‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন উপেক্ষা করলে আ’লীগ সরকারের উন্নয়ন অর্থহীন হবে’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২১ । ২২:৪৫

সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ

‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত এক যুগে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে উন্নয়নের মহাসড়কে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়।বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন উপেক্ষা করলে আওয়ামী লীগ সরকারের এ উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে যাবে।’

বুধবার ‘আওয়ামী লীগের ৭২ বছর এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ: প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বিশিষ্টজন এ কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ এ ওয়েবিনার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং প্রধান বক্তা ছিলেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

কমিটির কুমিল্লা জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক দীলিপ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শহীদ ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, কুমিল্লার অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান শিকদার, সাবেক অতিরিক্ত পিপি গোলাম ফারুক, কুমিল্লা সদরের ভাইস চেয়ারম্যান তারিকুর রহমান জুয়েল, ময়নামতি মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. তৃপ্তিশ ঘোষ, কুমিল্লা জেলার বিএমএ-এর সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসীম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠিত হয়েছিল, স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ প্রত্যেকটি শব্দ একে অন্যের সমর্থক। পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একটি মামলায় সোহরাওয়ার্দী সাহেব কোর্টে বলেছিলেন, ‘ইফ মুজিব ইজ ডিজঅনেস্ট, দেন দ্য হোল ওয়ার্ল্ড ইজ ডিজঅনেস্ট’। বঙ্গবন্ধু ৬৬ সনে আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গান দিয়ে, যা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।

আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম-আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুটি স্বপ্ন ছিল, স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন এবং তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামীতে অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্নও বাস্তবায়িত হবে।

প্রধান বক্তা শাহরিয়ার কবির বলেন, প্রাপ্তি বা অর্জনের কথা যদি বলি, আওয়ামী লীগের মতো সাফল্য বিশ্বের প্রথম দশটি রাজনৈতিক দলের অর্ধেকেরও নেই। আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। তার মতে,আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও বাংলাদেশের ইতিহাস একে অপরের সমার্থক। তবে এখন যারা আওয়ামী লীগের তরুণ নেতাকর্মী, তারা আওয়ামী লীগের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস জানে না। একটানা এত বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে হাল আমলের নেতাকর্মীরা দলের ইতিহাস, আদর্শ ইত্যাদি জানার চেয়ে দলের নাম ব্যবহার করে কীভাবে নিজেদের আখের গোছানো যায়, তাতেই মত্ত থাকেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শতকরা এক ভাগ নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিংবা বঙ্গবন্ধুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান ৭২-এর সংবিধান পড়েছেন কি-না সন্দেহ আছে।

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের মহীরুহের শেকড় কেটে দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। অযত্ন ও অবহেলায় সেই মহীরুহ এখন মৃত্যুর দিন গুনছে। আওয়ামী লীগ শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করলেও জাতির পিতার রাজনৈতিক দর্শন তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার কোরো উদ্যোগ নেয়নি। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, কিংবা বঙ্গবন্ধুর প্রামাণ্যজীবনী লেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রদের অবশ্যপাঠ্য হওয়া উচিত।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল পৃথিবীর নির্যাতিত মানুষের দর্শন। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য নয় বরং ফিলিস্তিন, ভিয়েতনামের মতো নির্যাতিত দেশগুলোর মুক্তির জন্যও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করেছেন। জোসেফ টিটো, ইন্দিরা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রোর মতো অনেক বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে পরম শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

তিনি এও বলেন, জঙ্গী মৌলবাদী শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না করা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর দর্শন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে না।

আরমা দত্ত বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত না। তিনি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে গেছেন। দ্বিজাতিতত্ত্বকে লাথি মেরে বাংলাদেশের মতো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন ছিল বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় অর্জন। আমরাই বোধ হয় শেষ প্রজন্ম, যারা বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আশা রাখি, নতুন প্রজন্মও আগামীতে আমাদের মতো বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com