পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন রাখাইনরা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২১ । ২০:৩২ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২১ । ২০:৩৫

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন কলাপাড়ার ছয়টি রাখাইন পরিবার -সমকাল

পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ছয়আনিপাড়ার ছয়টি রাখাইন পরিবার। উভপক্ষের মধ্যে আপোষ-নিষ্পত্তির পর খারিজ করে দেওয়া হয়েছে বাদী আপত্তির আবেদনটি। 

এক্ষেত্রে জমির মালিক পক্ষের কাছ থেকে অনাপত্তি সনদ আনতে হবে রাখাইনদের। এই অনাপত্তি সনদপত্র জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখায় জমা দিলেই রাখাইনরা পাবেন তাদের অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭১ টাকা ৭৫ পয়সা। 

বাদী মো. সাদেকুর রহমান মৃধার আপত্তির আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার উম্মে হাবিবা মজুমদার এ আদেশ দেন। 

জেলা ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের ছয়আনীপাড়ার মধ্যে ৫ একর ৫৪ শতাংশ এবং পাড়ার বাইরের আরও ২ একর ৪৬ শতাংশ কৃষিজমি পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কাজের জন্য অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

ওই ছয়আনীপাড়ায় ৬টি রাখাইন পরিবার বসবাস করছে। তাদের অনুকূলে ভূমি অধিগ্রহণের রেকর্ডপত্র অনুসারে ঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামো, সৌর বিদ্যুৎ ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ মূল্য বাবদ ৯১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭১ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। রাখাইদের ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণের জন্য গত ৩১ মে নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু ওই এলাকার সাদিকুর রহমান গাজী নামের এক ব্যক্তি ওয়ারিশ হিসেবে ৫ একর ৫৪ শতাংশ জমি নিয়ে পটুয়াখালীর দ্বিতীয় সাবজজ আদালতে বণ্টন মামলা করেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় আবেদন করে রাখাইনদের অনুকূলে অর্থ ছাড় না করার জন্য আপত্তিপত্র দেন তিনি। এর ফলে আটকে যায় রাখাইনদের অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে শুনানির নির্ধারিত তারিখ ছিলো আজ (বৃহস্পতিবার)। 

এ ব্যাপারে বাদী পরিবারের মো. কাওসার গাজী বলেন, 'রাখাইনরা অনেক বছর ধরে আমাদের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করেছেন। তাদের নির্মিত ঘর ও গাছপালাসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ দিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। রাখাইনরা আমাদের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা তুলবে- এই শর্তে আমাদের উভয়ের মধ্যে বিষয়টি আপোষ-নিষ্পত্তি হয়েছে।'

ছয়আনীপাড়ার রাখাইন জনগোষ্ঠীর নেতা চিং দামো বলেন, 'বাদীর আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে। এখন আমাদের ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাঁধা নেই।'  

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জি.এম সরফরাজ জানান, উভয়ের মধ্যে আপোষ-নিষ্পত্তির পর বাদী মো. সাদেকুর রহমান মৃধার আপত্তির আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে। জমির মালিকপক্ষ থেকে অনাপত্তি সনদ নিয়ে এলেই রাখাইনরা তাদের অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com