টিআইবির বিবৃতি

করোনা মোকাবিলায় তথ্য নয়, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করুন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২১ । ২২:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

সরকারি হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান শনিবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'দেশে বর্তমানে করোনা অতিমারির সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। এমন সময়ে ঢাকা জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য ও রোগীর সেবাবিষয়ক যে কোনো তথ্য গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ মুক্ত গণমাধ্যম ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের সাংবিধানিক অধিকারের পুরোপুরি লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং গণমাধ্যমের অবাধ তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়ার শামিল।'

তিনি আরও বলেন, 'অতিমারি নিয়ন্ত্রণে চলা লকডাউনে এমনিতেই সাধারণের জন্য তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত, সেখানে গণমাধ্যমকে তথ্য না দেওয়ার এমন নির্দেশ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার হালনাগাদ তথ্যপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করবে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার সত্যিকারের চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে- আদেশের সূত্র হিসেবে সিভিল সার্জন যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা বলেছেন, তারা কারা? কী উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন? এটি অতিমারি নিয়ন্ত্রণে কী সুফল বয়ে আনবে? সেটি জরুরি ভিত্তিতে পরিস্কার করতে হবে এবং বারবার এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের অশুভ প্রয়াস বন্ধে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।'

স্বাস্থ্য খাতে চলমান অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার তথ্য গোপনের অভিপ্রায়ের অংশ হিসেবে এই আদেশ কিনা, এমন সন্দেহ প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, 'এ নির্দেশনা জারির পরদিনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দশটি জাতীয় দৈনিকে রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে সাম্প্র্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য খাতে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হয়নি বলে সাফাই গাওয়ার অপচেষ্টা করেছে। অথচ গত এক বছরে স্বাস্থ্য খাতের নিয়োগ, ক্রয়, অবকাঠামো নির্মাণ ও সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার সংবাদ পত্রিকার পাতা খুললেই পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপিত প্রতিবেদনেও যা প্রতিভাত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, টিআইবির সাম্প্র্রতিক গবেষণাগুলোতেও এ খাতে সুশাসনের ঘাটতির নানা চিত্র ওঠে এসেছে, যা বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। তাই এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং তথ্য দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মূলত স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ঢাকার প্রচেষ্টা একই সূত্রে গাথা বলে মনে করা মোটেও অবান্তর হবে না। এ বিধিনিষেধের মাধ্যমে সাংবাদিকদের স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিদ্যমান অব্যবস্থাপনার তথ্য গোপনের বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করবে; যা অতিমারি মোকাবিলায় গৃহীত ইতিবাচক উদ্যোগকেও বিনষ্ট করবে। তাই অবিলম্বে এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী আদেশ প্রত্যাহার করে অবাধ তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে কার্যকরভাবে অতিমারি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com