‘কঠোর’ শেষ, শিথিল শুরু

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২১ । ০১:০৯

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীতে যানজট, ফাইল ছবি

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টানা ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শেষে বৃহস্পতিবার থেকে শিথিল হচ্ছে। আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের শর্তে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে খোলা থাকবে শপিংমল, মার্কেট।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার পরামর্শ দিলেও ‘ঈদ উদযাপন ও দরিদ্র মানুষের রোজগারের স্বার্থে’ তা শিথিল করেছে সরকার। তবে ২৩ জুলাই ভোর থেকে ফের ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হবে। তাতে জরুরি সেবা বাদে শিল্পকারখানাসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

বুধবার কঠোর লকডাউনের শেষ দিনে বিধিনিষেধ শুধু কাগজেই ছিল। ঢাকাসহ দেশের প্রায় সর্বত্রই যানবাহন ও জনচলাচল ছিল স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন। গণপরিবহন বাদে সব ধরনের গাড়ি চলেছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে যানজটও ছিল আগের কয়েক দিনের মতো। রাজধানীর বাইরে মহাসড়কেও ছিল যানজট। মহানগর ও জেলা শহরগুলোতে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক সময়ের মতোই দেখা গেছে। ফেরিঘাটে ছিল নদী পারাপারের ভিড়।

শেষ দিনে বিধিনিষেধ অমান্য করার অভিযোগে ৪৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখাইরুল ইসলাম সমকালকে জানিয়েছেন, ১৪ দিনের লকডাউনে রাজধানীতে গ্রেপ্তার হয়েছে ৯ হাজার দু'জন।

ডিএমপি সূত্র জানায়, বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০৫ জনকে জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগ ৭৪৪টি বিধিনিষেধ ভঙ্গের ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে। ১৪ দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই হাজার ৯৯৯ জনের কাছ থেকে দুই দুই কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করেছেন।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মহাখালী, ফার্মগেট, পান্থপথ, মগবাজার, পল্টন ও গুলিস্তান এলাকা ঘুরে সড়কে রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের বেশ চাপ দেখা গেছে। পণ্যবাহী গাড়ির চলাচলও ছিল বেশি। বড় মার্কেট, বিপণিবিতান না খুললেও রাস্তার পাশে, অলিগতিতে প্রায় সব দোকানপাটই খোলা ছিল।

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় গত ২২ জুন ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাত জেলায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়। জুন মাসের শেষ তিন দিন 'সীমিত' লকডাউন শেষে ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখে সরকার। রিকশা ছাড়া বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের যানবাহনও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে যতই দিন গড়িয়েছে, ততই সড়কে যানবাহন ও জনচলাচল বেড়েছে।

লকডাউন শিথিল হলেও মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বুধবার তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধ শিথিল থাকাকালে পর্যটন, বিনোদন কেন্দ্রে গমন এবং জনসমাগম হয় এমন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে।

বুধবার সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্দেশনায় জানিয়েছে, গণপরিবহনে আসনের অর্ধেকের বেশি যাত্রী তোলা যাবে না। নির্দিষ্ট স্থানে সারিবদ্ধভাবে যাত্রী ওঠানামা করতে হবে। বাসে চালক, যাত্রীসহ সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। যাত্রার আগে ও পরে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। ৬০ শতাংশের বেশি বাড়তি ভাড়া নেওয়া যাবে না।

বুধবার রাজধানীর গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনালে দেখা গেছে, ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর দূরপাল্লার বাস চালুর প্রস্তুতি চলছে। গাড়ি ধোয়ামোছা ও মেরামতের কাজ চলছে। শপিংমল, মার্কেট খুলতে একই প্রস্তুতির চিত্র ছিল বুধবার

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com