ঘাটে আসা যশোরের আলাউদ্দিন স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তিনি বলেন, লকডাউন ঈদ পর্যন্ত চলতে পারে তাই আগে-ভাগেই স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি রেখে আসতে যাচ্ছি। গাবতলী থেকে কোনো যানবাহন না পেয়ে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে প্রাইভেট কারে করে পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ফেরিতে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছেছি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখ জানান, বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে ১৩টি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করছে। কোনো যানবাহন ফেরির জন্য অপেক্ষা না করে সরাসরি ফেরিতে উঠার সুযোগ পাচ্ছে।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com