চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

ইনকিউবেটরে ফুটল অজগরের ২৮ ছানা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ২৪ জুন ২১ । ০১:৫২ | প্রিন্ট সংস্করণ

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া অজগর ছানা- মো. রাশেদ

সম্পূর্ণ কৃত্রিম উপায়ে হাতে তৈরি ইনকিউবেটরে ডিম রেখে ফুটানো হয়েছে অজগরের ২৮টি বাচ্চা। টানা ৬৭ দিন ধরে নিবিড় রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ফুটানো হয় এগুলো। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার এক অজগরের দেওয়া ৩১টি ডিম সংগ্রহ করে এসব ছানা ফুটানো হয়েছে। অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য ডিমগুলো ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল।

গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ বিরল ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার কৃত্রিম পরিবেশে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ডিম থেকে এসব অজগর ফুটানোর জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ধরে রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ সমকালকে বলেন, 'হাতে তৈরি ইনকিউবেটরে ডিম রেখে টানা ৬৭ দিনের যুদ্ধ শেষে ৩১টি ডিম থেকে ২৮টি অজগর সাপের জন্ম একটি বিরল ঘটনা। ডিম থেকে এসব অজগর ফুটানোর জন্য ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ৮৫ শতাংশ

আর্দ্রতা ধরে রাখার বিষয়টি অনেক বড় চ্যালেঞ্জের ছিল। নানা প্রতিকূলতার পরও একসঙ্গে এত ডিম থেকে সাপের বাচ্চা ফুটাতে পেরে আমরা আনন্দিত। সদ্য জন্ম নেওয়া সব বাচ্চা সুস্থ আছে। সাধারণত জন্মের ১৫ দিনের মধ্যে সাপের বাচ্চা চামড়া বদল করে। ততদিন এগুলোকে ইনকিউবেটরে রেখেই রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। চামড়া বদল করার পর তাদের প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হবে। আমার জানা মতে, দেশে আর কোনো চিড়িয়াখানায় এভাবে সাপের ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়নি।'

ডা. শাহাদাত বলেন, 'চিড়িয়াখানার অজগর খাঁচায় ডিম পাড়ার কারণে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই ডিমগুলো বাঁচাতে নিজেরাই একটি ইনকিউবেটর তৈরি করি। খাঁচা থেকে ডিম সংগ্রহ করে এনে ইনকিউবেটরে রাখা হয়। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারায় একসঙ্গে এত সাপের বাচ্চা জন্ম দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাচ্চাগুলো চামড়া বদল করলে জেলা প্রশাসক স্যারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেগুলো বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।'

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন সমকালকে বলেন, 'হাতে তৈরি ইনকিউবেটরে ডিম রেখে তা থেকে অজগর ছানা ফুটিয়ে নতুন নজির স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। এ পদ্ধতি দেশের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এখন অন্যান্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও এভাবে অজগর সাপের বাচ্চা ফুটাতে উৎসাহী হবে। এর আগে ২০১৯ সালের জুনে দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হাতে তৈরি ইনকিউবেটরে অজগর সাপের ২৫টি বাচ্চা ফুটানো হয়। ভালো রক্ষণাবেক্ষণের কারণে জন্মের পর সবকটি বাচ্চাই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। পরে এগুলোকে বন্য পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।'

রুহুল আমীন জানান, চট্টগ্রামের পুরো চিড়িয়াখানার অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। আনা হয়েছে বিদেশি অনেক পশু-প্রাণী। প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা ও বিনোদনে ভূমিকা রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পশু-প্রাণীর সংখ্যা বাড়াতে ও সংরক্ষণে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। সদ্য জন্ম নেওয়া সাপের বাচ্চাগুলোকে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম নগরের ফয়'স লেকের পাহাড়ের পাদদেশে ছয় একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এ বিনোদন কেন্দ্র পরে আরও চার একরজুড়ে সম্প্রসারিত করা হয়। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ২২টি অজগর সাপ রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের বিরল সাদা বাঘ, চিত্রা হরিণ, শালিক, ককাটিয়েল, মায়া হরিণ, গয়াল, সজারুসহ দেশি-বিদেশি ৬৭ প্রজাতির ছয় শতাধিক পশু-প্রাণী রয়েছে এখানে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com