সা ক্ষা ৎ কা র

বিসিক শিল্প পার্কে জমির দাম কমানো দরকার

১৭ জুলাই ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২১ । ২১:০৬

মো. আবদুর রাজ্জাক, সভাপতি , বাইশিমাস

সমকাল :দীর্ঘদিন ধরে হালকা প্রকৌশল খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ খাতে কেমন অগ্রগতি হয়েছে?

আবদুর রাজ্জাক :দেশের হালকা প্রকৌশল খাতে শুরুতে কেবল পুরোনো যন্ত্রপাতি মেরামত হয়েছে। এর পরে শিল্পের চাহিদা মতো যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামতের কাজ করে দেওয়া হয়। এখন নতুন যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে। বড় শিল্প যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বিনিয়োগ এসেছে। তবে দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো সহযোগিতা বাড়ালে এ খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চাহিদা মতো যন্ত্রাংশ তৈরি করে দিতে পারবেন। এমন সক্ষমতা এখন কারখানাগুলোর তৈরি হয়েছে। ফরিদপুরের চান ইন্ডাস্ট্রিজ মোটরসাইকেলের সিট তৈরি করছে। দিনাজপুরের কারখানায় মোটরসাইকেলের চেইন তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে আরও তৈরির সুযোগ দিলে আরও ভালো করা সম্ভব। পোশাকের চেয়ে সাতগুণ বড় হালকা প্রকৌশল পণ্যের বিশ্ববাজার। এই বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি (বাইশিমাস) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।

সমকাল :বাজেটে দেওয়া কর সুবিধায় হালকা প্রকৌশল খাত কতটা উপকৃত হবে?

আবদুর রাজ্জাক :১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়ায় এ খাতে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন নতুন বিনিয়োগ আসবে। তবে বিদ্যমান ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকে শর্ত পূরণ করে সুবিধা পাবে না। ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয়কর হবে এই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোর। শর্ত মেনে করতে গেলে তাদের অনেক বেশি খরচ করতে হবে। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আগ্রহী হবেন না। তবে অন্য খাতের উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করবেন। এতদিন বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি। বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে। এ খাতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল এক শতাংশ শুল্ক্কে আমদানির সুবিধা দিয়েছে সরকার। আয়কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতদিন এই খাতে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট দিতে হয়েছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভ্যাটের চালান পায়নি ক্ষুদ্র কারখানা। ফলে আগে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়েছে। মাঝেমধ্যে এর জন্য হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এখনও যে শর্ত রয়েছে তাতে হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধা দিতে শর্ত সহজ করা প্রয়োজন। বর্তমানে মোল্ড স্টিলের কাঁচামাল আমদানিতে ৪২ শতাংশ শুল্ক্ক ও কর দিতে হয়। অথচ সরাসরি মোল্ড আমদানিতে এক শতাংশ শুল্ক্ক রয়েছে। এমন বিষয়গুলো বিবেচনা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমাধান করা উচিত।

সমকাল :শর্ত মেনে শিল্পের পরিকল্পিত কারখানা করতে বাধা কোথায়?

আবদুর রাজ্জাক :বর্তমানে ক্লাস্টারভিত্তিক ক্ষুদ্র কারখানাগুলো নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে উঠেছে। এগুলো পরিকল্পিত শিল্প পার্কে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। বিসিক শিল্প পার্ক বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ২০০৬ সালে উদ্যোগ নিয়ে ২০২১ সালে এসেও শেষ হয়নি। তাও আবার মাত্র ২৫ একর জমিতে হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের বেতকার শিল্পনগরীতে প্রতি কাঠা জমির দাম ২০ লাখ টাকা চাইছে বিসিক। অথচ এর আশপাশে প্রতিকাঠা জমির দাম মাত্র পাঁচ লাখ টাকা। এ জন্য বিসিকের শিল্প প্লট পেতে উদ্যোক্তারা আবেদন করছেন না। এখন উদ্যোক্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০ শতাংশ দাম কমানোর কথা জানিয়েছে বিসিক। কিন্তু উদ্যোক্তারা এই জমির দাম ৮০ শতাংশ কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। দাম না কমালে কারখানা স্থানান্তর সম্ভব হবে না।

সমকাল :এ খাতের উন্নয়নে কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে মনে করেন?

আবদুর রাজ্জাক :দেশি কোম্পানির জমির পাশাপাশি অর্থের সংকট রয়েছে। বেশিরভাগ উদ্যোক্তা পুরোনো ম্যানুয়াল মেশিনে কাজ করছেন। এই উদ্যোক্তাদের জন্য পরিকল্পিত শিল্প পার্ক ও দীর্ঘমেয়াদে দুই থেকে তিন শতাংশ সুদে সহজ শর্তে ঋণসুবিধা দিতে হবে। প্রযুক্তির ঘাটতি দূর করতে আধুনিক কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র করতে হবে। কর্মীদের কারিগরি জ্ঞানসমৃদ্ধ করতে আধুনিক যন্ত্রের বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব সুবিধা দিতে পারলে আমদানির চেয়ে কম দামে মানসম্মত যন্ত্র তৈরি করে দিতে পারবেন দেশের উদ্যোক্তারা। ভারী শিল্পের মূল যন্ত্রের নানা অংশ দেশে তৈরি করে দিতে পারলে বেশি লাভবান হবে বাংলাদেশ। চীন, কোরিয়া, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের কারখানাগুলোতে বাংলাদেশের জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে। দেশের উদ্যোক্তারা সুযোগ পেলে এসব পণ্য তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করতে পারবেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিরাজ শামস

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com