দা চাকু চাপাতির দোকানে ভিড়

২০ জুলাই ২১ । ০০:০০

ওয়াকিল আহমেদ হিরন

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ সামনে রেখে রাজধানীতে শেষ সময়ে জমে উঠেছে মাংস কাটার সামগ্রীর বাজার। পশু জবাইয়ের জন্য কেউ দা, বঁটি, চাকু ও ছুরি কিনতে ছুটে এসেছেন বাজারে। যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম কিনছেন। পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে এ সময় রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যন্ত এলাকার কামারপল্লিগুলো সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সাগরেদের পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালা। আবার ধাতব সরঞ্জাম শান দিতে এসব দোকানেও ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।

হাজার হাজার গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ, উট, দুম্বা কোরবানি করা হয়ে থাকে। এসব পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ারের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি কাঁচাবাজার কারওয়ানবাজারের কামারশালাগুলোর ব্যস্ততা এখন অনেক বেশি। এখানে ২৫-৩০টা কর্মকারের দোকান রয়েছে। গতকাল দুপুরে কারওয়ান বাজার কামারপট্টিতে গিয়ে দেখা যায় বেশ ভিড়। পছন্দের বিভিন্ন সাইজের দা, ছুরি, বঁটি, চাকু, চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। পছন্দ হলে ও দরদামে মিলে গেলে তা কিনছেন। বিভিন্ন দোকানে পশু জবাইয়ের নানা উপকরণ শোভা পাচ্ছে। রাজধানীর ঠাটারীবাজার, পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, চকবাজার, বংশাল, নিউমার্কেট, গুলশান-১, খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর এক নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকান বসেছে পশু জবাইয়ের সরঞ্জামের। রয়েছে হুগলি-চাটাইয়ের পসরাও।

কারওয়ান বাজারের দা, বঁটি, ছুরি ও চাকুর দোকানে আসা মিলন, নুর ইসলাম, জিলল্গুর রহমানসহ একাধিক ক্রেতা জানান, কোরবানির ঈদ এসেই গেছে। ইতোমধ্যেই সাধ্য অনুযায়ী অনেকের কোরবানির পশু কেনা শেষ হয়েছে। এখন পশু জবাই থেকে শুরু করে হাড়-মাংস কাটার সামগ্রী কিনতে দোকানে দোকানে ঘুরছেন তারা। ক্রেতারা জানান, কোরবানির জন্য গরু কিনেছি, এখন ছুরি-বঁটি কিনতে এসেছি। দাম অনেকটা চড়া।

প্রতি বছর পছন্দসই কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি ইত্যাদি সরঞ্জাম কেনার হিড়িক পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে মহামারি করোনার কারণে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার তুলনামূলকভাবে ক্রেতা কম বলে জানালেন বিক্রেতারা।

আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ আলী. মো. আজাদসহ একাধিক বিক্রেতা জানান, বছরের এ সময় ছাড়া সারাবছর এসব সামগ্রী তেমন একটা বেচাবিক্রি হয় না। তবে ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর মাংস কাটার জন্য লোহার তৈরি নানা ধরনের সামগ্রী কিনতে আসছেন ক্রেতারা। তারা জানান, কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস কাটার কাজে ব্যবহূত এসব সরঞ্জাম কেনার জন্য ক্রেতারা আসেন কামারপাড়ার অস্থায়ী দোকানে। শেষ দিকে জমজমাট হয়ে ওঠে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম বিক্রি।

এবারে পশুর চামড়া আলাদা, মাংস কাটা এবং জবাই করার ছুরি, চাপাতির দামে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ক্রেতাদের দাবি, গতবারের তুলনায় দাম একটু বেশি। অন্যদিকে বেশি দামের কথা স্বীকার করে দোকানিরা জানিয়েছেন, এবার পশুর চামড়া আলাদা করার ছুরি (ছোট) ২০০ টাকা, মাঝারি ৩০০ টাকা, পাগলু সাইজ ছুরি ৩৫০ টাকা এবং বড় ছুরি (স্প্রিংয়ের বাঁট) ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাপাতি সাড়ে ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা, লোহার বাঁটঅলা দা ৮০০ টাকা, লোহার বঁটি প্রতিপিস ৪০০ টাকা, ভোজালি ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা এবং হাড় কাটার জন্য চায়নিজ কুড়াল ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি এসব সরঞ্জাম কেজি হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com