রিক সিকদার ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক থাকতে পারলেন না

প্রকাশ: ২৮ জুন ২১ । ২২:০৩ | আপডেট: ২৮ জুন ২১ । ২২:৫২

সমকাল প্রতিবেদক

রিক হক সিকদার। ছবি: ফাইল

ন্যাশনাল ব্যাংকে অনিয়ম ঠেকাতে নানা নিয়ন্ত্রণ আরোপের মধ্যে রিক হক সিকদারের পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগ আটকে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে তার পুনর্নিয়োগে অনাপত্তি দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ চিঠি পাওয়ার পর সোমবার তার ভাই এবং ব্যাংকটির পরিচালক রন হক সিকদার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবিরের সাক্ষাৎ চেয়েও পাননি। পরে ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছেরের সঙ্গে দেখা করলে তাকে আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে পরিচালক পদে নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের জন্য প্রথমে নিজ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন দরকার হয়। এরপর নিয়োগ চূড়ান্ত করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তির জন্য পাঠাতে হয়। আইনের আলোকে কোনো ঋণখেলাপি, করখেলাপি বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি পরিচালক হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, রিক হক সিকদারের পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগে অনাপত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছিল। তবে ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) ঝামেলা থাকায় তার পুনর্নিয়োগে অনাপত্তি দেওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন প্রয়াত জয়নুল হক সিকদার। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুর পর চেয়ারম্যান হন তার স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। ব্যাংকটির ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে চারজন সিকদার পরিবারের এবং দু'জন সিকদার গ্রুপের কর্মী। এর মধ্যে রিক হক সিকদারের পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগের অনুমোদন আটকে গেল। বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন জয়নুল হক সিকদারের মেয়ে পারভীন হক সিকদার। সিকদার গ্রুপের কর্মকর্তা নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান। আর সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বদিউল আলম।

আর্থিক সূচকের ক্রমাবনতি ও অনিয়ম ঠেকাতে ২০১৪ সাল থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত ৮৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত নতুন ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ দিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এরপরও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কিছু ঋণ দেওয়ার তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ১০ জুন ব্যাংকটির এডিআর দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৯২ শতাংশে। গত মার্চ শেষেও যা ৯১ দশমিক ১৪ শতাংশ ছিল। ওই সময় ৪২ হাজার ২২৫ কোটি টাকা আমানতের বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। আশানুরূপ আমানত না পাওয়ায় ব্যাংকটির পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ছাড়ে প্রচুর ঋণ পুনঃতফসিল ও বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ অবলোপনের পরও গত মার্চ শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩০৪ কোটি টাকা।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com